অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে রাজস্থানকে দুরমুশ করে জয়! প্লে অফ কার্যত নিশ্চিত KKR-এর

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে রাজস্থানকে দুরমুশ করে জয়! প্লে অফ কার্যত নিশ্চিত KKR-এর / Image Source : Instagram @iplt20
অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে রাজস্থানকে দুরমুশ করে জয়! প্লে অফ কার্যত নিশ্চিত KKR-এর / Image Source : Instagram @iplt20

বৃহস্পতিবার লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বিপক্ষে রাজস্থান রয়্যালস। পরিস্থিতি এমন ছিল, প্লে অফের পৌঁছতে গেলে এদিন জিততেই হত নাইটদের। আর সেই করে দেখালেন তাঁরা। মাঠে জ্বলে উঠল কেকেআর। রাজস্থানকে দুরমুশ করে বড় জয় হাসিল করল শাহরুখের দল। ফলে প্লে অফের দরজাও কার্যত খুলে গেল।

এদিন দুবাইয়ের শারজা স্টেডিয়ামে টস জিতে নাইটদের প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান রাজস্থানের ক্যাপ্টেন সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু তাঁর সেই সিদ্ধান্ত ব্যাকফায়ার করে। কেকেআরকে দুরন্ত ওপেনিং পার্টনারশিপ এনে দেন দুই ওপেনার শুভমান গিল (৪৪ বলে ৫৬) ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার (৩৫ বলে ৩৮)। মিডল অর্ডারে অল্প হলেও ঝড় তোলেন নীতিশ রানা ও রাহুল ত্রিপাঠি। শেষ দিকে দুরন্ত ফিনিশ দীনেশ কার্তিক ও দলের ক্যাপ্টেন অইন মর্গ্যানের। তাঁদের দাপটে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান তুলে ফেলে কেকেআর। যা এই মরশুমের আইপিএলে শারজায় সর্বোচ্চ স্কোর।

জবাবে রান তাড়া করতে নেমে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে রাজস্থান। প্রথম ওভারেই রাজস্থানকে ঝটকা দেন শাকিব আল হাসান। এরপর লকি ফার্গুসন ও শিবম মাভির আগুনে বোলিংয়ে মাত্র ৩৫ রানের মধ্যেই ৭ উইকেট পড়ে যায় রাজস্থানের। আইপিএলের ইতিহাসে ৭ উইকেট পতনের ক্ষেত্রে যা সবচেয়ে কম স্কোর। রাজস্থানের একমাত্র শিবম দুবে ও রাহুল তেওয়াটিয়াই দুই অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেন। বাকিরা সবাই আসেন ও প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান তেওয়াটিয়া। তিনি ৩৬ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেললেও শেষ পর্যন্ত রাজস্থান অলআউট হয়ে যায় ৮৫ রানে। কলকাতা ম্যাচ জিতে নেয় ৮৬ রানের বিশাল ব্যবধানে।

এই বড় জয়ের পর কেকেআরের প্লে অফের টিকিট কার্যত নিশ্চিতই হয়ে গেল। ১৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট কেকেআরের। রান রেট +৫৮৭। যা অনেকটাই বেশি। আজ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স লিগের শেষ ম্যাচ খেলবে। মুম্বই হায়দ্রাবাদকে হারালে তাদের পয়েন্টও হবে ১৪। কিন্তু তাদের নেট রান রেট অনেকটাই কম (-০.০৪৮)। ফলে প্লে অফে যেতে গেলে মুম্বইকে কেকেআরকের রান রেট টপকাতে হবে। তা করতে গেলে অন্তত হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে অন্তত ১৭০+ রানে জিততে হবে রোহিতদের। আর মুম্বই রান তাড়া করলে প্লে অফের আশাও শেষ তাদের। তাই কলকাতা যে একপ্রকার প্লে অফে পৌঁছেই গেল, এ কথা বলাই যায়।

দু’বারের চ্যাম্পিয়ন (২০১২, ২০১৪) কেকেআর বিগত দুই মরশুমে লিগ পর্যায় থেকেই ছিটকে গিয়েছিল। দু’বারই পঞ্চম স্থানে আইপিএল সফর শেষ করে তারা। বৃহস্পতিবার রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে ২০১৮ সালের পর ফের একবার কার্যত প্লে-অফে নাইটরা। সমর্থকরাও ফের একবার ট্রফি জেতার স্বপ্নে বুঁদ।