পায়ে পায়ে ৩৬৫ দিন! বর্ষপূর্তিতে যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন জুড়ে চাঁদের হাট

পায়ে পায়ে ৩৬৫ দিন! বর্ষপূর্তিতে যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন জুড়ে চাঁদের হাট
পায়ে পায়ে ৩৬৫ দিন! বর্ষপূর্তিতে যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন জুড়ে চাঁদের হাট

করোনা মহামারির জেরে গত বছর লকডাউন শুরু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় গরীব, খেটে খাওয়া মানুষের উপার্জনের পথ। ঠিক তখনই যাদবপুরের সিপিএম নেতৃত্বের উদ্যোগে নিখরচায় একটি ক্যান্টিন শুরু করা হয়৷ এভাবেই পথ চলা শুরু যাদবপুরের শ্রমজীবী ক্যান্টিনের। গুটি গুটি পায়ে সেই ক্যান্টিনই আজ পা দিল এক বছরে। আর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে সেখানে বসেছিল এক চাঁদের হাট।

পায়ে পায়ে ৩৬৫ দিন! বর্ষপূর্তিতে যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন জুড়ে চাঁদের হাট
পায়ে পায়ে ৩৬৫ দিন! বর্ষপূর্তিতে যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন জুড়ে চাঁদের হাট

আজ, শনিবার, ক্যান্টিনের বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে একটি ছোট্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। লাল কাপড় দিয়ে প্যান্ডেল বেঁধে লাল চেয়ার টেবিলে বসে খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। সঙ্গে ছিল গান-বাজনার আয়োজনও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বহু নামী-দামী শিল্পী। যাদবপুরের প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী, কসবার প্রার্থী শতরূপ ঘোষ, টালিগঞ্জের প্রার্থী অভিনেতা দেবদূত ঘোষ থেকে শুরু করে সেখানে হাজির ছিলেন অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী, অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী, অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দন সেন৷ নিজেদের মতো করে বিশেষ বক্তব্যও রাখেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, শুরু হওয়ার পর থেকে এই ক্যান্টিনে প্রতিদিন গড়ে ৪৫০-৫০০ জনকে খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়। সাধারণত মেনুতে থাকে ভাত, ডাল, তরকারি ও ডিম। যার নূন্যতম মূল্য ২০ টাকা৷ যারা একান্তই তা দিতে পারবেন না, তাদের বিনামূল্যেও খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। শনিবার অবশ্য প্রায় ৬৫০ মানুষ খেয়েছে এই ক্যান্টিনে। আজ মেনুও ছিল অন্যদিনের তুলনায় আলাদা, চিকেন বিরিয়ানি। ক্যান্টিনের রান্না থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন যাদবপুরের ছাত্র ও যুব ফ্রন্টের ৭৫ কর্মী। এছাড়াও ক্যান্টিনকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছেন বহু সহৃদয় মানুষই।

পায়ে পায়ে ৩৬৫ দিন! বর্ষপূর্তিতে যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন জুড়ে চাঁদের হাট
পায়ে পায়ে ৩৬৫ দিন! বর্ষপূর্তিতে যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিন জুড়ে চাঁদের হাট

এই ক্যান্টিনের মূল লক্ষ্য আপাতত একটাই, স্থায়ী রূপ পাওয়া। এই প্রসঙ্গে কলকাতা জেলা কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, “প্রথমে বিজয়গড় এলাকায় ক্যান্টিন চালিয়ে গরীব মানুষদের পেটে ভাত দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু লকডাউনে সেই চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের বড় ক্যান্টিন করতে হয়। আজ এক বছরে পা দিয়ে আমাদের লক্ষ্য, এই ক্যান্টিনকে স্থায়ী রূপ দেওয়া। আগামী দিনে কোনও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি না হলে আমরা এই ক্যান্টিন স্থায়ীভাবে চালিয়ে যাব।”

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.