জাকির হোসেনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তদন্ত শুরু সিআইডি-র, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলও

জাকির হোসেনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তদন্ত শুরু সিআইডি-র, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলও
জাকির হোসেনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তদন্ত শুরু সিআইডি-র, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলও / ছবি সৌজন্যে- Screengrab from Facebook Video Posted By @mlamnisterjakir.hossain

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ বোমার আঘাতে গুরুতর জখম রাজ্যের শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। রাজ্যের মন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। বৃহস্পতিবার সকালে মুর্শিদাবাদের নিমতিতা স্টেশন চত্বর, যেখানে ঘটনাটি ঘটে, সেই স্থান পরিদর্শনে যায় সিআইডি’র প্রতিনিধি দল। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছে ফরেনসিকের বিশেষজ্ঞ দলও।

এদিকে বুধবার রাতেই কলকাতায় আনা হয়, বোমার আঘাতে গুরুতর জখম মন্ত্রীকে। বর্তমানে দুর্ঘটনায় জখম মন্ত্রী-সহ বেশ কয়েকজন এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, জাকির হোসেনের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। মন্ত্রীর পায়ে এবং হাতে গুরুতর আঘাত রয়েছে। বেলা দশটায় তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করা হবে বলে হসাপাতাল সূত্রের খবর। আহত বাকিদেরও চিকিৎসা চলছে।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে রাজ্যের মন্ত্রীর উপর এই ধরনের হামলায় উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। দল নির্বিশেষে প্রত্যেকেই এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন অধীর চৌধুরী, আবু তাহের থেকে কৈলাস বিজয়বর্গীয়। প্রত্যেকেই সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। রাজ্যপালও এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে নিমতিতা স্টেশনে এসে পৌঁছান সিআইডি’র আধিকারিকরা। তাঁরা স্টেশন চত্বর পরিদর্শন করেন। বিশেষ করে, স্টেশনের যে অংশে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, সেই অংশ তাঁরা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করেন। জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে এখনও বিস্ফোরণের বহু চিহ্নই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেই সবই পরীক্ষা করে দেখেন সিআইডি’র আধিকারিকরা। এই হামলার বিষয়ে সিআইডি’র আধিকারিকরা জঙ্গিপুর পুলিশের সঙ্গেও আলোচনা করছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে বিস্ফোরণের মাত্রা কতোটা ছিল তা পরীক্ষা করতে ঘটনাস্থলে গেছে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলও।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বুধবার রাতে কলকাতা যাচ্ছিলেন জাকির হোসেন। রাতে নিমতিতা স্টেশন থেকে তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস ধরার জন্য ২ নম্বর প্লাটফর্মে যাচ্ছিলেন তিনি। সঙ্গে দলীয় কর্মীরাও ছিলেন। তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হন মন্ত্রী-সহ কমপক্ষে ২৩ জন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় আহত এবং জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির কথায়, বুধবার রাতে নিমতিতা স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন দলীয় কিছু কর্মী। জাকির হোসেন তাঁর কারখানা থেকে নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশনে পৌঁছান। স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি ব্যাগ রাখা ছিল। সেই ব্যাগ সরাতে গিয়েই বিস্ফোরণ ঘটে।

জাকির ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, তাঁর মতো সৎ, পরিশ্রমী এবং ভালো মানুষের সঙ্গে এটা ঘটতে পারে, তা তাঁরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না। এদিকে এই ঘটনায় রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে তদন্ত শুরু করেছে রেলও। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের মন্ত্রীর উপর এই হামলার পর, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে সব মহল। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই হামলা, রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি ব্যবসায়িক শত্রুতা, সেই দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে তদন্তে।

আরো পড়ুনঃ   ভোটের দিন ঘোষণা হতেই, ঝাড়গ্রামে পড়ল মাওবাদী পোস্টার!