বাংলার মানুষ তৃণমূলকে হারানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে! ধনেখালির সভা থেকে দাবি জে পি নাড্ডার

বাংলার মানুষ তৃণমূলকে হারানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে! ধনেখালির সভা থেকে দাবি জে পি নাড্ডার
বাংলার মানুষ তৃণমূলকে হারানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে! ধনেখালির সভা থেকে দাবি জে পি নাড্ডার / ছবি সৌজন্যে- Screenshot from Twitter video Post By @JPNadda

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার ভোট হয়ে গেছে। ১ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। এবার নজর তৃতীয় দফার ভোটের দিকে। জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি।

৬ এপ্রিল রাজ্যে তৃতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তাই জোর প্রচার চলছে। আজ পরপর তিনটি জনসভা করেছেন মমতা। প্রথমে ছিল হুগলির গোঘাট বিধানসভার কামারপুকুরে নির্বাচনী সভা। এরপর সিঙ্গুরের রতনপুরে জনসভা করেন তৃণমূল নেত্রী। আর সবশেষে হাওড়ার পাঁচলায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি এদিন হুগলির ধনেখালি, পুরশুড়া ও হাওড়ার লিলুয়ায় নির্বাচনী প্রচার করেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। এর মধ্যে ধনেখালি ও লিলুয়ায় জনসভা এবং পুরশুড়ায় রোড শো করেন তিনি।

এদিন ধনেখালির সভা থেকে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি দাবি করেন যে, বাংলার মানুষ আর তৃণমূলকে চায় না। তৃণমূলকে হারাতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। প্রথম দফার ভোটেই তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। ধনেখালির সভায় তিনি বলেছেন যে, ‘প্রথম দফায় প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোট হয়েছে। বাংলায় দিদি আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিলেন। সেখানে ৭৯ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। তার অর্থ বাংলার মানুষের দৃঢ় সংকল্প যে, তৃণমূল হারছেই। বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ায় মমতা ঘাবড়ে গিয়েছেন।’

অন্যদিকে এই মুহূর্তে গোটা দেশের নজর নন্দীগ্রাম আসনের দিকে। এই আসনে দ্বিতীয় দফায় ভোট রয়েছে। এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির প্রার্থী একদা মমতা ঘনিষ্ঠ নেতা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই এই আসনকে ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা তো রয়েইছে।

এদিনের সভায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা পরিষ্কারভাবে বলেন যে, ‘আপনারা জেনে রাখুন নন্দীগ্রামে মমতাদি হারছেন। দিদির চ্যালেঞ্জ শুভেন্দু গ্রহণ করেছেন। নন্দীগ্রামের মানুষ স্পষ্ট করে দেবেন, বাংলায় তৃণমূল সাফ হয়ে গিয়েছে।’ এদিন তিনি জনতার সামনে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন যে, ‘মুখ্যমন্ত্রী হয়েও কেন নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে যেতে হল? শুভেন্দু তো নিজের কেন্দ্র ছেড়ে আপনার কেন্দ্রে আসেননি? শুভেন্দুকে আটকাতে আপনাকেই নন্দীগ্রাম যেতে হল, তাহলে বড় নেতা কে? মুখ্যমন্ত্রী যদি কারও আসনে লড়তে যান, তাহলে বড় নেতা কে হল? আপনার আসনে যদি মুখ্যমন্ত্রীকে লড়তে আসতে হয়, তাহলে বড় নেতা কে?’

এদিন ধনেখালির সভা থেকে আবারও মমতার বিরুদ্ধে তোষণের অভিযোগ তোলার চেষ্টা করেছেন জে পি নাড্ডা। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘আপনি মহরম পালন করুন, তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। রাম মন্দিরের শিলান্যাসের দিন বাংলায় কারফিউ কেন? অযোধ্যায় রাম মন্দির হওয়া উচিত কিনা? তাহলে বাংলায় কারফিউ কেন? দুর্গাপূজার বিসর্জনে বাধা দেওয়া হয় কেন?’

বিজেপি সভাপতির আরও দাবি, ‘এই নির্বাচনে উন্নয়নের নতুন কথা লেখা হবে। এই নির্বাচন বাংলায় আসল পরিবর্তন আনার নির্বাচন। এটা গরিবের মুখে হাসি ফোটানোর ভোট, এটা কৃষকদের সমৃদ্ধি আনার ভোট, যুবকদের আশা পূরণের ভোট, পরিবর্তনের ভোট, সোনার বাংলা গড়ার ভোট। ওরা মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে, এবার সময় এসেছে, আপনারাই ওদের উচিত শিক্ষা দিন, এবং ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠন করুন।’

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.