কসবা জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডে গ্রেফতার দেবাঞ্জনের খুড়তুতো ভাই-সহ এক স্বাস্থ্যকর্মী!

কসবা জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডে গ্রেফতার দেবাঞ্জনের খুড়তুতো ভাই-সহ এক স্বাস্থ্যকর্মী!
কসবা জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডে গ্রেফতার দেবাঞ্জনের খুড়তুতো ভাই-সহ এক স্বাস্থ্যকর্মী!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কসবা ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডে পুলিশের জাল যত ছড়ানো হচ্ছে, ততই একের পর এক গোপন তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। শহরের জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডে ভুয়ো IAS অফিসার দেবাঞ্জন দেবের গ্রেফতারির পর, এক এক করে বাকিদেরও হদিশ পাচ্ছেন এই কাণ্ডে তদন্তকারী অফিসাররা। এবার এই কাণ্ডে পুলিশের জালে আরও দুইজন। এবার গ্রেফতার করা হয়েছে দেবাঞ্জনের খুড়তুতো ভাই-সহ এক স্বাস্থ্যকর্মীকে!

জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে SIT গঠন করার পর এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হল। এর আগে স্থানীয় কাউন্সিলর-সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের ২ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতে হয়েছে। এঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই বেরিয়ে এসেছে এই জাল ভ্যাকসিন চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও একাধিক ব্যক্তির নাম। তার মধ্যেই দুজন হল, ধৃত দেবাঞ্জনের খুড়তুতো ভাই কাঞ্চন দেব এবং স্বাস্থ্যকর্মী শরৎ পাত্র।

সোমবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে জাল ভ্যাকসিন কাণ্ডের পাণ্ডা দেবাঞ্জনের খুড়তুতো ভাই কাঞ্চন দেব এবং স্বাস্থ্যকর্মী শরৎ পাত্রকে। পুলিশ জেরায় সামনে এসেছে যে, ধৃত স্বাস্থ্যকর্মী শরৎ পাত্রই কসবার ক্যাম্পে সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে জাল টিকা দিয়েছিলেন। জেরাও স্বাস্থ্যকর্মী শরৎ পাত্র আরও জানিয়েছেন যে, দেবাঞ্জনের কথা মতোই বিভিন্ন ক্যাম্পে ঘুরে তিনি শুধুই ইঞ্জেকশন দিতেন। এই দায়িত্ব ছিল তাঁর। কসবা ছাড়াও সোনারপুর এবং সিটি কলেজে ভুয়ো টিকা শিবিরে টিকা দিয়েছিলেন তিনি। দেবাঞ্জনের কুকীর্তির কথাও শরৎ জানতেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।

আর দেবাঞ্জনের অপকর্মের ভাগীদার ছিলেন কাঞ্চন দেব। কাঞ্চনই একমাত্র ব্যক্তি যিনি প্রথম থেকেই জানতেন যে, দেবাঞ্জন কোনও IAS অফিসার নন। দেবাঞ্জনের মতো কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক আধিকারিকের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে কাজ চালিয়েছিলেন তিনি। যদিও তাঁর দাবি, এত বড় জালিয়াতির কথা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। জানা গিয়েছে যে, মঙ্গলবার এদের আদালতে তোলা হবে। এদিকে এই মামলায় এবার কলকাতা পুলিশের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেবাঞ্জনের জালিয়াতির বহর দেখে, হতবাক অনেক পুলিশকর্তাই। পরিবার, বন্ধু থেকে শুরু করে একাধিক প্রভাবশালী নেতাদের সে যেভাবে প্রতারণার জালে জড়িয়েছিল, তা যে পাকা মাথার কাজ ছাড়া সম্ভব নয়, সে বিষয়ে আর কোনও সন্দেহই নেই। তদন্তে জানা গিয়েছে যে, একটি নির্বাচনও আয়োজন করেছিল দেবাঞ্জন। যেখানে ভোট দেন তার কর্মীরা। এরপর নিজেকে West Bengal Employees Federation-এর নির্বাচনে জয়ী বলে ঘোষণা করে দেবাঞ্জন। এইসব তথ্য চমকে দিয়েছে তদন্তকারী অফিসারদের। দেবাঞ্জনের মিথ্যের জাল যে আরও কত গভীর পর্যন্ত ছড়ানো, তা ভেবেই কূলকিনারা করতে পারছেন না তদন্তকারীরা।