আক্ষরিক অর্থেই তিনি যেকোনো ভূমিকায় অত্যন্ত সাবলীল, জন্মদিনে খরাজ মুখোপাধ্যায়

আক্ষরিক অর্থেই তিনি যেকোনো ভূমিকায় অত্যন্ত সাবলীল, জন্মদিনে খরাজ মুখোপাধ্যায়
আক্ষরিক অর্থেই তিনি যেকোনো ভূমিকায় অত্যন্ত সাবলীল, জন্মদিনে খরাজ মুখোপাধ্যায়

বংনিউজ ২৪x৭ বিনোদন ডেস্কঃ তিনি একাধারে অভিনেতা, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, মিমিক্রি শিল্পী আবার অসাধারণ রাঁধুনিও বটে। যে কোনও ভূমিকায় সমান সাবলীল, তিনি আর কেউ নন খরাজ মুখোপাধ্যায়। আজ টলিউডের এই অভিনেতার জন্মদিন। আক্ষরিক অর্থে খরাজ মুখোপাধ্যায় এমন একজন অভিনেতা, যিনি যেকোনো চলচ্চিত্রে, যেকোনো চরিত্রে সমান পারদর্শিতার সঙ্গে লড়ে যেতে পারেন। শুধু লড়ে যেতে পারেন বলা ভুল, যেকোনো চরিত্রে তাঁর অভিনয় দক্ষতা দর্শককে মুগ্ধ করবেই।

এই মানুষটিই আবার মনেপ্রাণে, শয়নে-স্বপনে-জাগরণে, দৈনন্দিন জীবনে এবং মন থেকে আদ্যন্ত বাঙালি। যার গানের লাইন বাঙালির মুখে মুখে ফেরে। মনে পড়ে সেই গান? ‘হায় বাঙালি হায়! তুই আর বাঙালি নাই।’

খরাজ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৬৩ সালের ৭ জুলাই। ১৯৮০ সালে ‘হুলস্থুল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। এই ছবিতে তাঁর পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ১৮০ টাকা। তারপর দীর্ঘদিন তিনি কাজ পাননি। পরিচালক স্বপন সাহা তাঁকে মুখের ওপর না বলেছিলেন, যখন তিনি তাঁর কাছে কাজ চাইতে গিয়েছিলেন। তাও হাল ছাড়েননি। তাঁর মনে আরও জেদ চেপে গেল। তিনি প্রতিদিন স্বপনবাবুর অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। অবশেষে হার মানলেন স্বপন সাহা। একসময় স্বপন সাহার একটি নয়, ৭ টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন খরাজ মুখোপাধ্যায়।

বিগত বত্রিশ বছরে তিনি পাতালঘর, বাই বাই ব্যাংকক, কাহানী, নেমসেক, এক্সিডেন্ট, মুক্তোধারা, স্পেশাল ২৬, জাতিস্মর সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি নাট্যশিক্ষক রামপ্রসাদ বণিকের ছাত্র ছিলেন। বাণিজ্যিক এবং স্বাভাবিক অভিনয়ে তিনি দক্ষতা অর্জন করেছেন।। ২০১২ সালের কাহানী চলচ্চিত্রে তিনি ইনস্পেকটর চ্যাটার্জী চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়াও বলিউডের অভিনয় করেছেন স্পেশ্যাল ২৬ চলচ্চিত্রে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০-র বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন খরাজ। তবে, ‘পাতালঘর’ চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় ছিল খরাজের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।

উল্লেখ্য, মাত্র ১৬ বছর বয়স থেকেই থিয়েটারে অভিনয় করা শুরু করেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। চাকরি পেয়েছিলেন রেলে। চাকরির পাশাপাশি চলছিল অভিনয়। কিন্তু একসময় রেলের লোভনীয়, সুখের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন অভিনয়ের প্রতি প্রেমের কারণে।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে তুলসী চক্রবর্তী এবং রবি ঘোষকে আদর্শ হিসেবে মানেন খরাজ। তাঁকে মূলত দেখা যায় হাস্যরসাত্মক চরিত্রে। একটি সাক্ষাৎকারে অভিনেতা খরাজ জানিয়েছিলেন যে, ‘প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা রবি ঘোষ আমাকে বলেছিলেন, জীবনে কখনও আফশোস করবি না। আফশোস করা মানে পিছিয়ে পড়া।’ এই কথাই তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস ও অনুসরণ করেন। অভিনয় হোক বা গান, মাস্তানের ভূমিকা হোক বা মিমিক্রি- খরাজ যা-ই করেন, সেটাই মানুষের মনে থেকে যায়। তা না হলে, পাতালঘরের সুবুদ্ধি রায় বা ভূতের ভবিষ্যতের প্রমোদ প্রধানকে আমরা মনে রেখে দিতাম না।

আবার অভিনয়ের বাইরে খরাজ এমন একজন মানুষ, যিনি রান্নায় সিদ্ধহস্ত। খেতেও খুব ভালবাসেন। একটা প্রবাদ আছে না, ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’, খরাজের ক্ষেত্রে সেই প্রবাদ সুপ্রযোজ্য। প্রথমবার তিনি যখন জামাইষষ্ঠীতে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন, শাশুড়িকে নাকি রান্নাই করতে দেননি। প্রথম প্রেম যদি হয় তাঁর অভিনয়, তবে দ্বিতীয়টি অবশ্যই রান্না। গায়কীর ক্ষেত্রেও তিনি অভিনয় এবং রান্নার মতোই সমান সাবলীল ও দক্ষ।

এহেন গুণী মানুষটির আজ জন্মদিন। এক হাসিখুশি, ভরপুর প্রাণশক্তি আর অদম্য লড়াইয়ের আজ জন্মদিন। শুভ জন্মদিন খরাজ মুখোপাধ্যায়।