সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘বাদাম গান’! কে বানিয়েছেন এই গান? চিনুন বাংলার সেই স্রষ্টাকে

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল 'বাদাম গান'! কে বানিয়েছেন এই গান? চিনুন বাংলার সেই স্রষ্টাকে
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল 'বাদাম গান'! কে বানিয়েছেন এই গান? চিনুন বাংলার সেই স্রষ্টাকে

“বাদাম বাদাম দাদা কাঁচা বাদাম, আমার কাছে নাই গো বুবু ভাজা বাদাম…”! বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভাইরাল এই গান। আট থেকে আশি, প্রত্যেকেই মজে এই গানের সুরে। রাজ্য বা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ইতিমধ্যেই সারা বিশ্বের কয়েক মিলিয়ন মানুষ শুনেছেন এই ‘বাদাম গান’ শুনেছেন। শুধু তাই নয়, বেরিয়েছে এই গানের রিমিক্সও।

কিন্তু এই জনপ্রিয় গান যিনি বানিয়েছেন সেই স্রষ্টাকে কি কেউ চেনেন? তিনি হলেন গ্রাম বাংলার এক বাদাম বিক্রেতা, ভুবন বাদ্যকর। বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের অন্তর্গত লক্ষ্মীনারায়ণপুর পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রাম কুড়ালজুড়ির গ্রামের বাসিন্দা তিনি। পেটের দায়ে কাঁচা বাদামের বস্তা পিছনে চাপিয়ে তিনি ঘুরে বেড়ান এই গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। আগে সাইকেলে চেপে বাদাম বিক্রি করতে বেরোলেও এখন পুরনো একটা মোটর সাইকেল কিনেছেন তিনি। তাতে চেপেই বাদাম বিক্রি করতে বের হন গ্রামের পথে। আর কাঁচা বাদাম বিক্রি করতে গিয়েই গান বেঁধেছেন বাংলার এই বিক্রেতা।

ভুবন বাদ্যকরের গানের টানেই ছুটে আসছেন মানুষ। কিনছেন বাদাম। কেউ কেউ আবার মোবাইলে তুলে রাখছেন তাঁর ভিডিও। ঠিক সেরকম ভাবেই ভাইরাল হয়ে যান তিনি। আর এরপরই লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে সেই গান। ফেসবুক, ইউটিউব, রিলস খুললেই বেজে উঠছে গানটি। নিজের লেখা, সুর দেওয়া ও গাওয়া ‘বাদাম গান’-এর প্রশংসা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়তে স্বাভাবিকভাবেই বেশ খুশি ভুবন বাদ্যকর। তাঁর কথায়, “মোবাইলে আমার গান সবাই দেখছে। দেখা হলেই সবাই এসে আমার গানের প্রশংসা করছে। ভালোই লাগছে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল 'বাদাম গান'! কে বানিয়েছেন এই গান? চিনুন বাংলার সেই স্রষ্টাকে
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘বাদাম গান’! কে বানিয়েছেন এই গান? চিনুন বাংলার সেই স্রষ্টাকে

কিন্তু কীভাবে গানের সৃষ্টি? এই প্রসঙ্গে ভুবন বাদ্যকর জানালেন, “এই গান আমিই লিখেছি, আমারই তৈরি। আমারই সুর, আমারই গলা। চিন্তাভাবনা করতে করতেই করেছি। এর আগে বাউল গান করেছি। এখন আমি ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাদাম ফেরি করি। সেই বাদাম কী করে বিক্রি করা যায়, সেই থেকেই ভাবনাচিন্তা শুরু। তারপরই গান লেখা।” তিনি আরও বলেন, “এই গান শুনে বহু মানুষই বাদাম কিনতে আসছেন। কেউ ৫ টাকার বাদাম কিনছেন, কেউ ১০ টাকার। বিক্রিবাটা ভালোই চলছে।”

জনপ্রিয় এই গানের কারণে সোশ্যাল মিডিয়া এবং নিজের স্থানীয় এলাকায় ইতিমধ্যেই সেলিব্রিটি হয়ে উঠেছেন বাংলার এই বাদাম বিক্রেতা। তিনি যে গ্রামেই বাদাম বিক্রি করতে যাচ্ছেন, সেখানেই তাঁকে দেখতে ভিড় করে আসছেন সাধারণ মানুষ। তাঁর বাড়িতেও সারাক্ষণ চলছে লোকজনের আনাগোনা। বাদাম বিক্রি করে প্রতিদিন ২০০-২৫০ টাকা উপার্জন হয় হয় ভুবন বাদ্যকরের। অবশ্য শুধু টাকা দিয়ে নয়, পুরনো সিটি গোল্ডের চেন, চুড়ি, হাতের বালা, মোবাইল ভাঙা, হাঁসের পালক, মাথার চুলের বিনিময়েও বাদাম কেনা যায় তাঁর কাছ থেকে। উপরি পাওনা হিসেবে পাওয়া যাবে তাঁর গানও।