দেশের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক, দাপুটে সেনানী! বিপিন রাওয়াতের প্রয়াণে ফিরে দেখা তাঁর যাত্রা

দেশের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক, দাপুটে সেনানী! বিপিন রাওয়াতের প্রয়াণে ফিরে দেখা তাঁর যাত্রা
দেশের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক, দাপুটে সেনানী! বিপিন রাওয়াতের প্রয়াণে ফিরে দেখা তাঁর যাত্রা

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ মোদী জামানায় নিযুক্ত প্রথম সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। স্বাধীন ভারতের সামরিক ইতিহাসে সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখার সর্বাধিনায়ক হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন বিপিন লক্ষণ সিং রাওয়াত। এহেন এক সামরিক পণ্ডিতের আজ মৃত্যু হল কপ্টার দুর্ঘটনায়। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।

আজই তামিলনাড়ুর কুন্নুরে নীলগিরি জঙ্গলে আচমকাই ভেঙে পড়ে সেনার হেলিকপ্টার। উইং কমান্ডার পৃথ্বী সিং চৌহান Mi-17v5 এর পাইলট ছিলেন যা সিডিএস জেনারেল বিপিন রাওয়াত সহ ১৪ জন কর্মী-সহ ভেঙে পড়েছিল। পৃথ্বী সিং চৌহান ১০৯ হেলিকপ্টার ইউনিটের কমান্ডিং অফিসার। মৃত্যু হয়েছে বিপিন রাওয়াতের স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াতেরও।

১৯৫৮ সালের ১৬ মার্চ উত্তরাখণ্ডের পৌড়ীর এক গঢ়ওয়ালি রাজপুত পরিবারের জন্ম বিপিনের। তাঁর  সেনাবাহিনীতে যোগদান অবশ্যম্ভাবী ছিল। কারণ বংশপরম্পরায় ভারতীয় সেনাকে সমৃদ্ধ করেছে রাওয়াত পরিবার। বাবা লক্ষ্মণ সিংহ রাওয়াত ছিলেন ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল। বিপিন রাওয়াতের বাবা লেফটান্যান্ট জেনারেল লক্ষ্মণ সিং রাওয়াত ডেপুটি সেনা প্রধান পদে থেকে অবসর নিয়েছেন। তাঁর ঠাকুরদাও ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্য। প্রয়াত দেশের প্রথম সিডিএস বা প্রতিরক্ষা প্রধান হওয়ার আগে তিনি ছিলেন ভারতের ২৭ তম সেনা প্রধান।

ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি থেকে বেরবার পর ১৯৭৮ সালে ১১ গোর্খা রেজিমেন্টে যোগ দেন বিপিন রাওয়াত। উল্লেখ্য সেই সময় এই রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার ছিলেন লক্ষ্মণ সিং রাওয়াত।

লৌহকঠিন মানসিকতা এবং স্পষ্টবক্তা বিপিন রাওয়াত তাঁর ৪ দশকের সামরিক কেরিয়ারে সামরিক অফিসার হিসেবে একাধিক সাফল্য পেয়েছেন। দেশের তিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হওয়া তাঁর সেই সাফল্যে তালিকায় শেষ পালক ছিল। এর আগে ২০১৬-২০১৯ পর্যন্ত দেশের সেনা প্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর আমলেই ঢেলে সাজানো হয়েছিল দেশের পদাতিক বাহিনীকে। যার ফলে আরও দক্ষ হয়ে উঠেছিল ভারতীয় সেনা।

দীর্ঘ কর্মজীবনের বড় অংশ জম্মু ও কাশ্মীরে কাটিয়েছেন বিপিন রাওয়ত। সোপোরে সন্ত্রাসদমন অভিযান থেকে রজৌরির নিয়ন্ত্রণরেখায় পাক হামলা প্রতিরোধে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে। পেয়েছেন উত্তম যুদ্ধ সেবা মেডেল, পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল-সহ একাধিক সেনা-সম্মাননা। আবার আফ্রিকার কঙ্গোয় রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিসেনার একটি ব্রিগেডের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। মেজর জেনারেল হিসেবে ১৮ নম্বর পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্বও দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন।

শিমলার সেন্ট এডওয়ার্ড স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি যান পুণেয়। খড়কভাসলার ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে। এরপর দেহরাদূনে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষ করে সেনাতে যোগ দেওয়া রাওয়াত চেয়েছিলেন, দেশ-বিশ্বের সামরিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে হাতের তালুর মতো চিনতে। তাই একাধিক সামরিক স্কুল এবং কলেজের পড়ুয়া হয়েছিলেন এই সেনাকর্তা। ৪১ বছরের সামরিক জীবনে বিপিন রাওয়াত ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের এলএসি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটেলিয়ন, ওয়েস্টার্ন কমান্ড, কাশ্মীর ডিভিশনের রাষ্ট্রীয় রাইফেল, নর্থ-ইস্ট কর্পসের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন। সেনা প্রধান হওয়ার আগে ভাইস আর্মি চিফ পদেও দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই দেশের প্রতিরক্ষা বিভাগ হারাল দক্ষ অভিভাবক এবং সামরিক পণ্ডিতকে। সেই সঙ্গে দেশ হারাল প্রথম সিডিএস বা চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফকে।