নিয়তির খেলা! মেয়ের মৃত্যুদিনেই দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আহিরীটোলার গৃহবধূ

নিয়তির খেলা! মেয়ের মৃত্যুদিনেই দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আহিরীটোলার গৃহবধূ
নিয়তির খেলা! মেয়ের মৃত্যুদিনেই দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আহিরীটোলার গৃহবধূ

নিয়তির এ কী খেলা! কোল ভরানোর পাশাপাশি সে কেড়ে নিল আরেকটি প্রাণও। প্রথম সন্তানের মৃত্যুদিনেই জন্ম নিল দ্বিতীয় সন্তান। আর মুহূর্তের মধ্যে সেই আনন্দ বদলে গেল অবসাদে৷ প্রথম সন্তানকে হারিয়ে সদ্যোজাতকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা। অথচ এমনটা যে ঘটবে, তা কিছুক্ষণ আগেও টের পাননি কেউই।

কলকাতার আহিরীটোলার বাসিন্দা সুশান্ত ঘড়ুই৷ তাঁর স্ত্রী গঙ্গা ঘড়ুই দ্বিতীয় বারের জন্য গর্ভবতী ছিলেন। দু’জনের প্রথম সন্তান বছর তিনেকের এক কন্যা। সুশান্ত-গঙ্গা তিল তিল করে স্বপ্ন দেখছিলেন, আর তো মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। তার পরেই তাদের তিন বছরের কন্যা বড় দিদি হয়ে উঠবে। কিন্তু গতকালের অতিবৃষ্টি সে স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল। গতকাল বৃষ্টি ভেজা রাতে সবাই একসঙ্গে ঘুমাচ্ছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে ভোর নাগাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তাদের বাড়ি। সেই বাড়ির ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ে যান বাড়ির সকলে।

এরপর বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সাহায্যে বাড়ির বাইরে বেরোতে সক্ষম হন সুশান্ত ও গঙ্গা ঘড়ুই। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই তাঁদের তিন বছরের শিশুকন্যা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। শত চেষ্টাতেও তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিকে গঙ্গা ঘড়ুই তখন সন্তানসম্ভবা। এমন অবস্থায় গর্ভবতী গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হলেও তিনি সন্তান উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত যেতে রাজি হননি। সন্তানকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করেই তিনি যাবেন এমন মরিয়া জেদ ধরেছিলেন। অবশেষে জোর করেই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে চাপানো হয়। নিয়ে যাওয়া হয় আরজিকর হাসপাতালে। মায়ের মন তখন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে দুশ্চিন্তা।

এদিকে তখনও খুদে শিশু কন্যাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। প্রায় সাত ঘণ্টা পর অবশেষে উদ্ধার করা হয় খুদেটিকে। সন্তান উদ্ধারের খবরটি লেবার রুমে প্রবেশ করার আগেই জানানো হয় গৃহবধূটিকে। কিন্তু শিশু কন্যাটিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তার প্রাণ বাঁচানো যায়নি। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর আসে দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এই গৃহবধূ।

ততক্ষণে নিজের বড় মেয়েকে হারানোর খবর গঙ্গার কানে গিয়ে পৌঁছেছে। সদ্যোজাতকে বুকে জড়িয়ে আনন্দ করবেন নাকি প্রথম সন্তানের মৃত্যুতে বুক ফাটা কান্নায় ভেঙে পড়বেন, সে বোধও ততক্ষণে হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। আনন্দ-দুঃখের অনুভূতি হারিয়ে গঙ্গা এখন বাকরুদ্ধ। একই অবস্থা স্বামী সুশান্তেরও। এক সন্তানের মৃত্যুদিনেই আরেক সন্তানের বাবা হওয়ার খবর পেতেই চোখের জলে বুক ভাসিয়েছেন তিনিও।