‘বাবুল পলিট্রিক্যাল ট্যুরিস্ট, থেকেও লাভ হয়নি, গিয়েও ক্ষতি হয়নি’, বাবুলের দলছাড়ায় কটাক্ষ দিলীপের

‘বাবুল পলিট্রিক্যাল ট্যুরিস্ট, থেকেও লাভ হয়নি, গিয়েও ক্ষতি হয়নি’, বাবুলের দলছাড়ায় কটাক্ষ দিলীপের
‘বাবুল পলিট্রিক্যাল ট্যুরিস্ট, থেকেও লাভ হয়নি, গিয়েও ক্ষতি হয়নি’, বাবুলের দলছাড়ায় কটাক্ষ দিলীপের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কোনও আগাম পূর্বাভাস ছাড়াই দল ছেড়েছেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। গতকালই তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর দলছাড়া প্রসঙ্গে একে একে মুখ খুলেছেন রাজ্য বিজেপির নেতারা। বাকি ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

অবশেষে এদিন তিনি মুখ খুললেন। বাবুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কোনদিনও তেমন ভাল ছিল না বা বলা ভাল অম্লমধুর সম্পর্ক ছিল এই দু’জনের। এবার বাবুলের দলছাড়া প্রসঙ্গে মুখ খুলে, বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। সদ্য দলত্যাগী বাবুল সুপ্রিয়কে তিনি ‘পলিটিক্যাল ট্যুরিস্ট’ বলে কটাক্ষ করলেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি মনে করেন, বাবুলের দলে থাকায় যেমন বিশেষ কোনও লাভ হয়নি, তেমনই না থাকায়, দলের কোনও ক্ষতিও হবে না। এদিন তিনি বলেন, ‘বাবুল পলিটিক্যাল ট্যুরিস্ট, আসবে যাবে। দলে থেকেও লাভ হয়নি, গিয়েও ক্ষতি হবে না।’

এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন যে, বাবুল সুপ্রিয়র বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়াকে বড় করে দেখতে নারাজ তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘উনি স্টার। দলের হননি কখনও। বন্ধু মানুষ। আগেও বলতাম উনি রাজনৈতিক ব্যক্তি নন। তিনি যা করতেন আবেগে করতেন। যেখানে গিয়েছেন ভালভাবে রাজনীতি করুক। শিল্পী মানুষ।’ এই প্রসঙ্গে এদিন দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘যাঁরা যেতে চান, তাঁরা যেতে পারেন। তাতে দলের ক্ষতি হবে না। তৃণমূল থেকেও বিজেপিতে ভোটের আগে অনেকেই এসেছিলেন। তাতে তৃণমূলের ক্ষতি হয়নি। আমাদের হবেও না।’

তবে বাবুলের দলছাড়া প্রসঙ্গে তিনি এও বলেন যে, ‘ওঁ আবেগে চলেন। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতারা এই ভাবে দল পাল্টালে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। বিজেপি লক্ষ লক্ষ মানুষের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। দল দলের মতই চলবে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর বিজেপিতে থাকলেও সংগঠনের সঙ্গে বাবুলের সম্পর্ক কখনই তেমন মজবুত হয়নি। মন্ত্রিত্ব হারানোর পর যে বিষয়টি আরও বিপক্ষে যায় আসানসোলের সাংসদের। এমনও শোনা যায় যে, বঙ্গ বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর ভূমিকায় খুব একটা সন্তুষ্ট ছিলেন না। যে কারণে মন্ত্রিত্ব হারানো বাবুলকে সংগঠনের কোনও কাজেও দেখা যায়নি। এর জেরে দলে ক্রমশই কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন এই গায়ক-সাংসদ।

মন্ত্রিত্ব হারানোর পর তিনি নিজে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, তার বহিঃপ্রকাশ সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকবারই দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল এবং মুকুল রায়ের টুইটার অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করা নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। তখনও তাঁর তৃণমূলের যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। তবে, বাবুল এটাও দাবি করেছিলেন যে, তিনি কখনই বিজেপি ছাড়া অন্য কোনও দলকে সমর্থন করবেন না। কিন্তু সেসব এখন অতীত। আপাতত পদ্ম শিবির ছেড়ে ঘাসফুল শিবিরে নতুন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চাইছেন তিনি।