আবারও নিম্নচাপের ভ্রূকুটি! শীত আসতে গিয়েও বাধার সম্মুখীন হচ্ছে

আবারও নিম্নচাপের ভ্রূকুটি! শীত আসতে গিয়েও বাধার সম্মুখীন হচ্ছে
আবারও নিম্নচাপের ভ্রূকুটি! শীত আসতে গিয়েও বাধার সম্মুখীন হচ্ছে / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফের বাড়ল তাপমাত্রার পারদ। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭.২ থেকে বেড়ে মঙ্গলবার দাঁড়াল ১৮.৩ ডিগ্রিতে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েকদিন রাতের তাওমাত্রাও বাড়বে বলেই জানা গিয়েছে। এর সঙ্গে দিনের তাপমাত্রারও এই মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন হবে না। এর ফলে শীত আসতে গিয়েও যেন বাঁধা পাচ্ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের এর কারণ আন্দামান সাগর থেকে শক্তি বাড়িয়ে বঙ্গোপসাগরে ঢুকে পড়া নিম্নচাপ।

গত বৃহষ্পতিবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গে আকাশ আংশিক মেঘলা ছিল। শুক্র ও শনিবারের পর উপকূলের জেলায় মাঝারি বৃষ্টিও হয়। ফলে দক্ষিণবঙ্গে ধীরে ধীরে শীত শীত ভাব কমতে থাকে। রাজ্যে পড়তে শুরু হয়েছিল শীত। ধীরে ধীরে বেরচ্ছিল শীতের পোশাক। কিন্তু, আবারও নিম্নচাপের জেরে ফের বঙ্গে শীত ধাক্কা খেল। আবার কবে শীতের দেখা মিলবে, তার জন্য এখন, অপেক্ষায় বঙ্গবাসী।

সকালের দিকে হালকা শীতের আমেজ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীত শীত ভাব উধাও হয়ে যাচ্ছে। বরং বেশ গরম লাগছে। কলকাতার মতো একই অবস্থা দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলায়। রাতের দিকে কিছুটা তাপমাত্রা কমলেও, উল্লেখযোগ্য পারদ পতন হচ্ছে না রাজ্যে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও সেভাবে শীতের প্রভাব এখনও দেখা যায়নি।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে জানা গিয়েছে, সোমবার থেকে নিম্নচাপ অক্ষরেখাটি ক্রমশ শক্তি বাড়তে পারে। এরপর পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় তা আরও শক্তিশালী হয়ে পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিম দিকে এগোতে থাকবে। এই নিম্নচাপের জেরে আগামী ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলার জেলাগুলির উপর কতোটা প্রভাব পড়বে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি হাওয়া অফিস। যদিও অক্টোবর নভেম্বরে বঙ্গোপাগরের উপর ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক বলেই মনে করেন আবহাওয়াবিদেরা।

যদিও এ বছর নভেম্বর শেষ হতে চললেও তেমন কোনও সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। সেপ্টেম্বরের শেষে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছিল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। ডিসেম্বরেও সেই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে বঙ্গবাসী। যদিও এই ঘূর্ণাবর্তের জেরে বানভাসী অবস্থা হবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে উপকূলবর্তী এলাকায়। দক্ষিণ আন্দামান সাগরে প্রতিঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ঝড়ো হাওয়া বইছে। মঙ্গলবার আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে এবং বুধবার পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান সাগরে ঝড়-ঝঞ্ঝার পূর্বাভাস রয়েছে।