৯ ঘণ্টা পরেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি বড়বাজারের গুদামের আগুন! ফোনে পরিস্থিতির খোঁজ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

৯ ঘণ্টা পরেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি বড়বাজারের গুদামের আগুন! ফোনে পরিস্থিতির খোঁজ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী
৯ ঘণ্টা পরেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি বড়বাজারের গুদামের আগুন! ফোনে পরিস্থিতির খোঁজ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ সপ্তাহের প্রথম দিনেই ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। সোমবার সকাল ১১ টা নাগাদ বড়বাজার লাগোয়া কলুটোলা স্ট্রিটের এক চারতলা বাড়ির দোতলায় আগুন লাগে। এলাকা ঘিঞ্জি হওয়ায়, দ্রুত আগুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যেই ৯ ঘণ্টা সময় অতিক্রান্ত হলেও, এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি বড়বাজারের ওই বাড়ির আগুন।

গুদামের আগুন নেভাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন দমকলের কর্মীরা। আগুন নেভাতে গিয়ে এক দমকল কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও হাত লাগিয়েছেন আগুন নেভানোর কাজে। কখন যে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে, তাও এখনও বলা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই দমকল মন্ত্রীকে ফোন করে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী, আগুন চারতলা পর্যন্ত ছড়িয়েছে আগুন। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ৩০টি ইঞ্জিন। তিনতলা পর্যন্ত জল দেওয়া সম্ভব হলেও, চারতলায় জল দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে, দমকল কর্মীদের বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে সমস্যা হচ্ছে।

যে বহুতলটিতে আগুন লেগেছে, তার তিনতলায় থাকত বেশ কয়েকটি পরিবার। জানা গিয়েছে, আগুনের আঁচ পাওয়ার পরই তাঁরা ঘর ছাড়েন। ফলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এখন আগুন কখন নিয়ন্ত্রণে আসবে, এটাই এখন ভাবছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের চিন্তা। এদিন ঘটনার খবর পেয়েই, সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু ঘটনাস্থলে এলে তাকে ঘিরে বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। তিনি গোটা বিষয়টির তদারকি করেন। সূত্রের খবর, তিনি নিজেই আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগাতে যান। আর প্রবল ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আগুনের খবর পাওয়ামাত্রই সুজিত বসুকে ফোন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। খোঁজ নিয়েছেন পরিস্থিতির।

দমকল কর্মীদের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে যে, গোটা বাড়িটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এর সঙ্গে এলাকা ঘিঞ্জি হওয়ায় আগুন আয়ত্তে আনতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়িটিতে প্রচুর পরিমাণে মজুত ছিল দাহ্য পদার্থ। তাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরই বোঝা যাবে কী থেকে এই অগ্নিকাণ্ড।

এদিকে, আগুন ছড়িয়ে পড়ার জেরে আতঙ্কিত এলাকাবাসী, একই সঙ্গে ক্ষুব্ধও। তাঁদের অভিযোগ, দমকল দেরিতে এসেছে এবং এরই ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এই বাড়িটির বয়েস ২০০ বছরেরও বেশি। মোল্লা আব্দুল আলী নামে এক ব্যাক্তির মালিকানাধীন ছিল এই বাড়িটি। বর্তমানে এটি ‘ওয়াকাফ স্টেট’ এর অধীনে। প্রায় ৬০টি ঘর এবং প্রায় ১০০টি দোকান রয়েছে এই বাড়িতে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা তাদের গোডাউনে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।