মানবিকতার নজির! কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল ৯ মাসের একরত্তি শিশু!
মানবিকতার নজির! কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচল ৯ মাসের একরত্তি শিশু!

‘পাশে আছি সাধ্যমতো’- কলকাতা পুলিশের চালু করা এই উদ্যোগে ইতিমধ্যেই তিলোত্তমা দেখেছিল মানবিকতার নানা নজির। রাস্তায় বিকল হয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সকে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছনোই হোক বা রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়া সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচানো, সব ক্ষেত্রেই সাধ্যমতো এগিয়ে এসেছিল কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। সম্প্রতি ফের আরেক দৃষ্টান্ত গড়ে তুললেন তাঁরা। ‘গ্রিন করিডোর’-এর মাধ্যমে রাঁচির এক ৯ মাসের একরত্তি শিশু কন্যার জীবন ফিরিয়ে দিলেন শহরের ট্রাফিক পুলিশ বাহিনী।

সম্প্রতি ফেসবুকে নিজেদের অফিসিয়াল পেজ থেকে এই মর্মে একটি ভিডিও শেয়ার করে কলকাতা পুলিশ। তা থেকেই জানা গিয়েছে, গত শনিবার সকাল সাড়ে এগারােটা নাগাদ কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক কনট্রোল রুমে রাঁচির জনৈক চিকিৎসক ফোন করে জানান, ৯ মাসের শিশুকন্যাটির ছােট্ট হৃদযন্ত্র প্রায় বিকল। শরীরে অক্সিজেন ধারণের ক্ষমতা মাত্র ৫০ শতাংশ, ভেন্টিলেটরে রাখলে ৭০ শতাংশ। এই অবস্থায় দ্রুত অস্ত্রোপচার ছাড়া তাঁর প্রাণ কোনও মতেই বাঁচানাে সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে রাঁচি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে ওই শিশুকে৷ তাঁকে যত দ্রুত সম্ভব তাকে হাওড়ার নারায়ণ হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

খবর পেয়েই তৎক্ষনাৎ পথে নেমে পড়েন শহরের ট্রাফিক পুলিশ বাহিনী। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হাওড়া পর্যন্ত ‘গ্রিন করিডাের’-এর ব্যবস্থাও করা হয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে চড়েই পরিবার সমেত শিশুটি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ব্যস্ত রাস্তার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ভূমিকা নেন ট্রাফিক পুলিশের দল। উল্টোডাঙা থেকে বিদ্যাসাগর সেতুর টোল প্লাজা অবধি ১৭ কিমি রাস্তা পার করতে সময় লাগে মাত্র ১৮ মিনিট। যার ফলে খুব দ্রুত টোল প্লাজায় পৌঁছে যায় অ্যাম্বুল্যান্স। এরপর কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ এবং হাওড়া ট্রাফিক পুলিশের মিলিত প্রচেষ্টায় দুপুর ১২ঃ১৫ মিনিটেই নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে যায় অ্যাম্বুলেন্স।

এরপর দ্রুত চিকিৎসা পর্ব শুরু হল শিশুটির। আপাতত কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে৷ কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে চিকিৎসাধীন শিশুটির দ্রুত আরোগ্য কামনাও করা হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ বাহিনীর এই মানবিকতায় মুগ্ধ আপামর শহরবাসীও। পুলিশের এই প্রচেষ্টাকে ধন্য ধন্য করছেন সকলেই৷ শিশুটির প্রাণ রক্ষা করার জন্য কুর্নিশ জানাতেও ভোলেননি শহরের বাসিন্দারা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.