মানবিকতার নজির! কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে অসুস্থ যাত্রীকে ৬ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছে দিল বাস

মানবিকতার নজির! কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে অসুস্থ যাত্রীকে ৬ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছে দিল বাস, প্রতীকি ছবি / ছবি সৌজন্যেঃ ফাইল ছবি
মানবিকতার নজির! কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে অসুস্থ যাত্রীকে ৬ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছে দিল বাস, প্রতীকি ছবি / ছবি সৌজন্যেঃ ফাইল ছবি

হঠাতই বাসের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক ব্যক্তি। শুরু হল রক্ত বমি। পাশে দাঁড়াতে সাধ্য মতো এগিয়ে এলেন কলকাতা পুলিশ। সাহায্যের হাত বাড়ালেন সহযাত্রীরাও। যাত্রী সমেতই বাস নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে গেলেন পুলিশ। প্রাণে বাঁচলেন অসুস্থ ব্যক্তি। শহরে ফের মানবিকতার নজির গড়লেন কলকাতা পুলিশে কর্মরত তিলজলা ট্রাফিক গার্ডের ওসি সৌভিক চক্রবর্তী।

সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি গত শনিবার সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ। একটি মিনিবাস বিবাদীবাগ থেকে গড়িয়ার দিকে যাচ্ছিল। ই এম বাইপাস হয়ে বাসটি রুবির দিকে যাওয়ার সময় হঠাতই অসুস্থ হয়ে পড়েন বছর বিয়াল্লিশের এক ব্যক্তি। মুখ দিয়ে রক্ত বমি শুরু হয় তাঁর। বাসটি তখন সায়েন্স সিটির কাছে। অবস্থা শোচনীয় দেখে চিৎকার জুড়ে দেন বাসের অন্যান্য যাত্রী। কিছুজন গিয়ে খবর দেন কাছেই তিলজলা ট্রাফিক গার্ডদের। তখন সেখানে কর্মরত ওসি সৌভিক চক্রবর্তী ও সার্জেন্ট রথীন লায়েক ছুটে আসেন। বাসে উঠে অসুস্থ ব্যক্তিটির অবস্থা দেখেই পড়িমরি চেষ্টা চালান তাঁরা। যাত্রীদের নিয়েই গ্রিন করিডর বানিয়ে বাসে করে মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যেই রুবি হাসপাতালে পৌঁছে যান। তারপর সেই অসুস্থ ব্যক্তিটিকে ভর্তিও করা হয় সেখানে।

জানা গিয়েছে, অসুস্থ ব্যক্তিটির নাম জামিল আখতার। বাড়ি পঞ্চান্ন গ্রামে। বাসের মধ্যেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। বর্তমানে রুবি হাসপাতালেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। খবর দেওয়া হয়েছে তাঁর পরিবারকেও। এ প্রসঙ্গে ওসি সৌভিক চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতাম না। ওঁর ফোন লক করা ছিল। ফলে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। এর মধ্যেই তাঁর পরিচিত কারোর ফোন আসে। সেই ফোনের সূত্র ধরেই জানা যায় ব্যক্তিটি পঞ্চান্নগ্রামের বাসিন্দা। আমরা তাঁর পরিবারকে ঘটনার কথা বলি এবং চিন্তামুক্ত থাকার আশ্বাস দিই।’

তবে শহরের ট্রাফিক ট্রাফিক পুলিশের এই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে কিছুতেই ভুলছেন না যাত্রীরা৷ তাঁদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে প্রশংসা। যাত্রীদের একাংশের বক্তব্য, ‘সময় মতো ট্রাফিক পুলিশ না এলে যে কোনও সময় বড় বিপদ ঘটে যেতে পারত। পুলিশের তৎপরতার সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ফলে তাঁর প্রাণ রক্ষা হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, এর আগেও গত ৩০ জানুয়ারি মা ফ্লাইওভারের ওপর হঠাৎ একটি অ্যাম্বুলেন্স বিকল হয়ে পড়ে। সেখানেও তিলজলা ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিনের পর আবার ফের কলকাতার বুকে মানবিকতার নজির গড়ে তুললেন তিলোত্তমার ট্রাফিক পুলিশ বাহিনী।