শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২২

সর্বস্বান্ত হয়ে সন্তানদের মানুষ করে আজ বৃদ্ধার আশ্রয় বাসস্ট্যান্ড! তিন ছেলের খোঁজে পুলিশ

মৌসুমী

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০৭:২৮ পিএম | আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২২, ০৭:২৮ পিএম

সর্বস্বান্ত হয়ে সন্তানদের মানুষ করে আজ বৃদ্ধার আশ্রয় বাসস্ট্যান্ড! তিন ছেলের খোঁজে পুলিশ
সর্বস্বান্ত হয়ে সন্তানদের মানুষ করে আজ বৃদ্ধার আশ্রয় বাসস্ট্যান্ড! তিন ছেলের খোঁজে পুলিশ

এক্ষেত্রে নচিকেতার বৃদ্ধাশ্রম গানটি যেন বড্ড বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। নিজের সর্বস্ব দিয়ে ছেলেমেয়েকে উচ্চ শিক্ষিত করেছেন মা। কিন্তু এখন প্রতিষ্ঠিত ছেলেদের দামি ফ্ল্যাটেই জায়গা হচ্ছে না মায়ের। তাই বছর সত্তরের বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছে নাগেরবাজার বাসস্ট্যান্ডে।

এদিকে, বুধবার সেই খবর সংগ্রহ করতে গেলেই টনক নড়ে নাগেরবাজার থানার পুলিশের। ছুটে আসে পুলিশ। খোঁজ নিতে শুরু করেন বৃদ্ধার। সেই খোঁজেই উঠে আসে বৃদ্ধার পরিচয়।জানা গিয়েছে, বছর সত্তরের বৃদ্ধা কল্পনা দাস থাকতেন দমদমের সিথির মোড়ে। তার বাপের বাড়ি গড়ফা রোডে। নিজের সোনা গয়না বেঁচে তিন ছেলেকে পড়েছেন রামকৃষ্ণ মিশনে। উচ্চ শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তাদের। কিন্তু সেই তথাকথিত সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ছেলেরাই আজ মায়ের খোঁজ রাখে না।

বড় ছেলে থাকেন শ্রীরামপুরে। মেজ ছেলে থাকেন মাইকেল নগরে। আর ছোট ছেলে বিদেশে। কিন্তু কারোরই নামি দামি ফ্ল্যাটে জায়গা নেই মাকে রাখার। তাই বাধ্য হয়ে বৃদ্ধার স্থান হয়েছে নাগেরবাজার বাসস্ট্যান্ডে। একবারের জন্য এসে ছেলেরা দেখাও করে না এখানে।

অসহায় এই বৃদ্ধাকে স্থানীয় মানুষরা কিছু খাবার দিলে তিনি খান। সারাদিন এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে রাত হলে বাসস্ট্যান্ডে এসে আশ্রয় নেন। বৃদ্ধা জানাচ্ছেন, তাঁকে পাগল বলে ছেলেরা এখানে ফেলে দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তার কোন রকম মানসিক সমস্যা নেই বলেই দাবি করেছেন ওই বৃদ্ধা। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন তার কথাবার্তা কি আদৌ পাগলের মতো। তবে পাগল হোক আর যাই হোক বৃদ্ধ মা কে দায়িত্ব এড়িয়ে এভাবে ফেলে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে ছেলেদের মানবিকতা নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে আদৌ কতটা মানুষ হতে পেরেছেন বৃদ্ধার ওই তিন ছেলে। তিন ছেলের খোঁজে নাগেরবাজার থানার পুলিশ।