বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০২২

SSC দুর্নীতি মামলায় বাগ কমিটির রিপোর্ট পেশ! কাদের নাম উঠে এল রিপোর্টে?

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২২, ০৪:৪৫ পিএম | আপডেট: মে ১৩, ২০২২, ০৪:৪৫ পিএম

SSC দুর্নীতি মামলায় বাগ কমিটির রিপোর্ট পেশ! কাদের নাম উঠে এল রিপোর্টে?
SSC দুর্নীতি মামলায় বাগ কমিটির রিপোর্ট পেশ! কাদের নাম উঠে এল রিপোর্টে?

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ SSC গ্রুপ-সি নিয়োগ মামলায় শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে তদন্তের রিপোর্ট পেশ করল রঞ্জিত বাগ কমিটি। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও ৩৮১ জনকে নিয়োগের সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ২২২ জনের নাম প্যানেল বা ওয়েটিং লিস্ট কোনোটাতেই ছিল না। কারণ ওই ২২২-এর কেউই লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেননি। জানা গিয়েছে, এই মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ১৯ মে।

শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং আনন্দ কুমার মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। বাগ কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৯ সালের মে মাসেই শেষ হয় প্যানেলের মেয়াদ। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও SSC-র অফিস থেকেই বেআইনিভাবে ৩৮১ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল। ওএমআর সিটে গন্ডগোল এবং নম্বরের কারচুপি করেই নিয়োগ করা হয় তাঁদের। এদের মধ্যে আবার ২২২ জন লিখিত পরীক্ষাতেও অনুত্তীর্ণ ছিলেন।

জানা যায়, SSC-র অফিস থেকে সই স্ক্যান করে বেআইনি সুপারিশ পত্র দেওয়া হয়েছিল। বাগ কমিটি প্রদত্ত রিপোর্টে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সমরজিৎ আচার্য (স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রোগ্রামিং অফিসার), কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় (মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি), সৌমিত্র সরকার (স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান), অশোককুমার সাহা (স্কুল সার্ভিস কমিশনের সচিব), সুবীরেশ ভট্টাচার্য (স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান), কমিশনের আঞ্চলিক চেয়ারম্যান শর্মিলা মিত্র, শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শেখ সিরাজউদ্দিন, মহুয়া বিশ্বাস, চৈতালি ভট্টাচার্য এবং রাজেশ লায়েক (বোর্ডের টেকনিক্যাল অফিসার)।

রিপোর্টে ১২ জনের শাস্তি প্রসঙ্গে সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। ষড়যন্ত্র, নথি জালিয়াতি করা এবং প্রতারণার অভিযোগে শান্তি প্রসাদ সিনহা ও সমরজিৎ আচার্যকে ৪৬৫, ৪১৭ ও ৩৪ ধারায় শাস্তি দেওয়া যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় ও শান্তি প্রসাদ দুজনে মিলে ও সুপারিশপত্র তৈরি করতেন এবং তাতে সই করতেন। অন্যদিকে সুপারিশপত্র বানিয়ে দিতেন রাজেশ লায়েক।

পাশাপাশি জোনাল অফিস থাকা সুবীরেশ ভট্টাচার্য, চৈতালি ভট্টাচার্য, শর্মিলা মিত্র, মহুয়া বিশ্বাস, শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং শেখ সিরাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশ দিয়েছে বাগ কমিটি। সুপারিশপত্র তৈরি হওয়ার পর তা জোনাল অফিসে ছাপা হত। এভাবেই চলত ভুয়ো নিয়োগ প্রক্রিয়া। এছাড়াও রিপোর্টের শেষে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর তৈরি উপদেষ্টা কমিটি বেআইনি ছিল, এমনটাই দাবি জোরালো রিপোর্টে।