রবিবার, ০২ অক্টোবর, ২০২২

অমর চন্দ্রা! মৃত্যুর পরেও ৬ জন রোগীর মধ্যে বেঁচে থাকবেন আজীবন

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২২, ০৮:৪৯ এএম | আপডেট: মার্চ ২৯, ২০২২, ০৮:৪৯ এএম

অমর চন্দ্রা! মৃত্যুর পরেও ৬ জন রোগীর মধ্যে বেঁচে থাকবেন আজীবন
অমর চন্দ্রা! মৃত্যুর পরেও ৬ জন রোগীর মধ্যে বেঁচে থাকবেন আজীবন / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একই দিনে একাধিক অঙ্গ প্রতিস্থাপন করে নজির গড়ল কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (IPGMER)। কিছুদিন আগে পথদুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান চন্দ্রা। তাঁর ব্রেন ডেথ হয়। এরপরই তাঁর মরণোত্তর অঙ্গদানের বিষয়ে চন্দ্রার স্বামীকে রাজি করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিনি রাজি হওয়ার  পরই শুরু হয় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কাজ। সোমবার চন্দ্রার হার্ট, লিভার ও দুটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার রোগীর শরীরে।

রিজিওনাল অর্গান এন্ড টিস্যু ট্রানস্প্ল্যান্ট অর্গানাইজেশন (ROTTO)-এর যুগ্ম অধিকর্তা অর্পিতা রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, কেবল চন্দ্রার এই চারটি অঙ্গ প্রতিস্থাপনই নয়, তার মরণোত্তর ত্বক ও কর্নিয়াও হাসপাতালে সংরক্ষণ ও প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে পিজি তথা রোটো (ROTTO)-র অধিকর্তা মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এর আগে লিভার-কিডনি-হার্ট প্রতিস্থাপন করা হলেও একই সঙ্গে ৬ টি অঙ্গের প্রতিস্থাপন এই হাসপাতালের ইতিহাসে কোনওদিন ঘটেনি। কেবল এই হাসপাতালেই নয় পূর্ব ভারত এরকম ঘটনা প্রথম ঘটল বলে জানা গিয়েছে। এমন ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত গর্বের বলে মনে করেছেন।

গত ২১ মার্চ পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন ৪২ বছরের চন্দ্রা দত্ত। জানা গিয়েছে, তিনি পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও পরে তাঁকে নিয়ে আসা হয় পিজির ট্রমা কেয়ার সেন্টার (Trauma Care Centre)-এ। মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন চন্দ্রা। প্রথমদিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি চোখে পড়লেও শুক্রবার তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হয়। শনিবারই তিনি ধীরে ধীরে ব্রেন ডেথের দিকে এগিয়ে যান। এরপরই নিঃসন্তান চন্দ্রার স্বামীকে ট্রান্সপ্ল্যান্ট কাউন্সিলর-এর তরফ থেকে অঙ্গ দানের জন্য অনুরোধ করা হয়। রাজি হয়ে যান তাঁর স্বামী। অন্যদিকে শুরু হয় ও-পজিটিভ ব্লাড গ্রুপের গ্রহীতাদের। মেলে খোঁজও। এসএসকেএম চিকিৎসারত দুজন কিডনি গ্রহীতা, একজন লিভার গ্রহীতা ও একজন হার্ট গ্রহীতার খোঁজ পাওয়া যায়। এরপরই শুরু হয় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি।

অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাবে চন্দ্রার পরিবার রাজি হতেই সোমবার চন্দ্রার ব্রেন ডেথের কথা ঘোষণা করা হয়। তারপরই সেদিন বিকেল থেকে শুরু হয় অঙ্গ আহরণ (রিট্রিভাল) ও সংরক্ষন (হারভেস্টিং)-এর কাজ। এই সমস্ত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল এসএসকেএমের নেফ্রোলজি, গ্যাস্ট্রো-এন্টেরোলজি, কার্ডিওথোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারি ও কার্ডিয়াক অ্যানাস্থেটিস্টের একটি দল। সন্ধ্যার মধ্যেই অঙ্গ আহরণ ও সংরক্ষণের কাজ শেষ হলে সেদিন রাত থেকেই শুরু হয় প্রতিস্থাপন পর্ব।

মৃতা চন্দ্রার একাধিক অঙ্গ নতুন করে জীবনের আরও একধাপ এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে ৬ জন রোগীকে। চন্দ্রার দুটি কিডনি পেয়েছেন সোনারপুর ও হুগলির নয়াসারির বাসিন্দা ২৬ ও ২০ বছর বয়সী দুই তরুণ। তাদের দুজনেরই কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে লিভার পেয়েছেন পুরুলিয়ার ৫১ বছরের এক ব্যক্তি। এছাড়াও চন্দ্রার হার্ট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে রাজারহাট এর বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী এক মহিলার শরীরে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এই রোগীদের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবেন বর্ধমানের চন্দ্রা দত্ত।