সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২

শুভেন্দু একা নয়, সারদার থেকে টাকা নিয়েছিলেন ভাই সৌমেন্দুও! ফের বিস্ফোরক সুদীপ্ত সেন

আত্রেয়ী সেন

প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২২, ০৩:৩৩ পিএম | আপডেট: জুন ৩০, ২০২২, ০৩:৩৩ পিএম

শুভেন্দু একা নয়, সারদার থেকে টাকা নিয়েছিলেন ভাই সৌমেন্দুও! ফের বিস্ফোরক সুদীপ্ত সেন
শুভেন্দু একা নয়, সারদার থেকে টাকা নিয়েছিলেন ভাই সৌমেন্দুও! ফের বিস্ফোরক সুদীপ্ত সেন

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কদিন আগেই প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন যে, তাঁর থেকে টাকা নিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর গ্রেফতারির দাবি জানিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। তাঁদের দাবি, শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তাঁকে আড়াল করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইচ্ছে করেই সিবিআই প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। 

এবার সুদীপ্ত সেন ফের একই অভিযোগ করলেন। তবে, এবার শুধু শুভেন্দু অধিকারী একা নন, অভিযোগ করেছেন তাঁর ভাই সৌমেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও। সুদীপ্ত সেন দাবি করেছেন যে, শুভেন্দুর ভাই তথা কাঁথি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৌমেন্দু অধিকারীকেও টাকা দেওয়া হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, সিবিআই-কে দেওয়া তাঁর চিঠিতে সারদার অর্থ প্রাপকদের তালিকায় নাম রয়েছে বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায় ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর নামও। নিজে মুখে এই কথা জানিয়েছেন সুদীপ্ত সেন। 

একটি মামলায় এদিন ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয় সুদীপ্ত সেনকে। আদালতে ঢোকার মুখে, তিনি অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু শুভেন্দু অধিকারী নয়, এর আগের চিঠিতে মুকুল রায়, অধীর চৌধুরীর নাম দিয়েছি। দ্বিতীয় চিঠিতে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি।’
এদিকে, এই বিষয়টি সম্বন্ধে কিছু জানা নেই বলেই দাবি করেছেন বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায়। পাশাপাশি কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর দাবি করেছেন, ‘সুদীপ্ত সেন সামনাসামনি বসুন।’ অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, ‘সুদীপ্ত সেন যাঁদের নাম বলছেন, তাঁদের কাস্টডিতে নিয়ে জেরা করা হোক। যারা নগদ নিয়েছে তাদের সুদীপ্ত সেনের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হোক। বিজেপিতে গিয়ে লুকিয়েছে বলে তাদের রেহাই দেওয়া উচিত নয়।’

এর আগেও শুভেন্দুর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন সুদীপ্ত সেন। সেই সময় তাঁর সেই অভিযোগকে হাতিয়ার করে প্রতিবাদে রাস্তায় নামে তৃণমূল। দলের তরফে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়, বলা হয় যে, কী কারণে সারদা কর্ণধারের থেকে টাকা নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী? সুদীপ্ত সেনের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্তের স্বার্থে কেন বিরোধী দলনেতাকে গ্রেফতার করা হবে না? রাজ্যপাল কেন সুদীপ্ত সেনের দাবি নিয়ে নীরব? এরপর শুভেন্দুর গ্রেফতারের দাবিতে গত সোমবার মিছিল করে তৃণমূল, অবস্থান বিক্ষোভ চলে সিজিও কমপ্লেক্সের সামনে। পরে, রাজ্যপালের কাছে গিয়েও শুভেন্দুর গ্রেফতারির দাবি জানান তৃণমূলের আট সদস্যের প্রতিনিধি দল।