বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২

মানিক ভট্টাচার্য সহ গোটা পরিবারের সম্পত্তির খতিয়ান চাইল হাইকোর্ট! দু‍‍`সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে হলফনামা

চৈত্রী আদক

প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২২, ০৪:৫৭ পিএম | আপডেট: জুন ২১, ২০২২, ০৪:৫৭ পিএম

মানিক ভট্টাচার্য সহ গোটা পরিবারের সম্পত্তির খতিয়ান চাইল হাইকোর্ট! দু‍‍`সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে হলফনামা
মানিক ভট্টাচার্য সহ গোটা পরিবারের সম্পত্তির খতিয়ান চাইল হাইকোর্ট! দু‍‍`সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে হলফনামা

বংনিউজ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে গোটা পরিবার সহ নিজের যাবতীয় সম্পত্তির হিসেব দিতে হবে তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাথমিক শিক্ষক পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে। তৃণমূল নেতা সহ তাঁর স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ এবং বিবাহের আগে পর্যন্ত মেয়ের স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পত্তির খতিয়ান জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ৫ জুলাই-এর মধ্যে হলফনামা আকারে সম্পত্তির হিসেব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

সোমবারই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সভাপতির পদ থেকে মানিক ভট্টাচার্যকে অপসারণ করা হয়। এরপর আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুর দু‍‍`টোর মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সময়মতোই হাজিরা দেন তিনি। শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একের পর এক প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। বিধায়কের জন্মতারিখ, পেশা, তাঁর সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশ্নে মানিক বাবু জানান, ১৯৫৪ সালের ৭ মে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নদিয়ায় রয়েছে পৈতৃক ভিটে। ১৯৭১ সালে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরে কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে বি.কম পাশ করেন। এরপর স্নাতকোত্তর করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। পরবর্তীকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রিও অর্জন করেন তিনি। যদিও কখনও আদালতে প্র্যাক্টিস করেননি বলেই জানান মানিক ভট্টাচার্য।

বিধায়ক এবং তাঁর পরিবার কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা রয়েছেন সেই বিষয়ে প্রশ্ন করেন বিচারপতি। মানিক বাবুর উত্তর, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যোগেশ চন্দ্র ল কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। অধ্যাপনা করেছেন সুরেন্দ্রনাথ সন্ধ্যা কলেজ, বিজয়গড় বিদ্যাপীঠেও। ছেলে সিইএসসি-এর প্রাক্তন অফিসার। বর্তমানে তিনি রাজ্য সরকারের আইটি বিভাগে কর্মরত। অন্যদিকে পুত্রবধূ পেশায় চিকিৎসক।

মানিকবাবুর সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে নদীয়ার পৈতৃক ভিটে। যাদবপুরে রয়েছে ফ্ল্যাট। বর্তমানে সেখানেই বসবাস করেন তিনি। এর পাশাপাশি গড়িয়ার কাছে নয়াবাদ এলাকায় একটি জমি রয়েছে। ১৯৯৫ সালে ১০ হাজার টাকা দিয়ে জমিটি কিনেছিলেন তিনি। এদিন আদালতে ভগবানের নামে শপথ করে মানিকবাবু বলেন, এছাড়া অন্য কোথাও তাঁর নামে আর কোনও সম্পত্তি নেই।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষক পর্ষদের সভাপতি পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে দ্বারস্থ হয়েছিলেন মানিক ভট্টাচার্য। এমনকি রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতে আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি আদালত যাতে দ্রুত মামলার শুনানি করে সেই বিষয়েও আবেদন করেছিলেন বিধায়ক। কিন্তু আদালতে তাঁর মামলা গৃহীতই হয়নি। আদালত জানায়, নিয়ম মেনে মামলা দায়ের করলে তবেই ডিভিশন বেঞ্চ তা গ্রহণ করবে। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতে হাজিরা দেন মানিক ভট্টাচার্য।