লখিমপুর কাণ্ডে মন্ত্রীর ছেলের বন্দুক থেকেই চলেছিল গুলি! ফরেনসিক রিপোর্টে মিলল ইঙ্গিত

লখিমপুর কাণ্ডে মন্ত্রীর ছেলের বন্দুক থেকেই চলেছিল গুলি! ফরেনসিক রিপোর্টে মিলল ইঙ্গিত
লখিমপুর কাণ্ডে মন্ত্রীর ছেলের বন্দুক থেকেই চলেছিল গুলি! ফরেনসিক রিপোর্টে মিলল ইঙ্গিত

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ লখিমপুর খেরি কাণ্ড এখনও মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। লখিমপুর কাণ্ডে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এই কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত অঙ্কিত দাস এবং আশিস মিশ্র। এবার এই লখিমপুর কাণ্ডে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জানা গিয়েছে, লখিমপুর খেরি কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত অঙ্কিত দাস এবং আশিস মিশ্রর লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকেই গুলি চালানো হয়েছিল। এমনটাই বলছে ফরেনসিক রিপোর্ট। গত ৩ অক্টোবর ওই ঘটনার পর সারাদেশে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়েছিল। মন্ত্রীর ছেলের গাড়িতে কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। এরপর গত ১৫ অক্টোবর সেই অস্ত্র ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কৃষকদের দাবি ছিল, অভিযুক্ত অঙ্কিত এবং আশিস দু’ জনেই ঘটনার দিন বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন।

গত ৩ অক্টোবরে লখিমপুর কাণ্ডে মত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর জেরে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হয়। বিজেপি করমির গাড়িতে চাপা পরেন চার কৃষক। ওই গাড়িতে নাকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে ছিলেন। এরপর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তি শুরু হলে, সেই অশান্তির মধ্যে পড়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একজন সাংবাদিকও ছিলেন। সেই ঘটনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে-সহ ১৩ জন গ্রেফতার করাক হয়েছিল।

সোমবারই এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পুলিশের ভুমিকার সমালোচনা করার পাশাপাশি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। যোগী সরকারকেও শীর্ষ আদালতের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।  সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ‘দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।’ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তিনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্ত খতিয়ে দেখেন। প্রস্তাব করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। তাঁরা উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্ত খতিয়ে দেখেন। প্রধান বিচারপতি এন ভি রানামা বলেন, ‘অতিমাত্রায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চাই না। হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তদন্তের গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখুন।’ পাশাপাশি এদিন লখিমপুর কাণ্ডের তদন্তের গতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। এ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা যেমন ভেবেছিলাম সেভাবে তদন্ত এগোচ্ছে না।’

এই মামলায় উত্তরপ্রদেশ সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা বলেছেন যে, ‘আরও কয়েকজন সাক্ষীকে জেরা করা ছাড়া স্ট্যাটাস রিপোর্টে আর কিছুই নেই। আমরা ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম। এর মধ্যে ল্যাবের রিপোর্টও আসেনি। আশানুরূপভাবে তদন্তের গতি এগোয়নি।’ যোগী সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, দোষীকে বাঁচাতে একাধিক এফআইআরকে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পথে তদন্ত এগোনোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে পরামর্শ হিসেবে বলা হয় যে, পাঞ্জাব, হরিয়ানা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত দুই বিচারপতি রাকেশকুমার জৈন এবং বিচারপতি রণজিৎ সিং তদন্তের দিকে নজর রাখতে পারেন।

অন্যদিকে, ওইদিন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরাসরি নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘লখিমপুর খেরির ঘটনার তদন্ত সঠিকভাবে হচ্ছে না। আমি বলছি না, আজ সুপ্রিম কোর্ট ওই কথা বলেছে। আমি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করব, এখনও আপনারা দোষীদের আড়াল করবেন? তাঁরা আপনাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করবেন, আর আপনারা মেনে নেবেন?’