লখিমপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে একজোট বিরোধীরা! মহারাষ্ট্রে বনধের ডাক কংগ্রেস-NCP-শিবসেনার

লখিমপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে একজোট বিরোধীরা! মহারাষ্ট্রে বনধের ডাক কংগ্রেস-NCP-শিবসেনার
লখিমপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে একজোট বিরোধীরা! মহারাষ্ট্রে বনধের ডাক কংগ্রেস-NCP-শিবসেনার

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর-খেরিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর ছেলের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয় রবিবার। এরপরেই এই ঘটনাকে ঘিরে রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে লখিমপুর খেরি। অশান্তির মাঝে পড়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এরপরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা লখিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু প্রায় সকলকেই আটকে দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এর মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে প্রায় ৩০ ঘন্টার বেশি সময় সীতাপুরে আটক করে রাখার পর ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে, তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। কংগ্রেস নেতা বাঘেলকে বিমানবন্দরেই আটকে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় সপা নেতা অখিলেশ যাদবকেও। প্রথমে লখিমপুরে যাওয়ার অনুমটি দেওয়া হয়েছিল রাহুল গান্ধীকেও। যদিও পড়ে সেই অনুমতি মেলে।

এবার এই পরিস্থিতিতে লখিমপুরের খেরির ঘটনার প্রতিবাদে জোটবদ্ধ হয়ে আসরে নামছে বিরোধীরা। আগামী ১১ অক্টোবর মহারাষ্ট্রে একযোগে বনধের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস, শিবসেনা এবং এনসিপি। এই তিন রাজনৈতিক দলের ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে মহাবিকাশ আঘাদি জোটও। এনসিপি রাজ্য প্রধান জয়ন্ত জয়ন্ত পাটিল বুধবার ধর্মঘটের ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, লখিমপুরের ঘটনায় অপরাধীর শাস্তির দাবিও তোলা হয়েছে।

এদিকে, অনেক টালবাহানার পর, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ ৫ সদস্যের কংগ্রেস প্রতিনিধি দলকে লখিমপুর খেরিতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। শুধু কংগ্রেসই নয়, যে কোনও রাজনৈতিক দলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল যেতে পারবেন লখিমপুরে। এমনটাই জানানো হয়েছে সরকারি তরফে। এও জানানো হয়েছে যে, কথাও বলা যাবে নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে। ইতিমধ্যেই রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা রওনা দিয়েছেন লখিমপুরের পথে।

কিন্তু এই যাওয়ার পথে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে কংগ্রেসকে। এদিন বিমানবন্দরে শুরু হয় ধরনা। ধরনার নেতৃত্বে ছিলেন রাহুল গান্ধী। লখিমপুর যাওয়ার অনুমতির পাওয়ার পরেও লখনউ বিমানবন্দরের ভিতরেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সঙ্গে বচসা জড়িয়ে পড়েন রাহুল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, তিনি নিজের গাড়িতে করে লখিমপুর যেতে চান। অথচ পুলিশ তাঁকে নিজের গাড়িতে যেতে দিচ্ছে না। পুলিশকর্মীরা নাকি তাঁকে বলছেন, পুলিশের গাড়িতে করে যাওয়ার জন্য। এখানেই আপত্তি তোলেন রাহুল। গোটা পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষুব্ধ রাহুল গান্ধী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কী ধরনের অনুমতি দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। এরা তো আমাকে বিমানবন্দরেই বাইরেই যেতে দিচ্ছে না।’

উল্লেখ্য, এদিন লখিমপুর যাওয়ার আগে সাংবাদিক বৈঠক করে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ‘দেশের কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। আগে গণতন্ত্র ছিল, ভারতে এখন একনায়কত্ব আছে। রাজনীতিবিদরা উত্তর প্রদেশে যেতে পারেন না। গতকাল থেকে আমাদের বলা হচ্ছে যে আমরা উত্তরপ্রদেশে যেতে পারব না।’

৫০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর, প্রিয়াঙ্কাকে ছাড়া হলে, তাঁকে নিয়ে অবশেষে সব বাধা কাটিয়ে লখিমপুরের উদ্দেশে রওনা দেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা।