পালিয়েও শেষরক্ষা হল না! ক্রাইম ব্রাঞ্চে হাজিরা লখিমপুর কাণ্ডে অভিযুক্ত আশিস মিশ্রের

পালিয়েও শেষরক্ষা হল না! ক্রাইম ব্রাঞ্চে হাজিরা লখিমপুর কাণ্ডে অভিযুক্ত আশিস মিশ্রের
পালিয়েও শেষরক্ষা হল না! ক্রাইম ব্রাঞ্চে হাজিরা লখিমপুর কাণ্ডে অভিযুক্ত আশিস মিশ্রের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ পালিয়েও শেষরক্ষা করা সম্ভব হল না। পুলিশের নজর এড়ানো গেল না। লখিমপুর খেরিতে বিক্ষোভরত কৃষকদের পিষে মেরে ফেলার ঘটনায় অবশেষে শনিবার উত্তরপ্রদেশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের দফতরে পৌঁছে হাজিরা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মন্ত্রী ছেলে আশিস মিশ্র। এদিন সকাল ১০ টার মধ্যে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, এদিন নির্দিষ্ট সময়েই হাজিরা দিয়েছেন লখিমপুর কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আশিস মিশ্র। সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা।

উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর-খেরিতে গত রবিবার কৃষক বিক্ষোভ চলাকালীন গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয়। এরপরেই এই ঘটনাকে ঘিরে রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে লখিমপুর খেরি। অশান্তির মাঝে পড়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। এই ঘটনায় নাম জড়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্রের। ঘটনার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন আশিস মিশ্র। লখিমপুরের ঘটনার পরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা লখিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যদিও প্রথমে সকলকেই আটকে দেয় যোগী প্রশাসন। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সবাই একযোগে আশিস মিশ্রের গ্রেফতারির দাবী তোলে। এরপর একপ্রকার বাধ্য হয়েই লখিম পুরে বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের যাওয়ার অনুমতি দেয় যোগী প্রশাসন।

অন্যদিকে, যোগী সরকার নড়েচড়ে বসে তদন্তের নির্দেশ দেয়। অভিযুক্ত আশিস মিশ্রকে গ্রেপ্তারির জন্য পরোয়ানা জারি করে পুলিশ। ৯ সদস্যের একটি টিম গড়া হয় পুলিশের তরফে। আদালতের তরফেও সমন পাঠানো হয় আশিসকে। তবে, সমন পেয়েও শুক্রবার হাজির হয়নি আশিস। তারপর তাঁর বাড়িতে গিয়ে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়ে নোটিস দেওয়া হয়।

এদিকে, এই ঘটনায় সারা দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠলে হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট আশিস মিশ্রকে সমন পাঠালেও শুক্রবার আদালতে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে উপস্থিত হননি তিনি। আশিসের খোঁজে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, আশিসের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন নেপালের কাছাকাছি কোনও এক জায়গায়। তাতেই তাঁদের ধারণা হয়, নেপালে গা ঢাকা দিয়েছে আশিস। যদিও অনেকের দাবি, অন্য কোথাও নয়, আশিস লখিমপুর এলাকাতেই রয়েছে। যদিও তাঁর পরিবার এবং তাঁর আইনজীবীর পক্ষ থেকে দাবী করা হয় যে, আশিস লখিমপুরেই রয়েছে। তার আইনজীবী অবধেশ কুমার জানিয়েছিলেন, তাঁর মক্কেল তদন্তে সহযোগিতা করবেন। শনিবার সকালে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসে গিয়ে হাজিরা দিয়েছেন আশিস মিশ্র। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জানা গিয়েছে তাঁর গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গতকাল মামলার শুনানি ছিল। লখিমপুর খেরি কাণ্ডে যোগী সরকারের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার আদালতের শুনানি এমনটাই জানায় দেশের শীর্ষ আদালত। শুক্রবার আদালতে শুনানিতে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে, ‘লখিমপুর কাণ্ডে আটজনের মৃত্যুর পরেও, যোগী সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। এই ভূমিকায় একেবারেই খুশি নয় আদালত।’ লখিমপুর কাণ্ডে তদন্তকারী অফিসারদের সরিয়ে নতুন অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এদিন প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে যে, মূল অভিযুক্ত কোনও সাধারণ মানুষ হলেও কি পুলিশ এই একই ধরনের ব্যবহার তাঁর সঙ্গেও?

পুলিশের পক্ষ থেকে কোর্টে গতকালই জানানো হয় যে, শনিবার বেলা ১১ টায় হাজিরা দেবেন অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর ছেলে। আদিত্যনাথের সরকারের পক্ষ থেকেও একই কথা জানানো হয় আদালতে। তা না হলে, আশিস মিশ্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই যুক্তি শোনার পরই আগামী ২০ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে সুপ্রিম কোর্ট৷ ততদিন পর্যন্ত সমস্ত তথ্য প্রমাণ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে। এরপরই এদিন হাজিরা দেন আশিস মিশ্র।