ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’! এই নামের অর্থ কী? কারা দিল এই নাম? জানুন অজানা তথ্য

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় 'যশ'! এই নামের অর্থ কী? কারা দিল এই নাম? জানুন অজানা তথ্য / প্রতীকী ছবি
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় 'যশ'! এই নামের অর্থ কী? কারা দিল এই নাম? জানুন অজানা তথ্য / প্রতীকী ছবি

আগামী সপ্তাহেই বাংলা এবং ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড়, ‘যশ’। পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ। পাশাপাশি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ও সৃষ্টি হতে পারে। মনে করা হচ্ছে যা আমফানের চেয়েও শক্তিশালী! জানা গিয়েছে, ২২মে থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বাড়বে। উত্তর আন্দামান সাগরের ওপর ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। শুরুতে হাওয়ার গতিবেগ ৫৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা থাকলেও ধীরে ধীরে বাড়বে তেজ। এরপর ২৫ মে নাগাদ বাংলা ও ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেই ঘূর্ণিঝড়ের। সঙ্গে থাকবে প্রবল বৃষ্টি। হাওয়ার গতিবেগ ঘন্টা প্রতি ৭০ কিলোমিটার থাকবে।

কিন্তু এখন মনে প্রশ্ন আসে, ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘যশ’ কেন? এটির অর্থ কী? কারাই বা দিয়েছে এমন নাম? আসুন জেনে নেওয়া যাক ঘূর্ণিঝড়টির অজানা কিছু তথ্য…

নামকরণের অর্থঃ
বাংলায় যশ কথার অর্থ প্রভাব-প্রতিপত্তি হলেও এই ঘূর্ণিঝড়ের নামের সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই। এই ঝড়ের নামটি এসেছে ওমান ভাষা থেকে। যার অর্থ হতাশা। ওমান ভাষায় Yaas (যশ)- এর অর্থ হল হতাশা।

কারা দিয়েছে এই নাম?
এই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে ওমান। ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, বাংলাদেশ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইয়েমেন; এই ১৩টি দেশ নিয়ে তৈরি কমিটি থেকেই ঠিক করা হয়েছে নামটি।
চলতি শতকের শুরুর দিকে ঝড়ের নামকরণের পদ্ধতিটি চালু হয়। ২০০০ সালে ঝড়ের নামকরণের জন্য নিয়ম বানানো হয়েছিল। তাতে ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন ও ইউনাইডেট নেশনস ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়ার সদস্য দেশগুলি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ ঠিক করে। সদস্য ১৩টি দেশ ১৩টি করে নাম জমা দেয়। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ১৬৯টি নাম নথিভুক্ত হয়। পরপর আসা ঝড় অনুযায়ী হয় নামকরণ। অর্থাৎ এর আগে আসা ঝড়গুলির নাম ছিল যথাক্রমে ফণী, হুদহুদ, আমফান, নিঃসর্গ, তাউকটে। তার পরের নাম ‘যশ’ অনুযায়ীই আসন্ন ঝড়ের নামকরণ করা হয়েছে।

যশের পর পরবর্তী নামগুলি কী কী?
যশের পরবর্তী যে যে ঘূর্ণিঝড়ের নাম আপাতত ঠিক হয়েছে সেগুলি হল যথাক্রমে, গুলাব (পাকিস্তান), সাহিন (কাতার), জাওয়াদ (সৌদি আরব), অশনি (শ্রীলঙ্কা), সীতরাং (থাইল্যান্ড), মানদৌস (সংযুক্ত আরব আমিরশাহি) ও মোকা (ইয়েমেন)।

প্রসঙ্গত, ঘূর্ণিঝড় যশের দাপটে উপকূলীয় অঞ্চলগুলি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে আগাম সুরক্ষা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলা প্রশাসনের তরফে বৈঠক করে প্রথমেই ওই ক’দিন মৎসজীবীদের সমুদ্রে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও নেওয়া হয়েছে আরও নানা প্রস্তুতি। উল্লেখ্য, গত বছরের আমফানের দাপটে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল গোটা রাজ্য। সেই স্মৃতি এখনও বেশ টাটকা। তাই বিন্দুমাত্র ঝুঁকি না নিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য।

এছাড়াও, রাজ্যের প্রতিটি মিউনিসিপ্যালিটি, পঞ্চায়েত সমিতি ও বিডিও অফিসগুলিতে কন্ট্রোল রুম তৈরি করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যেখান থেকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রতিটি পুঙ্খাণুপুঙ্খ খবর জানতে পারেন রাজ্যের মানুষ। এছাড়াও ওই সময় ভরা কোটালে নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে তা মেরামত করার জন্য সেচদপ্তরকে আগাম খবর দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণাতেও কড়া নির্দেশ জারি করেছেন জেলাশাসক। শেলটার হাউস বা ত্রাণশিবির প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি চাল, ডাল, ত্রিপল ও অন্যান্য জরুরি দ্রব্যও মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা বাড়লেই উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে মানুষদের ত্রাণশিবিরে সরানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।