কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুরি গেল ২৬ টি জীবনদায়ী ইনজেকশন!

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুরি গেল ২৬ টি জীবনদায়ী ইনজেকশন!
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুরি গেল ২৬ টি জীবনদায়ী ইনজেকশন!

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ দেশব্যাপী করোনা মারণ আকার ধারণ করেছে। তবে বর্তমানে কমছে সংক্রমণের হার। এবং বৃদ্ধি পেয়েছে সুস্থতার হার। তবে এরই মাঝে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে বেড, অক্সিজেন সহ ওষুধের সঙ্কট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর তারমধ্যে এবার খাস কলকাতা শহরের বুকে মেডিকেল কলেজ থেকে চুরি হল করোনা চিকিতসার গুরুত্বপূর্ণ ইনজেকশন টসিলিজুম্যব। মোট ২৬ টি ইনজেকশন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল। চুরি যাওয়া এই জীবনদায়ী টসিলিজুম্যব ইনজেকশন গুলির এক-একটি ভায়ালের দাম প্রায় ৫০ হাজার।

যখন মারণ ভাইরাসের সঙ্গে যুজছে গোটা দেশ তথা বাংলা তখনই হাসপাতাল থেকে ইনজেকশনে চুরি যাওয়ার বেনজির ঘটনা ঘটল কলকাতায়। যখন সারাদেশে পর্যাপ্ত ওষুধের আকাল চলছে তখন নজর এড়িয়ে কিভাবে এমন ঘটনা ঘটলো তাই নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। প্রশ্ন উঠছে যেখানে স্পেসিমেন এগজামিনেশন ফর্ম ছাড়া এই ইনজেকশন পাওয়া সম্ভব নয় সেখানে কি করে ২৬ টি ইনজেকশন চুরি যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটল।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুরি গেল ২৬ টি জীবনদায়ী ইনজেকশন!
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুরি গেল ২৬ টি জীবনদায়ী ইনজেকশন!

ঘটনায় অভিযোগের তীর উঠছে মেডিকেল কলেজেরই এক চিকিৎসকের দিকে। সূত্রের খবর অনুযায়ী যিনি হলেন রাজ্যের এক প্রভাবশালী চিকিৎসক-বিধায়কের ঘনিষ্ঠ। অভিযোগ উঠছে নিজের প্রভাব খাটিয়ে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে কর্তব্যরত ১ নার্সের থেকে ইনজেকশন সংগ্রহ করেছেন ওই চিকিৎসক। একটি কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পরই বিষয়টি নজরে আসে।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুরি গেল ২৬ টি জীবনদায়ী ইনজেকশন!
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুরি গেল ২৬ টি জীবনদায়ী ইনজেকশন!

উল্লেখ্য মঙ্গলবার সারাদিন স্বাস্থ্য মহলের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে সেই পোস্টটি ভাইরাল হয় এবং তারপরই এনিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এমনকি হাসপাতাল বিধি অনুযায়ী, এই ইঞ্জেকশন ব্যবহার নিয়ে নানা বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। তবে ফেসবুক পোস্টে যে সব নথি তুলে ধরা হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে রোগীর নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানোর কাগজে এক চিকিৎসক গত এপ্রিলের বেশ কয়েকটি তারিখে ওই ইনজেকশন এর নাম লিখেছেন।

পুরো বিষয়টি তদন্ত করতে ইতিমধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে গঠিত হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। তবে পিছু ছাড়ছে না প্রশ্ন। এই সঙ্কটকালে কালোবাজারি চক্রের যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। যদিও স্বাস্থ্য দফতরের আশ্বাস কীভাবে ও কারা এই কাজ করেছে খতিয়ে দেখা হবে, ঘটনার পূর্নাঙ্গ তদন্ত হবে।