আপাতত লকডাউনের চিন্তা-ভাবনা নেই, নাইট কার্ফু কোনও সমাধান নয়, মত মমতার
আপাতত লকডাউনের চিন্তা-ভাবনা নেই, নাইট কার্ফু কোনও সমাধান নয়, মত মমতার

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাঙালির একটা নতুন বছরের সূচনা হল মারণ করোনা আতঙ্ককে সঙ্গী করেই। প্রতিদিন ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছে মারণ করোনা। এই মুহূর্তে দেশজুড়ে যা করোনা পরিস্থিতি, তাতে ভয়ঙ্কর, উদ্বেগজনক ইত্যাদি কোনও বিশেষণই যথেষ্ট নয়।

উদ্বেগ আর ভয় আরও বাড়িয়ে, সর্বকালের সব রেকর্ড ভেঙে প্রতিদিন দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যায় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছে মারণ করোনা। গোটা দেশেই ঝড়ের গতিতে বাড়ছে সংক্রমণ। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। সুস্থতার হারও কম।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮,৪১৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের। ভোটের আবহে বাংলাতেও ঝড়ের গতিতে বাড়ছে সংক্রমণ। আবার গোটা দেশে করোনা আক্রান্ত দেড় কোটি মানুষ। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে করোনার প্রকোপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে ৬ দিনের সম্পূর্ণ লকডাউন জারি করেছে দিল্লি সরকার। তবে, বাংলায় তৃণমূল নেত্রীর অবশ্য এ প্রসঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করেছে। তিনি জানিয়েছেন, লকডাউন, নাইট কার্ফু করে কোনও সমাধান নয়।

মালদহে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে আজ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এখনই লকডাউন নিয়ে চিন্তাভাবনার কোনও কারণ নেই। নাইট কার্ফু কোনও সমাধান নয়। এই যে দিল্লিতে লকডাউন করে দিয়েছে, মানুষের কষ্ট হবে না? মানুষকে তো একটা সময় দিতে হবে। লকডাউন করলেই কি সব কমে যাবে? ট্রেন চলছে, বাস চলছে, লোক মুভ করছে। আরে লাখের বেশি লোক থেকে বাইরে থেকে প্রচার করতে এসেছে। এত লোক কেন বাইরে থেকে এসে বসে থাকবে? রাজ্য সরকার তো তাদের বের করে দিতে পারে না! তাদের কী হয়েছে না হয়েছে আমি কী করে জানব! প্রধানমন্ত্রী সভার প্যান্ডেল করতে আসে বাইরের লোক। শুনেছিলাম তাদের ১৫ জনের নাকি কোভিড হয়েছে। রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দেড় লাখ জওয়ান এসেছেন। এঁদের আরটিপিসিআর টেস্ট মাস্ট। আগের বারই দেখেছিলাম, একজন পুলিসের কোভিড হওয়া মানে হাজার জন সংক্রমিত হওয়া। ওরা টিম হিসেবে কাজ করেন।’

তিনি আরও বলেন যে, ‘করোনার এই বাড়বাড়ন্তের মধ্যেও কোনও টিকা দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ কেন্দ্র কোনও টিকা দিচ্ছে না।’ তৃণমূল নেত্রী বলেন, রাজ্যে করোনা ভ্যাকসিন নেই। এনিয়ে গতকালই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। উনি কোনও উত্তর দেননি। কেন্দ্র অনুমতি দিলেই একমাত্র রাজ্য ভ্যাকসিন কিনতে পারবে। রাজ্য চাইলেই ভ্যাকসিন কিনতে পারে না। তাই একটা কথা স্পষ্ট যে, ভ্যাকসিন আমাদের হাতে নেই। জরুরি ভিত্তিতে বাজার থেকে ভ্যাকসিন আনতে হচ্ছে। অক্সিজেন আনা হচ্ছে। কিন্তু ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও করোনা হচ্ছে শুনছি।

জানা গিয়েছে, রাজ্যে গত ৪ দিনে ১ হাজার বেড বাড়ানো হয়েছে। আরও ৪,৫০০ বেড ৩-৪ দিনের মধ্যে বাড়ানো হবে। করোনার জন্য ১০০ হাসপাতাল রেডি করা হচ্ছে। এর জন্য নার্সিংহোমও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন হোটেলের রুমকেও হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। স্বাস্থ্যভবন থেকে ইতিমধ্যেই ট্রিটমেন্ট প্রটোকল প্রকাশ করা হয়েছে। আগের বার যে সংখ্যক বেড ছিল, তার থেকে কিছু বেড বাড়ানো হচ্ছে। তৃণমূল নেত্রী বলেন যে,’ বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে অনুরোধ করব, যাদের প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে তাদের ভর্তি নিন। সবাইকে ভর্তি করে বেড দখল করে রাখবেন না। টাকা আছে বলেই ভর্তি হয়ে গেলাম। এমন কেউ যেন না করেন।’

পাশাপাশি এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। করোনা মোকাবিলায় টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে। আতঙ্কে নয়, সচেতন থাকতে হবে। রাজ্যজুড়ে ৪০০ অ্যাম্বুলেন্স থাকবে করোনা আক্রান্তদের পরিষেবায়। ২০০ সেফ হোমে ১১ হাজার বেড রয়েছে। ছোট ছোট প্রচার সভা করা উচিত। বিভিন্ন হোটেলেও সেফ হোম তৈরি হবে। কাল থেকে স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি শুরু হবে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন যে, করোনার জন্য রাজ্যজুড়ে ৪০০ অ্যাম্বুল্যান্সকে কাজে লাগানো হয়েছে। চালু হয়েছে টেলি মেডিসিন পরিষেবা। ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২ নম্বরে ফোন করলে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে। অডিয়ো ভিজুয়াল কাউন্সেলেলিং হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন অফিসে ৫০ শতাংশ ওয়ার্ক ফ্রম হোম করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলার সরকার রাজ্যের মানুষকে মারণ করোনা থেকে রক্ষা করতে সবরকমের ব্যবস্থা নিচ্ছে। এদিন সকালে টুইট করেও এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কথা ভেবে, রাজ্য সরকার স্কুলের গরমের ছুটি এগিয়ে এনেছে। আগামিকাল, মঙ্গলবার থেকেই সব স্কুল বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাতে করোনা সংক্রমণে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়, তার জন্য কমিশনকেও ফের একবার ভোটে পরের দফাগুলি কমিয়ে আনার অনুরোধ করেন। মমতা বলেন, ‘অন্তত শেষ দু’টি দফা যদি একসঙ্গে করে দেওয়া যায় তাতেও কিছুটা হলে সংক্রমণ কমবে।’

করোনা পরিস্থিতির কথা বিচার করে, কলকাতা শহরে আর কোনও ভোট প্রচার কর্মসূচি করবেন না বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধুমাত্র ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিন ২৬ এপ্রিল তিনি একটি ‘সিম্বলিক মিটিং’ করবেন। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, ইতিমধ্যেই তিনি বিভিন্ন জেলায় তাঁর যাবতীয় কর্মসূচির সময়ও কমিয়ে ফেলছেন। শহরের বাইরে সমস্ত জনসভা ও কর্মসূচি আধ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ করবেন তিনি, এমনটাই তৃণমূল সূত্রের খবর। গতকাল, রবিবার রাতেই এই বার্তা দিয়েছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.