এম এ ইংলিশ চা-ওয়ালি! স্নাতকোত্তরের পরও জোটেনি চাকরি, চায়ের দোকান খুললেন তরুণী

এম এ ইংলিশ চা-ওয়ালি! স্নাতকোত্তরের পরও জোটেনি চাকরি, চায়ের দোকান খুললেন তরুণী
এম এ ইংলিশ চা-ওয়ালি! স্নাতকোত্তরের পরও জোটেনি চাকরি, চায়ের দোকান খুললেন তরুণী

দিনের পর দিন দেশে বাড়ছে কর্মহীনের সংখ্যা। বিশেষ করে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে এই সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার পরও চাকরি পাচ্ছেন না দেশ তথা রাজ্যের অজস্র তরুণ-তরুণী৷ ফলে অনিশ্চয়তা ও হতাশা মধ্যেই দিন কাটছে তাঁদের। তবে কিছু কিছু জন এই হতাশা কাটিয়েই জেগে উঠছেন নতুন উদ্যোমে। মানসিক জেদ আর ইচ্ছাশক্তির জোরে আগামী জন্য নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাঁরা। সেরকমই একজন হলেন উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার কৈপুকুরের বাসিন্দা টুকটুকি দাস।

বছর ছাব্বিশের টুকটুকি হাবড়া শ্রীচৈতন্য কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক। এরপর রবীন্দ্রভারতী বিশ্বভারতী থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তরও পাশ করেছেন তিনি। তবে এরপরও জোটেনি চাকরি। সরকারি চাকরি তো দূর অস্ত, বেসরকারি কোনও সংস্থাতেও কাজের ঠিকমতো সুযোগ হয়নি তাঁর। বাবা প্রশান্ত বাড়িতেই মুদির দোকান চালান। সংসার টানতে মাঝে মধ্যে ভ্যানরিকশাও চালাতে হয়। ফলে একপ্রকার হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। তবে মনের জোর হারাননি। আর সেই মনের জোর আর জেদকে সম্বল করেই শুরু করেন জীবন সংগ্রামের নতুন লড়াই।

এম এ ইংলিশ চা-ওয়ালি! স্নাতকোত্তরের পরও জোটেনি চাকরি, চায়ের দোকান খুললেন তরুণী
এম এ ইংলিশ চা-ওয়ালি! স্নাতকোত্তরের পরও জোটেনি চাকরি, চায়ের দোকান খুললেন তরুণী

একদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘাঁটতে ঘাঁটতে আচমকাই নজরে আসে ‘প্রফুল্ল বিল্লরে এমবিএ চা ওলার’ কাহিনী। তা দেখেই একপ্রকার অনুপ্রাণিত হন টুকটুকি। চাকরি না পাওয়ার হতাশা ভুলেই দিন কয়েক আগে এক বছরের জন্য ভাড়া নেন হাবড়া স্টেশনের দুই নম্বর প্লাটফর্মের ছোট্ট একটি দোকান। সেখানেই বিভিন্ন স্বাদের চা বিক্রি শুরু করেছেন তিনি। ক্রেতা টানতে সন্ধ্যের দিকে চায়ের সঙ্গে সিঙ্গারাও বিক্রি করছেন তিনি। পরবর্তীতে মোমো বা এধরনের জনপ্রিয় কিছু খাবারও সেই তালিকায় থাকবে বলে জানিয়েছেন টুকটুকি। অবশ্য চায়ের স্বাদ কেমন তা বোঝানোর জন্য দোকান উদ্বোধনের দিন প্রথম দু’ঘণ্টা একেবারে বিনামূল্যে চা খাওয়ানো হয় স্টেশনে ট্রেন ধরতে আসা নিত্যযাত্রীদের। তবে ধীরে ধীরে তাঁর দোকানে বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যা।

এম এ ইংলিশ চা-ওয়ালি! স্নাতকোত্তরের পরও জোটেনি চাকরি, চায়ের দোকান খুললেন তরুণী
এম এ ইংলিশ চা-ওয়ালি! স্নাতকোত্তরের পরও জোটেনি চাকরি, চায়ের দোকান খুললেন তরুণী

চায়ের দোকানের জমকালো একটি নামও দিয়েছেন ওই তরুণী। ‘এম এ ইংলিশ চা-ওয়ালি’। একটি নামের মাধ্যমেই নিজের জীবন সংগ্রাম তুলে ধরেছেন টুকটুকি। যদিও পরিবার থেকে প্রথমে তরুণীর চায়ের দোকান করা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। পরে টুকটুকি ইউটিউবে চা বিক্রেতা বিভিন্ন মানুষের ভিডিও দেখিয়ে পরিবারকে বোঝান এভাবেও স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব। তা দেখে মেয়ের এই সিদ্ধান্তকে একপ্রকার স্বাগত জানিয়েছে পরিবার। চাকরি না পাওয়ার যন্ত্রণা ভুলেই আপাতত নিজের চায়ের দোকানে মজে টুকটুকি। এভাবেই ধীরে ধীরে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠতে চান তিনি। কে বলতে পারে, আগামীতে হয়তো টুকটুকিই হয়ে উঠবেন রাজ্য তথা দেশের অন্যতম এক অনুপ্রেরণা। বছর ছাব্বিশের এই দৃঢ়চেতা তরুণীর জন্য রইল একরাশ শুভেচ্ছা।