দিলীপের দাবী করোনা হয়েছে মদন মিত্রের, পাল্টা দিলেন দিলেন মদনও

দিলীপের দাবী করোনা হয়েছে মদন মিত্রের, পাল্টা দিলেন দিলেন মদনও

করোনা আক্রান্ত হয়ে তৃণমূল নেতা তথা ফলতার বিধায়ক তমোনাশ ঘোষের মৃত্যু হল। গত একমাস ধরে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল কালীঘাটের বাসিন্দা ওই বিধায়কের। কয়েকদিন ধরেই তার অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। এদিন তার চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন যে তমোনাশ বাবুর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার কারণে মৃত্যু হয় এই ৬৪ বছর বয়সী নেতার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ ৩৫ বছরের নিজের সতীর্থকে হারানোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

মমতা তাঁর অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডেলে এদিন টুইট করে লেখেন, ৩ বারের বিধায়ক ছিলেন তমোনাশ ঘোষ। সেই সঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের কোষাধক্ষ্যের পদেও ছিলেন। তৃণমূলের জন্ম লগ্ন থেকেই ওই দায়িত্ব সামলান তিনি। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও শোক প্রকাশ করেছেন সতীর্থের মৃত্যুতে। অন্যদিকে এদিন প্রয়াত এই তৃণমূল নেতাকে দেখতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তমোনাশ বাবু ছাড়াও তৃণমূলের বেশকিছু মন্ত্রী নেতাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মধ্যে একজন মন্ত্রী তথা বিধায়ক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আরো এক হেভিওয়েট নেতারও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের চাঞ্চল্যকর দাবী যে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা মদন মিত্র ও তার পরিবার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। দিলীপ বাবু এদিন তমোনাশ ঘোষের মৃত্যুতে রাজ্য সরকারের দিকেই আঙুল তুলেছেন। সেই সঙ্গে রাজু বিজেপির শীর্ষ এই নেতা সকলকে অনুরোধ করেছেন কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম বিধি মেনে চলারও। এদিন দিলীপ বাবু বলেন, “তৃণমূল সরকারের কোনও ক্ষমতাই নেই, নিজের লোককেই বাঁচাতে পারল না। দায়িত্বজ্ঞানহীন। মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর নেতা মন্ত্রীরা লকডাউন ভেঙে রাস্তায় ঘুরে বেরিয়েছেন। আর কেস খাচ্ছি আমরা। রাজ্যের এক মন্ত্রী, সুজিত বসু করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। সৌভাগ্যবশত তিনি ফিরে এসেছেন। সুস্থও। শোনা যাচ্ছে মদন মিত্র ও তাঁর পরিবারের করোনা হয়েছে।” এদিন দিলীপবাবু এই স্বীকার করেন যে বিজেপিরও কিছু কর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই দাবীকে উড়িয়ে দিয়েছেন মদন মিত্র স্বয়ং। রাজ্যের এই প্রাক্তন মন্ত্রী জানিয়েছেন, “করোনা পজিটিভ নই। একমাত্র বিজেপি পজিটিভ হলেই আমাদের শরীর ছটফট করে।” মদন মিত্র দাবী করেছেন যে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে করোনা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেছেন। দিলীপ বাবুকে কটাক্ষ করে মদন মিত্র বলেন, “আমার দিকে না দেখে গুজরাতের দিকে তাকান।”

আরও পড়ুনঃ  ফের উত্তপ্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর, পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে বাসিন্দাদের

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.