নতুন করে করোনার আক্রমণ মহারাষ্ট্রে! মুম্বই শহরব্যাপী বন্ধ স্কুল-কলেজ, ৩১ মার্চ পর্যন্ত

নতুন করে করোনার আক্রমণ মহারাষ্ট্রে! মুম্বই শহরব্যাপী বন্ধ স্কুল-কলেজ, ৩১ মার্চ পর্যন্ত
নতুন করে করোনার আক্রমণ মহারাষ্ট্রে! মুম্বই শহরব্যাপী বন্ধ স্কুল-কলেজ, ৩১ মার্চ পর্যন্ত / ছবি সৌজন্যেঃ Facebook Post By @Wbdhfw (Representative Image)

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশব্যাপী চলছে দ্বিতীয় দফার করোনা টিকাকরণ প্রক্রিয়া। এদিকে হঠাৎ করেই দেশের মধ্যে কয়েকটি রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। ক্রমশ বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এই মুহূর্তের কয়েকটি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি কেন্দ্রের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি যে মুহূর্তে ঠিক হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়, মানুষের করোনা বিধিনিষেধ মানায় ঢিলেমি দিতেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করেছে বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।

এদিকে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর, প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা দিলেও পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। যত দিন যাচ্ছে, ক্রমশ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই আবহে বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন এবং রাতে কার্ফু জারি করা হয়েছে।

ক্রমশ উদ্বেগের এবং ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে পরিসংখ্যান। এক বছর আগের মহামারীর স্মৃতিতে ফের কাঁপছে মহারাষ্ট্র। মহারাষ্ট্রের নতুন করে করোনা থাবা বসিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন বা আংশিক লকডাউন ঘোষণার পরেও শুক্রবার ফের নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে মহারাষ্ট্রে। এই নিয়ে পরপর তিনদিন করোনার বাড়বাড়ন্ত লক্ষ করা গেল। নতুন করে মহারাষ্ট্রের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৮১৭ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২৮২১৯১ জন। মৃতের সংখ্যা ৫২৭২৩ জন।

এদিকে ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গার উদ্বেগজনক করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত নাগপুরে সম্পূর্ণ লকডাউনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী লকডাউনে সরকার যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, এখানেও সেই নির্দেশ বলবৎ থাকবে। শুধুমাত্র অত্যাবশকীয় পরিষেবায় চালু থাকবে। শেষ একমাসে মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের বাড়বাড়ন্ত দেখেই, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। পাশাপাশি পুনেতেও আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পুনেতে নতুন করে ১৮৪৫ জনের শরীরে করোনার জীবাণু পাওয়া গিয়েছে।

মুম্বই শহরব্যাপী স্কুল-কলেজ বন্ধ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ৩১ মার্চের পর স্কুল খুলবে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। পুনেতেও ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ। পুনেতে কার্ফু জারি হতে চলেছে রাত্রি ১১ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত। অন্যদিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বারো রাত ১০ টার মধ্যে বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবার সেখানে ৫০ শতাংশ মানুষ ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এছাড়া সকাল ১০ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত হোম ডেলিভারির সুবিধা মিলবে। আর শপিং মল, বাজার ও সিনেমা হল রাত রাত ১০ টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশও রয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত বুধবার ১৩৬৫৯ জন, বৃহস্পতিবার ১৪৩১৭ জন করোনায় আক্রান্ত হন। যদিও শুক্রবার হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১৩৪৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ২১১৭৭৪৪ জন। এদিকে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর, প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা দিলেও পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। যত দিন যাচ্ছে, ক্রমশ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

উল্লেখ্য, গত বছরই অক্টোবর মাসে ১৫ হাজার সংক্রমণের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকেই ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করে। তবে, ফের একবার করোনা সংক্রমণ নতুন করে চাগাড় দিয়ে উঠছে।

মানুষ যদি সাবধান এবং সতর্ক না হয় এখনও, সেক্ষেত্রে রাজ্যজুড়ে ফের জারি করা হতে পারে লকডাউন। নাগপুরে লকডাউন ঘোষণার পর এমনটাই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। কারণ মহারাষ্ট্রে এই মুহূর্তে যেভাবে করোনার প্রকোপ বাড়ছে, তাতে আবার লকডাউনের ভাবনাচিন্তা পুরোপুরি অস্বীকার করা যাচ্ছে না বলেও তিনি আগেই জানিয়েছেন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.