নির্বাচনী বিধিভঙ্গের জের, আগামী ২৪ ঘণ্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি কমিশনের!

নির্বাচনী বিধিভঙ্গের জের, আগামী ২৪ ঘণ্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি কমিশনের!
নির্বাচনী বিধিভঙ্গের জের, আগামী ২৪ ঘণ্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি কমিশনের!

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগামী ২৪ ঘণ্টার নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করল নির্বাচন কমিশন। আজ, অর্থাৎ সোমবার রাত ৮ টা থেকে কাল রাত ৮ টা পর্যন্ত জারি থাকবে এই নিষেধাজ্ঞা। অতীতে কখনও এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তাই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত এককথায় নজিরবিহীন।

পাঁচ পাতার বিবৃতি জারি করে, কমিশন জানিয়েছে যে, আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন তৃণমূল নেত্রীর বিভিন্ন মন্তব্য রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্যের জেরে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার জেরে, আগামী ২৪ ঘণ্টা নির্বাচনী প্রচার করতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে স্বাভাবিকভাবেই কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর বিজেপি কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

আজ এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর, তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন যে, কমিশন বিজেপির শাখা সংগঠন হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অপর নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষে কালো দিন। এদিকে যার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, সেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক এবং অসাংবিধানিক।

উল্লেখ্য, ১৭ তারিখ রাজ্যে পঞ্চম দফার নির্বাচন। আর পঞ্চম দফার নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে বলা হয়েছে কমিশনের তরফে। এদিকে আজ কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে, পঞ্চম দফার জন্য আর নির্বাচনী প্রচার করতে পারবেন কিনা! সেক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।

কোন ঘটনা বা মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এই নিষেধাজ্ঞা? কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। একটি মন্তব্য ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট সংক্রান্ত, অপর মন্তব্যটি ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও প্রসঙ্গে। তাঁর এই দুই মন্তব্যের জেরে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে বলে কমিশনে অভিযোগ করেছিলেন বিরোধীরা।

এরপরেই ৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন তৃণমূল নেত্রীকে শো-কজ করে। এই শো-কজের জবাব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশন জানাচ্ছে, তৃণমূল নেত্রীর সেই জবাবে কোনোভাবেই সন্তুষ্ট হতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। তাঁদেরও আরও দাবি, তৃণমূল নেত্রী কমিশনের বাছাই করা কিছু অংশের জবাব দিয়েছেন। তাই শেষপর্যন্ত কমিশনের এই কড়া সিদ্ধান্ত।

নির্বাচন কমিশনের আজকের এই সিদ্ধান্তকে বেনজির বলে দাবি করেছে ওয়াকিবহালমহল। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের কংগ্রেসের জন্য শাপে বর হল, নাকি আখেরে ক্ষতিই হল, তা বলবে সময়। তবে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল দুপুর ১২ টার সময়, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধর্নায় বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, আগামীকাল রাত ৮ তা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী প্রচার করতে না পারলেও, কাল রাত ৮.৩০-এ ডাবগ্রামের ফুলবাড়িতে নির্বাচনী প্রচার করবেন তৃণমূল নেত্রী। যা করার কথা ছিল সকালে। তেমনটাই জানিয়েছেন গৌতম দেব।