‘বিজেপির কথায় চলছে নির্বাচন কমিশন’, বোলপুরের ভার্চুয়াল সভা থেকে অভিযোগ মমতার

‘বিজেপির কথায় চলছে নির্বাচন কমিশন’, বোলপুরের ভার্চুয়াল সভা থেকে অভিযোগ মমতার
‘বিজেপির কথায় চলছে নির্বাচন কমিশন’, বোলপুরের ভার্চুয়াল সভা থেকে অভিযোগ মমতার

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ  বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনের এখনও দুই দফার ভোট বাকি। এদিকে করোনা আবহে রাজনৈতিক সভা, মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই ভার্চুয়াল বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আজ শনিবার, বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল এবং জেলার ১১ জন প্রার্থীকে নিয়ে ভার্চুয়াল সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন বৈঠকের শুরুতেই তিনি বর্তমান করোনা পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দায়ী করেছেন। এই সভা থেকে তিনি ফের একবার প্রধানমন্ত্রীকে তুলোধোনা করেন। এর পাশাপাশি ভোটের সময় অনুব্রত মণ্ডলকে নজরবন্দী করে রাখার প্রসঙ্গে বলেন যে, এটা বেআইনি কাজ।

আজকের ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন যে, ‘কমিশনের কাছে কোনও বিচার আমরা পাচ্ছি না। বিজেপি-র কথা উঠছে-বসছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপির কথাতে ভোট করাচ্ছে ওরা। আমি বলেছিলাম বাকি দুটো দফা একসঙ্গে করে নির্বাচন প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শেষ করে দিন। করোনা পরিস্থিতি খুব খারাপ। কিন্তু, বিজেপি-র কথা শুনে ৮ দফায় নির্বাচন করছে নির্বাচন কমিশন।’ যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কমিশনের বিরুদ্ধে এই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ শুরু থেকেই আছে। তিনি বারবার এই অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপির কথা মতোই চলছে কমিশন। এদিনও সেই একই অভিযোগ শোনা গেছে তাঁর মুখে।

তিনি আরও বলেন যে, ‘বাইরে থেকে লক্ষ লক্ষ লোক আনা হয়েছে। তাছাড়া, বাংলায় এই মুহূর্তে রয়েছে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাঁরা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাঁরাই করোনা ছড়াচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কারও করোনা টেস্ট করা হয়নি।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, শুধু বিজেপি যাতে বাংলা দখল করতে পারে, তাই জন্যই এখানে এতো দফায় ভোট করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি কার নির্দেশে ঠিক কী ঘটছে। সব খবর পাই আমি। বিজেপি এমন করছে যেন জিতে গিয়েছে। কমিশনের থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, আমার দলের নেতাদের নির্বাচনের আগে গ্রেফতার করা হোক। আমার কাছে সব কিছুর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট আছে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এদিন তিনি উপ-নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈনের সঙ্গে জেলা পুলিশ আধিকারিকদের একাংশের কথোপকথনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রকাশ্যে আনেন। সাংবাদিকদের সামনে সেই তথ্য এনে, নির্বাচন কমিশন কীভাবে পক্ষাপাতমূলক কাজ করছে, তাও বলার চেষ্টা করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রত্যেক দফা ভোটের আগে তৃণমূলের দাপুটে নেতা-ঘনিষ্ঠদের নজরবন্দী কিংবা আটক করা নিয়ে, তাঁদের কথোপকথন ভাইরাল হয়েছে, অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী।

পাশাপাশি এ নিয়ে পুলিশমহলের একাংশের উপরও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তিন এও বলেন যে, ‘ডিএম, এসপি-রাও তাঁবেদারি করছে বিজেপির। এখন কিছু বলব না, যা বলার ভোটের পর বলব। ৭০ টা সিটও পাবে না বিজেপি।’ এদিন তিনি বোলপুরের ভার্চুয়াল প্রচার সভা থেকে স্পষ্ট জানালেন, ‘ভোটের পরই নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাব।’

তবে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, আজকের ভার্চুয়াল নির্বাচনী সভায়, এই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস করে, আসলে তৃণমূল নেত্রী বিজেপির উপর পালটা চাপ দিয়ে রাখলেন আগাম। যা আগামী এবং শেষ ২ দফার ভোটে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন তাঁরা।

অন্যদিকে, এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, ‘আমরা শিল্পের কাজে ব্যবহার হওয়া অক্সিজেন রোগীদের কাজে ব্যবহার করব। আমরা কেন্দ্রের কাছে আবেদন করছি টিকার দাম এক রাখুন। সমস্ত নাইট্রোজেন ও অন্যান্য ট্র্যাঙ্কারগুলোকে অক্সিজেন লোডিং করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.