‘বিজেপি হিংসুটে দল, বাংলা এগিয়ে যাচ্ছে দেখে বিজেপির হিংসা হচ্ছে’: মমতা

'বিজেপি হিংসুটে দল, বাংলা এগিয়ে যাচ্ছে দেখে বিজেপির হিংসা হচ্ছে': মমতা
'বিজেপি হিংসুটে দল, বাংলা এগিয়ে যাচ্ছে দেখে বিজেপির হিংসা হচ্ছে': মমতা / ছবি সৌজন্যে- Screengrab from Facebook Video Posted By @MamataBanerjeeOfficial (1)

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ খড়গপুরে নরেন্দ্র মোদীর সভার দিনই পূর্ব মেদিনীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা। পরপর তিনটি জনসভা হয়। একটি হলদিয়ার সুতাহাটায়, একটি খেজুরির বামনচকে এবং শেষ সভাটি হয় পাঁশকুড়ার মেচোগ্রামে।

উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুর অধিকারীদের গড় হিসেবেই পরিচিত। জেলায় দলীয় সংগঠনের জমি তৈরি করতে একসময় অধিকারী পরিবারের উপরেই নির্ভরশীল ছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই হিসেব উল্টে যায়, তৃণমূল ছেড়ে অমিত শাহর সভায় শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই। তাই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে অধিকারী পরিবারই এখন তৃণমূলনেত্রীর তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ।

গতকাল পূর্ব মেদিনীপুরে নির্বাচনী প্রচার চালান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এগরা, পটাশপুর ও মেচেদায় পরপর জনসভা করেন তৃণমূলনেত্রী। অধিকারী পরিবারের জেলায় দাঁড়িয়ে নাম না করে, দলত্যাগীদের উদ্দেশে কড়া আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ হলদিয়ার পাশাপাশি খেজুরিতেও সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি সভা থেকে অভিযোগের সুরে বলেন যে, ‘আমাকে এই জেলায় আসতে দেওয়া হতো না। এখন আমি সব জায়গায় যাই, কেউ বাধা দিতে পারে না। কে বাধা দেবে আমায়, তোমরা কে হরিদাস। দলত্যাগীরা বিশ্বাসঘাতক, গদ্দার। আমার সঙ্গে থাকতে থাকতেই বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক রাখত।’

তিনি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন যে, ‘বিজেপি হিংসুটে দল। বাংলা এগিয়ে যাচ্ছে বলে বিজেপির হিংসা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ৫০০ টাকা চুরি করলে, তাদের তোলাবাজ বলছে, আর বিজেপি নিজে কোটি কোটি টাকা চুরি করছে।’ তিনি সভায় চড়া গলায় প্রশ্ন তোলেন যে, ‘পিএম কেয়ার্সের টাকা কোথায় গেল কোথায়? বেসরকারিকরণ করে কত টাকা আসছে তার জবাব দিতে হবে বিজেপিকে। কয়েকজনকে উজ্জ্বলার গ্যাস দিয়েছিল লোকসভা ভোটের আগে। এখন সব টাকা বিজেপির নেতারা খেয়ে নিয়েছে।’

এর পাশাপাশি তিনি দাবি করেন যে, ‘আমার দেওয়া বিনামূল্যের চাল ফুটিয়ে খেতে ৮০০ টাকায় গ্যাস কিনতে হচ্ছে। কৃষকদের জমি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজেপি ভোট পাবে না, হেরে যাবে। রাজনৈতিক খেলা হবে।’

পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে নির্বাচনী জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, ‘টিকিট সবাই পায় না। কিন্তু টিকিট না পেয়েও যাঁরা দলের কাজে নিবেদিতপ্রাণ, তাঁরাই আসল সম্পদ।’ এভাবেই আজ দলের কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি খেজুরির বর্তমান বিধায়ক, দলবদলকারী রণজিৎ মণ্ডলের কথাও উল্লেখ করেন। নাম না করে তিনি বলেন, ‘খেজুরির যিনি বিধায়ক, আমাদের দলের, ওর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ কানে এসেছিল। তারপর ও গদ্দারি করে। তাই এবার ওকে টিকিট দিইনি। পার্থপ্রতিম দাসকে টিকিট দিয়েছি। আপনারা ওকে জেতান, খেজুরিতে যে কাজ বাকি আছে, তা ও করে দেবে। আমি বলে যাচ্ছি।’  শুভেন্দু অধিকারীরও নাম না করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের বলেন যে, ‘২০১৪ থেকে চোখে চোখে, কানে কানে কথা হতো ওদের। কত বড় গদ্দার!’

উল্লেখ্য, এর আগেও বহুবার শুভেন্দু অধিকারী প্রসঙ্গে এই অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বারবার বলেছেন যে, শুভেন্দু অধিকারী দলের সঙ্গে গদ্দারি করেছেন। আর এবার বাংলায় ভোটের আবহে আরও বেশি করে শুভেন্দুর বিরুদ্ধেই সুর চড়ছে ঘাসফুল শিবিরে। কারণ, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবারের লড়াইয়ে দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ– মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী।

এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর গড় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় টানা দু’দিন ধরে সভা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পায়ে আঘাত নিয়েই তিনি একের পর এক সভা করে চলেছেন। আজ তৃণমূল নেত্রী পাঁশকুড়ার সভায় বলেন যে, ‘ডিজেল, পেট্রোলের দাম বাড়াচ্ছে কেন্দ্র। বলছে তৃণমূল লোকের থেকে টাকা নেয়, তুমি সবথেকে বড় ডাকাত, লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা নিচ্ছে। কোভিডের নামে এল টাকা, মোদি করল ফাঁকা।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ‘নোটবাতিল করেছে, ব্যাঙ্কগুলো বিক্রি করে দিচ্ছে, রেল বিক্রি করে দিচ্ছে, জীবনবিমা, এয়ার ইন্ডিয়া, কোল ইন্ডিয়া বিক্রি করে দিচ্ছে। আর নিজের নামে স্টেডিয়াম বানাচ্ছে।’

পাঁশকুড়ার সভায় প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমরা বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেছি কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার অনুমতি দিচ্ছে না, কাজ হয়ে গেলে পাঁশকুড়া বন্যায় আর ডুববে না।’ অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন যে, ‘বিজেপি প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না। তাই সাংসদদের প্রার্থী করেছে বিজেপি।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ‘হলদিয়ায় আগে কয়েকজনের তাণ্ডব চলত। গদ্দার, মিরজাফররা চলে গেছে, বেঁচে গেছি। আগে পূর্ব মেদিনীপুরে আসতে দেওয়া হত না। এখানে আগে গদ্দারদের জমিদারি চলত। করে খাওয়ার জন্য আজ বিজেপিতে গেছে। বলছে ২০১৪ থেকে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ। বাংলা এগিয়ে গেছে বলে বিজেপির হিংসা হচ্ছে।’ তিনি খেজুরির সভায় বলেন যে, ‘বাংলায় এনপিআর করতে দেওয়া হবে না। এখন ৭দিনের মধ্যে কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। দুয়ারে সরকারে আবেদনের মধ্যে দিয়ে আরও ২৫ লক্ষ বাড়ি হবে।’

খেজুরির সভায় তিনি বলেন, ‘হলদিয়ায় আগে কয়েকজনের তাণ্ডব চলত। গদ্দার, মিরজাফররা চলে গেছে, বেঁচে গেছি। আগে পূর্ব মেদিনীপুরে আসতে দেওয়া হত না। এখানে আগে গদ্দারদের জমিদারি চলত। করে খাওয়ার জন্য আজ বিজেপিতে গেছে। বলছে ২০১৪ থেকে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ। বাংলা এগিয়ে গেছে বলে বিজেপির হিংসা হচ্ছে।’

খেজুরির সভায় তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘সরকারে এলে দ্বিগুণ শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। জেলায় জেলায় মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করা হবে। জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্পে ৫ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে, কাউকে  রাজ্যের বাইরে যেতে হবে না।’ খেজুরির সভায় তিনি এও বলেন যে, ‘বাংলায় এসে বড়বড় কথা বলছেন মোদি। ৭ বছর সরকারে থেকে কী করেছেন? নিজের নামে স্টেডিয়াম করেছেন। এরপর হয়ত দেশটাও নিজের নামে করে নেবেন।‘ পাশাপাশি এও বলেন, ‘খেজুরি, চণ্ডীপুর পাশে না থাকলে, নন্দীগ্রাম আন্দোলন সফল হত না। তেখালি ব্রিজে আমাকে লক্ষ্য করে গুলিও করা হয়।‘

আজ নির্বাচনী সভা থেকে মোদীর প্রতিটি আক্রমণের জবাব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ফের অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.