বছরে চারবার দুয়ারে সরকার, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জাত-ধর্ম নির্বিশেষে বিধবা ভাতা! প্রকাশিত হল তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তেহার

বছরে চারবার দুয়ারে সরকার, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জাত-ধর্ম নির্বিশেষে বিধবা ভাতা! প্রকাশিত হল তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তেহার
বছরে চারবার দুয়ারে সরকার, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জাত-ধর্ম নির্বিশেষে বিধবা ভাতা! প্রকাশিত হল তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তেহার / ছবি সৌজন্যে- Screengrab from Facebook Video Posted By @MamataBanerjeeOfficial

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ অবশেষে আজ কথা মত প্রকাশিত হল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। অনেক বাধা অতিক্রম করে ভোটের মুখে প্রকাশিত হল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার।

তৃণমূল ভবন থেকে এই ইস্তেহার প্রকাশ করলেন তৃণমূলের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নির্বাচনী ইস্তেহারে রয়েছে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি। এবার দেখা নেওয়া যাক কী কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এই ইস্তেহারে।

তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তেহারে বলা হয়েছে, ১) প্রতি বছরে চারবার করে দুয়ারে সরকার। সব সমস্যার সমাধান হবে।

২) ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জাত-ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেক বিধবাকে ১০০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

৩) দুয়ারে দুয়ারে রেশন পৌঁছে দেওয়া হবে। দেড় কোটি পরিবারে পৌঁছে দেওয়া হবে রেশন।

৪) বাংলার প্রতিটি পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ১.৬ কোটি পরিবারের কর্ত্রীকে মাসিক ৫০০ টাকা এবং কৃষক বন্ধু প্রকল্পে ৬৮ লক্ষ কৃষককে প্রতি বছর দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

৫) রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। এক্ষেত্রে কোনও জামিনদার লাগবে না। এক্ষেত্রে সরকারই জামিনদার। পাওয়া যাবে ১০ লক্ষ টাকা।

৬) মণ্ডল কমিশনের রিপোর্ট কার্যকর করার লক্ষ্যে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। মাহিষ্য, তিলি, তামুলি, সাহা, কিষাণদের ওবিসি ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

৭) ১০ লক্ষ এমএসএমই ইউনিট গড়ে তোলা হবে। বড় শিল্পে বিনিয়োগ করা হবে। জঙ্গলমহল শিল্পনগরীতে ৬৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প।

৮) তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তেহারে বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে বলা হয়েছে, ৫ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান হবে। বেকারত্বের হার অর্ধেক কমিয়ে ফেলা হবে।

৯) দারিদ্রসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হবে।

১০) বাংলা আবাস যোজনার মাধ্যমে ২৫ লক্ষ অতিরিক্ত বাড়ি তৈরি করব। এই সুবিধা বিশেষ করে তপশিলি জাতি ও উপজাতিদের দেওয়া হবে।

এছাড়াও নির্বাচনী ইস্তেহারে বলা হয়েছে, পাহাড়ে স্থায়ী-শান্তি রাখার জন্য স্পেশাল ডেভলপমেন্ট বোর্ড গঠন করা হবে। বলা হয়েছে, সারা বিশ্বে একনম্বর হয়েছে বাংলা অনেক কাজ। রাষ্ট্রসঙ্ঘে স্বীকৃতি পেয়েছে কন্যাশ্রী। সবুজসাথী প্রকল্প সাফল্য লাভ করেছে। ১০০ দিনের কাজে বাংলা এক নম্বরে। সারা ভারতে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব বেড়েছে। বাংলা ৪০ শতাংশ দারিদ্র্য কমিয়েছে।

উল্লেখ্য, এর মধ্যে ইস্তেহারে ঘোষিত দুয়ারে রেশন অর্থাৎ প্রত্যেক ঘরে ঘরে রেশন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা আগেই নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পাশাপাশি ইতিমধ্যেই জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া নিয়ে করা পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যে কোনও মূল্যে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে যে, জাতিগত শংসাপত্র পেতে যেন কোনও সমস্যা না হয়। এই নির্দেশের পর থেকেই কয়েক লক্ষ শংসাপত্র দেওয়ার কাজ শুরু হয় দুয়ারে সরকার প্রকল্পের আওতায়। একথা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন। তাছাড়া এই বিষয়টিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তেহারেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন যে, বামপন্থী বন্ধুরা যেন তাঁদের ভোটটা নষ্ট না করেন। ভোটটা তৃণমূলকে দেওয়ার আবেদন করেন। দাবি, বিজেপিকে আটকাতে পারবে একমাত্র তৃণমূল।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.