‘প্রাণনাশের হুমকি রয়েছে! পুনর্গণনার নির্দেশ দিতে ভয় পাচ্ছেন নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসার,’: মমতা

‘প্রাণনাশের হুমকি রয়েছে! পুনর্গণনার নির্দেশ দিতে ভয় পাচ্ছেন নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসার,’: মমতা
‘প্রাণনাশের হুমকি রয়েছে! পুনর্গণনার নির্দেশ দিতে ভয় পাচ্ছেন নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসার,’: মমতা

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোট মিটে গেছে, ফলাফলও ঘোষণা হয়েছে। এই নিয়ে তৃতীয়বার বাংলার শাসন ক্ষমতায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন হল, আগের থেকেও অধিক আসনে জিতে। বিজেপির ‘সোনার বাংলা’ এবং ‘আসল পরিবর্তন’ গড়ার স্বপ্ন এবারের মতো স্বপ্নই থেকে গেল।

এতো কিছুর পরেও নন্দীগ্রাম নিয়ে তরজা কিছুতেই যেন থামতে চাইছে না। আজ দুপুরে কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তৃণমূল ভবনে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও খবর। বৈঠকে থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন দুপুরে কালীঘাটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, দলীয় কার্যালয়ে শপথগ্রহণ ও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হবে। শান্তি বজায় রাখার আর্জিও জানিয়েছেন মমতা। বললেন, ‘হিংসা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোভিড অতিমারীর সময় মানুষের পাশে থাকতে হবে। শান্ত থাকুন ,অভিযোগ থাকলে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। শান্তি-শৃঙ্খলার দায়িত্ব পুলিশের। সন্ধে সাতটায় রাজভবনে যাচ্ছি।’

অন্যদিকে, এদিন নন্দীগ্রামের ফলাফল নিয়ে ফের একবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্র শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এই কেন্দ্রে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন একদা তাঁর সৈনিক শুভেন্দু অধিকারী। শেষ অবধি এই কেন্দ্রে জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এই ফল মানতে রাজি নয়, তৃণমূল। ফল প্রকাশিত হওয়ার পরই পুনর্গণনার দাবি জানায় তাঁরা। কিন্তু শেষমেষ কমিশন তাতে রাজি হয়ন। এই পরিস্থিতিতে আজ সাংবাদিকদের সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, পুর্নগণনা হলে রির্টানিং অফিসারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বিজেপির তরফে।

এই দাবি করে, রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির মেসেজের কথোপকথন তুলে ধরেন তিনি। যেখানে বলা রয়েছে, ‘বন্দুকের নলের মুখে কাজ করতে হচ্ছে। পুনর্গণনার নির্দেশ দিলে, প্রাণে মেরে ফেলা হতে পারে আমাকে।’

ঠিক কার সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের ওই কথা হয়েছে, সে ব্যাপারে কিছু খোলসা করেননি মমতা। তবে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাবেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ না রিকাউন্টিং ঘোষণা হচ্ছে, ততক্ষণ ওখানে (হলদিয়াতে) যারা অবস্থান বিক্ষোভ করছেন তাঁরা করবেন। ভিভিপ্যাট, ব্যালট এবং ইভিএম আলাদা আলাদা করে সরিয়ে রাখতে হবে। তদন্ত করে দেখা হবে, সেগুলিতে কোনও বিকৃতি ঘটানো হয়েছে কি না। শুধু দেখতে হবে, ঐ ইভিএমগুলো যেন ট্যাম্পারিং না করা হয়। সারা রাজ্য এক হলো আর ওখানে আলাদা হয়ে গেল? আমাকে তো রাজ্যপালও ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়ছিলেন। তারপর কি হলো ওখানে। বিজেপির এবার লজ্জা পাওয়া উচিৎ।’ নন্দীগ্রামে ইভিএম পাল্টে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, ভোটপর্বে পুলিশ প্রশাসনের একটা অংশ বিজেপি-র হয়ে কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন মমতা। তাঁদের রাজধর্ম পালনের আর্জি জানান তিনি। ভোটপর্বে নির্বাচন কমিশনের আচরণও পক্ষপাতদুষ্ট ছিল বলে ফের মন্তব্য করেন মমতা।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ‘এখনই কোনো বড় অনুষ্ঠান করে শপথ নেবো না। ছোটো করে করবো।’ এও বলেন যে, ‘আমাকে অনেকেই ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমি বলেছি আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব আমি একা কেউ নই। আমাদের সবাইকে এক হয়ে লড়াই করতে হবে। তবে প্রথমে কোভিড মোকাবিলা করার দিকে নজর দিতে হবে। পরে না হয় অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আমরা একসাথে আলোচনা করব।’

ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে বলেন যে, ‘আমি ৩ কোটি ভ্যাকসিন চেয়েছি। যদি দেয় তাহলে এক কোটি বেসরকারি হাসপাতালে দিয়ে বাকি দুই কোটি ভ্যাকসিন রাজ্যের সব মানুষোকে বিনা পয়সায় দেওয়া হবে।’ অন্যদিকে এদিন বাম-কংগ্রেস প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, ‘ওরা নিজেদের এতটাই বিজেপির দিকে ঠেলে দিয়েছে যে নিজেরাই শূণ্য হয়ে গেছে। আমি চাইনি কেউ শূণ্য হয়ে যাক। ওরা কিছু থাকলেই ভালো হতো।’