গণতন্ত্রকে বাঁচাতে, একসঙ্গে লড়াইয়ে নামার সময় আগত, ভোটের মুখে অবিজেপি নেতাদের চিঠি মমতার!

গণতন্ত্রকে বাঁচাতে, একসঙ্গে লড়াইয়ে নামার সময় আগত, ভোটের মুখে অবিজেপি নেতাদের চিঠি মমতার!
গণতন্ত্রকে বাঁচাতে, একসঙ্গে লড়াইয়ে নামার সময় আগত, ভোটের মুখে অবিজেপি নেতাদের চিঠি মমতার!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাত পোহালেই নন্দীগ্রামে তাঁর ভাগ্য পরীক্ষা। সেই পরীক্ষা শুরুর আগেই, বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে, লড়াইয়ে নামার জন্য অবিজেপি নেতাদের একমঞ্চে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেই উদ্দেশ্যে আজ নন্দীগ্রামের ভোটের মুখে অবিজেপি নেতাদের চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠি দিলেন কংগ্রেসের সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী, শরদ পাওয়ার, এমকে স্টালিন, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, উদ্ধব ঠাকরে, হেমন্ত সোরেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, নবীন পট্টনায়েক, জগন রেড্ডি, কেএস রেড্ডি, ফারুক আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য প্রমুখকে।

এই চিঠির মূল কথা, গণতন্ত্র এবং সংবিধানের উপর বিজেপির-র আঘাতের প্রতিবাদে সকলকে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। আর সেই সময় আগত। চিঠির মূল বক্তব্য, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার দেশের সমস্ত অবিজেপি স্বরকে দমন করে, একটি কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী একদলীয় শাসনব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে একজোট হওয়া প্রয়োজন।

চিঠির শুরুতেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, কেন্দ্রের বিজেপি শাসিত সরকার দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নষ্ট করতে চাইছে। রাজ্য সরকারগুলিকে পুরসভার স্তরে নামিয়ে আনতে চাইছে তারা। চিঠির শুরুতেই তিনি দিল্লিতে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা খর্ব করার জন্য বিল পাশের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি লিখেছেন চিঠিতে যে, ‘২০১৪ ও ২০১৯ সালে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করেছিলেন আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তা মেনে নিতে পারেনি বিজেপি। তারা উপরাজ্যপালের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে। দিল্লির প্রশাসনিক ক্ষমতা সংক্রান্ত বিল আঘাত করেছে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয়। তবে, দিল্লি একমাত্র ব্যতিক্রমী নয়, গোটা দেশেই এটা করছে বিজেপি।’

উল্লেখ্য এটাই প্রথমবার নয়, বিজেপিকে ঠেকাতে এর আগেও অবিজেপি স্বরকে একজোট করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নোটবাতিল থেকে শুরু করে জিএসটি-প্রতি ক্ষেত্রেই বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত লোকসভা ভোটে ব্রিগেডে মমতার জনসভায় এসেছিলেন অবিজেপি নেতারা। তবে, সেই জোট বাস্তবে কার্যকরী হতে পারেনি। তার অন্যতম কারণ, এই রাজ্যেই আলাদা আলাদা লড়াই করেছে বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূল।

এবারের চিঠির ভাষায় তিনি স্পষ্ট করে ফের একবার বুঝিয়ে দিলেন বিধানসভা নির্বাচন সমাপ্ত হলেই, জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে সবশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চলেছে তৃণমূল। চিঠিতে সাত দফা অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। কী কী সেই সব অভিযোগ দেখে নেওয়া যাক।

১) রাজ্যপাল পদটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ- সহ একাধিক রাজ্যে এই পদটির অপব্যবহার করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি রাজ্যেই রাজ্যপাল নিজে একজন বিজেপির কর্মীর মতো আচরণ করছেন। এটি যে পক্ষপাতহীন ও সাংবিধানিক পদ, তা তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন।

২) অ-বিজেপি রাজ্যগুলিতে ইডি, সিবিআই -এর মত সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিকভাবে যথেচ্ছাচারে অপব্যবহার করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর মত রাজ্যে যখন নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে, তখনই ইডির মতো সংস্থাকে ব্যবহার করে, ডিএমকে এবং অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন নেতাদের হেনস্থা করা হচ্ছে বারবার। অথচ যে অভিযোগের জন্য তাঁদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে, সেইরকম ঘটনায় বিজেপি নেতাদের নাম এলেও, তাঁদের তলব করছে না সিবিআই বা ইডি।

৩) অবিজেপি রাজ্যগুলিতে বিভিন্ন খাতে কেন্দ্র থেকে রাজ্যের যে টাকা প্রাপ্য থাকে, তা দেওয়া হচ্ছে না। আটকে দেওয়া হচ্ছে। এর জেরে উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ থেমে যাচ্ছে।

৪) ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট কাউন্সিল, আন্তঃরাজ্য কাউন্সিল, পরিকল্পনা কমিশন এর মতো সংস্থাগুলিকে নীতি আয়োগের মতো নখদাঁতহীন একটি সংস্থায় পরিণত করে, আসলে রাজ্য সরকারগুলির দাবি-দাওয়া, চাহিদা রাখার জায়গাটাকে সংকোচিত করা করে দেওয়া হয়েছে।

৫) বিজেপি অন্যান্য অবিজেপির রাজ্য সরকার ফেলার জন্য এমন সমস্ত উৎস থেকে অর্থ জোগাড় করছে, যা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

৬) মোদি সরকার ক্রমাগত বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে। এই পদক্ষেপও গণতন্ত্রের ওপর একটা বড় আঘাত।

৭) স্বাধীনতার পর থেকে অতীতে রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্ক এত খারাপ কখনোই হয়নি, যা এই বিজেপি সরকারের আমলে হয়েছে। এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃত্ববাদী আচরণই দায়ী।

মমতা স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, বিজেপি চাইছে অ-বিজেপি দলগুলি যাতে তাদের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করতে না পারে। এক কথায় বিজেপি চাইছে একদেশ এক পার্টি শাসন ব্যবস্থা জারি করতে দেশজুড়ে। এর বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার সময় এসে গিয়েছে। তাঁর কথায়, আমরা চাইছি অবিলম্বে একই ধরনের মানসিকতার দলগুলি এক জায়গায় এসে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করুক এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে।

এককথায় বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প তৈরির ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই রাজ্যে ভোটপর্ব মিটলেই এনিয়ে সকলের সঙ্গে আগামীর পরিকল্পনা তৈরি করতে আগ্রহী তিনি।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.