‘লখিমপুরে রামরাজ নয়, কিলিং রাজ চলছে’, কৃষকমৃত্যুর ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথকে আক্রমণ মমতার

‘লখিমপুরে রামরাজ নয়, কিলিং রাজ চলছে’, কৃষকমৃত্যুর ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথকে আক্রমণ মমতার
‘লখিমপুরে রামরাজ নয়, কিলিং রাজ চলছে’, কৃষকমৃত্যুর ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথকে আক্রমণ মমতার

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরে কৃষকমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে যোগী সরকারের আগেই তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ফের কৃষকদের হত্যার অভিযোগ তুলে, ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের লখিম পুরে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের উক্ত এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি, অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মতোই।

লখিমপুরে কৃষক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে যোগী সরকারকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘লখিমপুরের ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। ডেপুটি হোম মিনিস্টারের ছেলে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলেছে। কোথাও গুলি চালিয়ে মেরে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও গাড়ি চাপা দিয়ে। আর তারপর ১৪৪ ধারা জারি করে দিচ্ছে। সোমবার তৃণমূলের তরফ থেকে চার সদস্যের দল গিয়েছেন সেখানে। যার মধ্যে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দোলা সেন, আবির রঞ্জন বিশ্বাস এবং সুস্মিতা দেব। কিন্তু, ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাথরাস কাণ্ডের সময়েও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অসম, ত্রিপুরা সবজায়গাতেই সমস্যা হলে ১৪৪ ধারা জারি করে দেওয়া হয়।’ যোগীর কি ইস্তফা দেওয়া উচিত? সংবাদমাধ্যমের এই প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি যোগীকে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘ইস্তফা সে দেয়, যাঁর দায়িত্ববোধ রয়েছে। যে নিজে রামরাজ-রামরাজ করছে, সে আর কী ইস্তফা দেবে! উত্তরপ্রদেশে রামরাজ নয়, কিলিং রাজ চলছে! লোককে মারছে, তারপর ১৪৪ ধারা জারি করছে। আর কী ভাবে কম্পেন্সেট করবে? এই ধরণের ঘটনাকে কম্পেন্সেট করা যায় না। বাংলায় ডেইলি প্যাসেঞ্জারী করছে! লখিমপুরের ঘটনা গণতন্ত্রের লজ্জা।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘বাংলার তো শান্তি রয়েছে। অথচ এখানে বারবার মানবাধিকার কর্মীরা আসেন। অথচ ডেপুটি হোম মিনিস্টারের ছেলেরা গাড়ি চাপা দিলে, সেখানে কেউ যেতে পারে না। এটা খুবই খারাপ বিষয় এবং অবশ্যই ভীষণ দুঃখজনক ঘটনা। মানুষের মধ্যে মানবিকতা থাকবে না? গুলি চলছে, চাপা দিয়ে মারা হচ্ছে কৃষকদের! অমানবিক! এসব ঘটনাকে ধিক্কার জানাই। এখন কৃষকেরা দমন করার চেষ্টা হচ্ছে। কেউ তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। কথা বলতে পারছেন না। গণতন্ত্র নেই। স্বৈরতন্ত্র চলছে। সেই কারণেই কথা বলতে দিচ্ছে না।’

ভবানীপুরের উপনির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জেতার পর সোমবার ভবানীপুরের শীতলা মন্দিরে পুজো দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সী। পুজো দেওয়ার পর পায়ে হেঁটে হরিশ মুখার্জি রোডের গুরুদ্বারে গিয়েছেন তিনি। সেখানে সকলের সঙ্গে প্রার্থনা করেন তিনি।