‘বাংলায় সংক্রমণ হার ১.৫ শতাংশ, ভবানীপুরের অনেক ওয়ার্ড কোভিডশূন্য’, উপনির্বাচনের পক্ষে সওয়াল মমতার

‘বাংলায় সংক্রমণ হার ১.৫ শতাংশ, ভবানীপুরের অনেক ওয়ার্ড কোভিডশূন্য’, উপনির্বাচনের পক্ষে সওয়াল মমতার
‘বাংলায় সংক্রমণ হার ১.৫ শতাংশ, ভবানীপুরের অনেক ওয়ার্ড কোভিডশূন্য’, উপনির্বাচনের পক্ষে সওয়াল মমতার

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলা ক্রমশ সুস্থতার পথে। এই মুহূর্তে বাংলার করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। বাড়ছে সুস্থতার হার। কমেছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এই পরিস্থিতিতে উপনির্বাচনের পক্ষে ফের সওয়াল করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে এদিনই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনেও একই আর্জি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। দিল্লিতে যখন এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক চলছে, সেই সময় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় সংক্রমণের হার ১.৫ শতাংশ। ভবানীপুরের অনেক ওয়ার্ড কোভিডশূন্য।’

ভোট করানো নিয়ে রাজ্য সরকারের মত চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তার উত্তরে রাজ্য জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যসভার ভোট এবং উপনির্বাচন করার পরিস্থিতি রয়েছে বাংলায়। সেই প্রসঙ্গ তুলে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যসভার দুটি উপনির্বাচন নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে মতামত চেয়েছিল। মুখ্যসচিব জানিয়ে দিয়েছেন, আমাদের এখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। রাজ্যসভার জন্য তৈরি। এবং ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের জন্যেও প্রস্তুত। তাছাড়া আলাদা আলাদা এলাকায় উপনির্বাচন। বাংলায় সংক্রমণের হার ১.৫ শতাংশ। এমন এলাকাও আছে যেখানে একটা কেসও নেই। যেমন, কাল কলকাতা পুরসভার রিপোর্ট দেখছিলাম, ভবানীপুরের অনেক ওয়ার্ড কোভিডশূন্য।’

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস উপনির্বাচন করানোর জন্য বললেও, এখনই রাজ্যে উপনির্বাচন চাইছে না বিজেপি। উপনির্বাচনের আগে পুরভোটের দাবি জায়িয়েছে গেরুয়া শিবির। এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী, ৬ মাসের মধ্যে উপনির্বাচন করা উচিত। বেআইনি কিছু দাবি করছি না আমরা। বিজেপি ভয় পাচ্ছে, কারণ ওরা জানে সব নির্বাচনে হারবে। ওঁরা মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে ভাষণ বন্ধ করুক।’

এদিকে আজ ভবানীপুর-সহ ৭ কেন্দ্রে দ্রুত উপনির্বাচন করানোর দাবিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল মন্তব্য করে যে, ‘আমরা নিরাশ নই, আশা নিয়ে যাচ্ছি।’ তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বক্তব্য, যে আলোচনা হয়েছে তা ফলপ্রসূ। জানা গিয়েছে যে, কমিশনের তরফে তৃণমূলের দাবি-দাওয়া শোনা হয়েছে। একই সঙ্গে পালটা কিছু সুবিধা-অসুবিধার কথাও উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে, সবশেষে আইন মেনে, যথা সময়েই উপনির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন রাজ্যের শাসক নেতৃত্ব।

সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুশীল চন্দ্র-সহ তাঁর গোটা টিমের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা করেন তৃণমূল নেতারা। বেরিয়ে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘রাজ্যে কোভিড সংক্রমণ যে তলানিতে এসে ঠেকেছে সেটা আমরা তথ্য দিয়ে বলার চেষ্টা করেছি। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে, রাজ্যের মানুষ ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন চাইছেন। এটা করতে প্রচারের জন্য যদি অল্প সময় রাখা হয়, তাতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও আপত্তি নেই।’