ত্রাণ নিয়ে কোনও বেনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ত্রাণ নিয়ে কোনও বেনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
ত্রাণ নিয়ে কোনও বেনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ‘যশ’ বা ইয়াসের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বেনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। এদিন উত্তর ২৪ পরগনায় উপকূলবর্তী এলাকাগুলি পরিদর্শন করার পর, হিজলগঞ্জে প্রশাসনিক বৈঠকে এমনি কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক আধাকারিকদের। তিনি বৈঠকে বারবার একটাই বার্তা দেন যে, কোনও মানুষ যেন ত্রাণ নিয়ে কোনোরকম অভিযোগ করতে না পারেন, সেদিকে নজর রেখেই কাজ করতে হবে।

এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াই রাজ্য সরকারের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য এই মুহূর্তে। কারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য, তা সঠিকভাবে খতিয়ে দেখে, তারপরই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, কোনোরকম ‘বঞ্চনার’ অভিযোগ ত্রাণ পাওয়া নিয়ে, তিনি এবার আর বরদাস্ত করবেন না।

এদিন গঙ্গাসাগর হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডের পাশেই তৈরি করা হয় অস্থায়ী হ্যাঙ্গার। মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছনোর পর সেখানেই প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলাশাসক পি উলগানাথন, সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা-সহ সেচ, মৎস্য এবং কৃষি দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা। এদিনের বৈঠকের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী নদী বাঁধগুলির প্রসঙ্গ আলোচনার শুরুতে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আরও শক্তভাবে বাঁধগুলিকে ঠিক করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কাঁচা মাটি দিয়ে বাঁধ করার ফলে, তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। এদিকে এই মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি করতে গিয়ে সরকারের যে পরিমান টাকা খরচ হচ্ছে, তাও বাঁধ এভাবে ভেঙ্গে যাওয়ায় জলে যাচ্ছে।

এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে মমতা বলেন, যাঁরা বাইরে আছেন, তাঁদের খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। খাবার, জল, ত্রিপল যেন সকলে পান সেদিক খেয়াল রাখতে হবে। এর পাশাপাশি তিনি নির্দেশ দেন যে, কৃষি জমিতে যে জল জমে আছে, তা পাম্প করে যেন বার করার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও ত্রাণ শিবিরে যারা আছেন, তাঁদের যাতে খাবার, জল, ওষুধের কোনও সমস্যা না হয়, সেদিকে কড়া নজর দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, সাগরের মতো দুই চব্বিশ পরগণার উপকূলবর্তী এলাকাতেই ঘূর্ণিঝড় এবং জলস্ফীতির জেরে প্রায় ১ লক্ষ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ নষ্ট হয়েছে ৪০ হাজার হেক্টর কৃষি জমি, ৭ হাজার জলাশয়৷ পাশাপাশি ১৬০০ কিলোমিটার রাস্তাও এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পথশ্রী প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হবে৷

মুখ্যমন্ত্রী এদিন এও জানান, দুয়ারে ত্রাণ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার মানুষের কাছে ত্রাণ এবং ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছে দেবে৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁদর ঘর বাড়ি, কৃষি জমি, মাছ নষ্ট হয়েছে তাঁদের জন্য দুয়ারে ত্রাণ গ্রামে গ্রামে এবং ব্লকে ব্লকে চলবে৷ ৩ থেকে ১৮ জুনের মধ্যে মানুষ এখানে এসে অভিযোগ জমা করবেন৷ এই শিবির পুরোপুরি রাজ্যের সরকারি অফিসাররা চালাবেন৷ এরপর আগামী ১৯ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত যশ বা ইয়াস পরবর্তী ক্ষতিপূরণের আবেদনগুলি খতিয়ে দেখা হবে। সবকিছু খতিয়ে দেখে, তারপরই ক্ষতিপূরণ প্রাপকদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই, ১ থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে ত্রাণ বা ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে৷

উল্লেখ্য, আমফানের সময় রাজ্য সরকারের ত্রাণ বিলি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছিল। এবার যাতে সেই ধরনের কোনও ঘটনা না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।