‘বিজেপি করা যায় না, মুকুলের চলে আসা তারই প্রমাণ’, ঘরের ছেলে ঘরে ফেরায় বললেন মমতা

‘বিজেপি করা যায় না, মুকুলের চলে আসা তারই প্রমাণ’, ঘরের ছেলে ঘরে ফেরায় বললেন মমতা
‘বিজেপি করা যায় না, মুকুলের চলে আসা তারই প্রমাণ’, ঘরের ছেলে ঘরে ফেরায় বললেন মমতা

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আবারও তৃণমূলে! প্রায় ৪ বছর পর ঘরে ফিরলেন সপুত্র মুকুল রায়। পুরনো দলে, চেনা পরিবেশে, চেনা সঙ্গীদের সঙ্গে ফের নয়া উদ্যমে রাজনৈতিক ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ার লক্ষ্যে তৃণমূলে ফিরলেন মুকুল রায়। সঙ্গে ছেলে শুভ্রাংশু রায়ও। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করলেন তাঁরা। পিতাপুত্রের একসঙ্গে তৃণমূলে ফেরায় খুশি ঘাসফুল শিবিরও। এদিন তাঁকে এবং শুভ্রাংশু রায়কে উত্তরীয় পরিয়ে, বরণ করে নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ সকাল থেকেই জল্পনা তুঙ্গে ছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই বঙ্গ রাজনীতির আনাচে-কানাচে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল, সপুত্র মুকুল রায়ের ঘরে ফেরার কথা। আজ সকাল থেকেই সেই জল্পনা চরম আকার নেয়। শুক্রবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরনো দলে যোগদান করলেন সপুত্র মুকুল রায়। মুকুল রায়ের ঘরে ফেরার পর, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘মুকুল ঘরের ছেলে, ঘরে ফিরলেন। মুকুল নিজেও মানসিক শান্তি পেল।’ আর মুকুল রায় বললেন, ‘বিজেপি থেকে বেরিয়ে খুব ভাল লাগছে। নতুন আঙিনায় এসেছি, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে। আর এটা ভেবে ভাল লাগছে, বাংলা আবার তার নিজের জায়গায় ফিরবে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন মমতা।’ মুকুল রায় আরও জানিয়েছেন যে, কেন তিনি বিজেপি ছাড়লেন? কেনই বা তৃণমূলে যোগ দিলেন ফের, সেইসব তিনি বিস্তারিতভাবে লিখিত আকারে পরে দেবেন।

দুপুরে তৃণমূল ভবনের উদ্দেশে গাড়ি নিয়ে বেরোন মুকুল রায়, সঙ্গে ছিলেন ছেলে শুভ্রাংশু রায়ও। বিকেল ৪.৪০ মিনিটে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন মুকুল, শুভ্রাংশু, অভিসেক-সহ রাজ্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মুকুল ও শুভ্রাংশুকে উত্তরীয় দিয়ে বরণ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

মুকুল রায় দলে আসায় তৃণমূল কি আরও শক্তিশালী হল? এই প্রশ্নের জবাবে নেত্রী বলেন, ‘দল ইতিমধ্যেই শক্তিশালী। ভোটে বিপুল জয় পেয়েছি। সাধারণ মানুষ সঙ্গে আছেন। মুকুল পুরনো পরিবারের ছেলে। ওকে চমকে-ধমকে এজেন্সি দেখিয়ে মুকুলের উপরে কম অত্যাচার হয়নি। মুকুল নিজেও মানসিক শান্তি পেল। শরীরটা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। মুখে বলতে পারত না। বিজেপি করা যায় না। বিজেপিতে যাঁরা আছে তাঁদের শোষণ এত বেশি। এত নির্দয়! মানুষকে মনুষ্যত্ব নিয়ে বাঁচতে দেয় না। মুকুলের চলে আসা এটাই প্রমাণ।’ এর পাশাপাশি এদিন তৃণমূল নেত্রী এও বলেন যে, মুকুল দল ছাড়লেও, কখনও দলের সম্পর্কে অসম্মানজনক কথা বলেননি। নেত্রী আরও বলেন, মুকুলের সঙ্গে যারা দল ছেড়েছিলেন, তাঁরা হয়ত ফিরতে চাইবেন, তাঁদের বিষয়ে দল পরে সিদ্ধান্ত নেবে।