ভোটে জিতবেন মমতা, বলছেন জয়! ‘জয়-বিজয় অনেক কিছু বলে, তাতে পার্টি চলে না’, পাল্টা মন্তব্য দিলীপের

ভোটে জিতবেন মমতা, বলছেন জয়! ‘জয়-বিজয় অনেক কিছু বলে, তাতে পার্টি চলে না’, পাল্টা মন্তব্য দিলীপের
ভোটে জিতবেন মমতা, বলছেন জয়! ‘জয়-বিজয় অনেক কিছু বলে, তাতে পার্টি চলে না’, পাল্টা মন্তব্য দিলীপের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ গতকালই সম্পন্ন হয়েছে ভবানীপুরের হাই-ভোল্টেজ উপনির্বাচন। গতকাল ভোট হয়েছে জঙ্গিপুর এবং সামশেরগঞ্জেও। এই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল এবং বাম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস। উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে পরাজিত হন মমতা। সংবিধান অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ট দলের হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসলেও ছয় মাসের মধ্যে মমতাকে রাজ্যের যেকোনো একটি বিধানসভা আসনে জিতে আসতে হবে। সেই মর্মেই ভবানীপুর আসনে জয়ী রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করেন। সেই আসন থেকেই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই কেন্দ্রের লড়াই তৃণমূল এবং বিজেপির উভয়ের জন্যই ‘সম্মানের লড়াই’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের অনেকেরই দাবি, এই কেন্দ্রে পাল্লা ভারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই।

এবার বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও তেমনই সুর শোনা গেল। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে কথা বললেন বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষও।

ভবানীপুরে বিজেপির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে প্রার্থী করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেম জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিজেপিকে এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে হলে, বাঙালি প্রার্থীকে দিয়েই বাংলার মানুষের মন জয় করতে হবে। এখানে অবাঙালি প্রার্থী দেওয়া একেবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, ভবানীপুরে উপনির্বাচনেও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এক অবাঙালিকে প্রার্থী করে দল ভুল করেছে। তিনি এই বিষয়ে বলেন যে, ‘ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতবেন।’

এদিকে, জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সব বক্তব্যের বিরোধিতা করে পাল্টা জবাব দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি বলেন, ‘যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তাঁরা কী বলছেন? যারা বাড়িতে বসে টুইট করেন, ফেসবুক করছেন। তাঁদের দিয়ে নির্বাচন চলে না। যাঁরা মার খান, লড়াই করে, তাঁরাই আমাদের প্রার্থীকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন। ভবানীপুরের মানুষ খুশি এমন লড়াকু প্রার্থী পেয়ে। ঘরে বসে কে কী বলছেন, কিচ্ছু যায় আসে না। জয়-বিজয় অনেক কিছু বলে, তাতে পার্টি চলে না।’

শুধু জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন। পাশাপাশি অধীর চৌধুরীকেও আক্রমণ করেছেন দিলীপ ঘোষ। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিও বলেছেন, ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই জিতবেন। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘অধীর চৌধুরী দায়িত্ব নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেতানোর। পার্টিটা ওঁদের হাতে দিয়ে দিক।’

এদিকে কালকের ভোট নিয়ে বিজেপির সব অভিযোগ ইতিমধ্যেই খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই কারণে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, ‘কমিশন যদি মমতাকে জেতানোর জন্য ভোট করে, তাহলে স্বাভাবিক অন্যদের অভিযোগ নেবে কেন? আমার উপর আক্রমণ হয়েছে। অর্জুন সিংয়ের ওপর আক্রমণ হয়েছে। সভাপতিকে পুলিশ চ্যাঙদোলা করে সরিয়ে দিচ্ছে। তাও কোনও কেস হচ্ছে না। আমার উপর ২৫ জন হামলা করল, চারজনকে ধরে ছেড়ে দেওয়া হল। কার জন্য, কে ভোট করছে বোঝা যাচ্ছে। কমিশনের দায়িত্ব ছিল মমতাকে জেতানো, বিজেপিকে আটকানো।’