‘কালারফুল’ মদন মিত্রকে হালকা মেজাজে মমতার বিশেষ পরামর্শ ‘বেশি সাজুগুজু করবে না’

‘কালারফুল’ মদন মিত্রকে হালকা মেজাজে মমতার বিশেষ পরামর্শ ‘বেশি সাজুগুজু করবে না’
‘কালারফুল’ মদন মিত্রকে হালকা মেজাজে মমতার বিশেষ পরামর্শ ‘বেশি সাজুগুজু করবে না’

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের জনপ্রিয়তা নেহাত কম নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এই মদন মিত্রই ফেসবুক লাইভ করে তৃণমূল সুপ্রিমোর রোষের মুখে পড়েছিলেন। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এদিন চেতলায় তাঁর প্রথম কর্মী সভার মঞ্চে মদন মিত্রকে ‘কালারফুল ছেলে’ বলে উল্লেখ করলেন। পাশাপাশি কামারহাটির বিধায়ককে হালকা মেজাজে পরামর্শ দিলেন, ‘বেশি সাজুগুজু করবে না।’

চলতি মাসের ৩০ তারিখ ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। এই কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দল তৃতীয়বারের জন্য বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতায় জিতলেও, এই কেন্দ্রে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন। তবে, এই মুহূর্তে তাঁকে নিজের মুখ্যমন্ত্রীর আসন ধরে রাখতে হলে, এই ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে।

তবে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় একপ্রকার নিশ্চিত। আজ শুরু হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচার। শুক্রবার মনোনয়ন জমা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন চেতলায় কর্মী সভা করে উপনির্বাচনের প্রচার শুরু করলেন তিনি। কর্মী সভার মঞ্চ থেকেই উপনির্বাচনে কার কী দায়িত্ব থাকবে? তা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন নেত্রী। উল্লেখ্য, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র আবার ভবানীপুরের পুরনো বাসিন্দা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মদন তুমি নিজের পাড়াটা ভালো করে করবে। পরশুদিন দেখছিলাম, ধুতি-পাঞ্জাবি পরে দাঁড়িয়েছিলেন। একদম ওভাবেই। কিন্তু বেশি সাজুগুজু করবে না।’ এর পাশাপাশি বলেন, ‘মদন একটু কালারফুল ছেলে। মাঝে মাঝে একটু বেশি কালারফুল হয়ে যায়। বেশি কালারফুল হলে আবার প্রবলেম হয়ে যায়।’ নেত্রীর কথা শুনে মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের মুখে তখন হাসি।

বরাবরই ‘কেতাদুরস্ত’ থাকতে ভালোবাসেন মদন মিত্র। কামারবহাটির বিধায়কের পরনে কখনও নানা রঙের পাঞ্জাবি, কখনও চোখে হলুদ সানগ্লাস শোভা পায়, আবার কখনও পায়ে দুবাইয়ের জুতো। আবার ফেসবুকে লাইভে এলে তো কথাই নেই। মদন মিত্রের ফেসবুক লাইভ মানেই ব্যাপক পরিমাণে লাইক ও কমেন্টের বন্যা। তবে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই ফেসবুক লাইভ নিয়েই দল নেত্রীর রোষের মুখে পড়েছিলেন মদন মিত্র। আবার এই ‘কালারফুল’ মদন মিত্রের সাজপোশাক দেখেই বিধানসভায় কামারহাটির বিধায়কের সঙ্গে আগবাড়িয়ে কথা বলেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। প্রশংসা করে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘তৃণমূলে একজনই হিরো’।