‘আমাকে দশটা শো-কজ করলেও কিছু যায় আসে না, উত্তর একই হবে’, হুঙ্কার তৃণমূল সুপ্রিমোর

'আমাকে দশটা শো-কজ করলেও কিছু যায় আসে না, উত্তর একই হবে', হুঙ্কার তৃণমূল সুপ্রিমোর
'আমাকে দশটা শো-কজ করলেও কিছু যায় আসে না, উত্তর একই হবে', হুঙ্কার তৃণমূল সুপ্রিমোর / নিজস্ব ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশনে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি তাঁর করা ‘সংখ্যালঘু ভোট’ কে কেন্দ্র করে করা মন্তব্য নিয়ে।

এবার নির্বাচন কমিশনে তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির নালিশ এবং তার জেরে শো-কজ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের চতুর্থ দফা ভোটের আগে আজ ডোমজুড়ের নির্বাচনী সভা থেকে দিলেন এই শো-কজ প্রসঙ্গে তাঁর স্পষ্ট জবাব।

তৃণমূল নেত্রী আজ ডোমজুড়ের সভা থেকে বললেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কেস, শো-কজ করে কোনও লাভ নেই। আমাকে দশটা শো-কজ করলেও কিছু যায় আসে না। উত্তরটা একই থাকবে।’ তিনি এও বলেন যে, ‘যতো খুশি মামলা করো। আমাদের জয় নিশ্চিত।’ এর পাশাপাশি এদিন হাওড়ার ডোমজুড়ের নির্বাচনী সভামঞ্চ থেকে তিনি ফের একবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করেছেন।’

এদিন স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, ‘নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কটা কমপ্লেন হয়েছে, তিনি যে রোজ হিন্দু-মুসলমান করেন, কটা কমপ্লেন হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে, যারা নন্দীগ্রামের মুসলিমদের পাকিস্তানি বলেছিলেন, লজ্জা করে না, গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত ওদের।’ এই বক্তব্যের রেশ টেনেই এরপর বলেন যে, ‘আমাকে দশটা শো-কজ করলেও কিছু যায় আসে না। উত্তর একই হবে। আমি সবাইকে বলছি, কোনও ভাগাভাগি হবে না, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই ভোট দিন। হিন্দু-মুসলমান-শিখ-ক্রিশ্চান সবাইকে, কেউ ওদের ভোট দেবেন না।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ না করার আর্জি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৩ এপ্রিল তারকেশ্বরের জনসভায় তাঁর বার্তা ছিল, ‘সংখ্যালঘু ভাই-বোনেদের কাছে হাতজোড় করে একটা কথা বলব, ওই শয়তান ছেলেটা বিজেপির টাকা নিয়ে বেরিয়েছে। ওর কথা শুনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করবেন না। ও সাম্প্রদায়িক কথা বলে। বিজেপি টাকা নিয়ে বেরিয়েছে যাতে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যায়। মনে রাখবেন, বিজেপি আসলে দুর্ভোগ আপনাদের বেশি, এটা মাথায় রাখবেন।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য বিজেপি। অভিযোগ করা হয় বিজেপির পক্ষ থেকে, ধর্মের ভিত্তিতে ভোট প্রচার করছেন তিনি। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মমতাকে নোটিস পাঠায় কমিশন। যে ঘটনা নিয়ে পরে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শো-কজ করা হয় তৃণমূল সুপ্রিমোকে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে। নোটিস জানানো হয়েছে, ৩ এপ্রিলের ভাষণটি খতিয়ে দেখা হয়েছে। জনপ্রতিনিধি আইনের ১২৩ (৩), ৩ (এ) ও (৪) ধারা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না এলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা নিয়ে বলতে গিয়েই বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এদিন সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ডোমজুড়ের সভার আগে শ্রীরামপুরের জনসভাতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুরের নির্বাচনী জনসভা করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানে তিনি বলেন, ‘বিজেপি দেশকে ভুলিয়ে দিচ্ছে। নরেন্দ্র মোদি নিজের নামে স্টেডিয়াম করছে। অমিত শাহ সারাক্ষণ কীভাবে দাঙ্গা, গুণ্ডামি করা যায় তাই ভাবে। তৃণমূলকে ভোট দিয়ে বিজেপিকে ব্যালট বক্স থেকে খালি করে দেবেন।’ তিনি ফের স্লোগান তোলেন, ‘বিজেপি হঠাও’। ডোমজুড়ে জনসভাতেও সেই আক্রমণের রেশ বজায় ছিল তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যে। পাশাপাশি টাকা বিলির অভিযোগও ফের একবার তোলেন তিনি।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.