সিবিআইয়ের আনা অভিযোগ আইন বিরুদ্ধ! আদালতে হলফনামা পেশ মমতার

সিবিআইয়ের আনা অভিযোগ আইন বিরুদ্ধ! আদালতে হলফনামা পেশ মমতার
সিবিআইয়ের আনা অভিযোগ আইন বিরুদ্ধ! আদালতে হলফনামা পেশ মমতার

মুখ্যমন্ত্রী নন বরং একজন সাধারন মানুষ হিসেবে ১৭ মে নিজাম প্যালেস গিয়েছিলেন তিনি। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে দেওয়া হলফনামায় এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ওই হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন যেহেতু তার দলের দুই মন্ত্রী এবং এক বিধায়ক রাজনীতিতে আসার শুরু থেকেই তার পরিচিত সেই কারণেই তিনি নিজাম প্যালেস নিয়েছিলেন।

নারদ মামলায় অভিযুক্ত ফিরহাদ হাকিম, শোভন চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায় কে গ্রেপ্তারের পরেই নিজাম প্যালেস ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে দীর্ঘক্ষন বসে থাকেন তিনি। অফিসারদের জানান তাঁকে গ্রেফতার না করা হলে তিনি সেখান থেকে কিছুতেই বেরোবেন না। এরপর এই অভিযোগ ওঠে হেভিওয়েটদের এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী নিজাম প্যালেস এর ছুটে যাওয়াই মামলা কে প্রভাবিত করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে হলফনামা চায়। বুধবার নিজাম প্যালেস উপস্থিত থেকে সেই হলফনামা জমা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিনের জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, কোন রকম প্রভাব খাটানো হয়নি। পরম একজন সাধারন মানুষ যেভাবে সিবিআইয়ের দপ্তরের বিভিন্ন নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে দিয়ে ঢুকতে পারে তিনিও ঠিক সেই একই পন্থা অবলম্বন করে নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে চেকিং করে তারপরেই ঢুকেছেন ভেতরে। এছাড়াও সিবিআই আধিকারিকরা যেমনটা বলেছেন ঠিক তেমনি নিয়ম তিনি পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন ওই হলফনামায়।

মুখ্যমন্ত্রী হলফনামায় আরো জানান, তার সঙ্গে একজন ব্যক্তিকে সিবিআই আধিকারিকরা অনুমোদন দিয়েছিল ভেতরে ঢোকার জন্য। সেই মতোই অনুমোদিত একজন ব্যক্তি তার সঙ্গে ভিতরে গিয়েছিল। এছাড়া এই মামলার শুরু থেকেই শাসক দল অভিযোগ করে এসেছে এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। দিনের হলফনামাতেও মুখ্যমন্ত্রী সেই একই অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি সিবিআই যে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে বা আদালতে যে পিটিশন দাখিল করেছে তার পুরোটাই আইনবিরুদ্ধ বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

একইসঙ্গে তিনি হলফনামায় যুক্ত করেছেন, সেদিনের বিক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানি ছিল এবং কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনায় বসে ছিলেন এই মর্মে অভিযোগ করেছিল তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমনকি সিবিআইয়ের যে অভিযোগ ছিল মুখ্যমন্ত্রী আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দান করেছেন সেই অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রবাসী কলকাতা পুলিশ এবং এই চার হেভিওয়েট সব রকম ভাবেই সিবিআই আধিকারিকদের সাহায্য করেছেন বলে হলফনামায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।