অধিকারীদের খাসতালুক কাঁথির জনসভায় নাম না করে, তাঁদেরই তুলোধোনা মমতার

অধিকারীদের খাসতালুক কাঁথির জনসভায় নাম না করে, তাঁদেরই তুলোধোনা মমতার
অধিকারীদের খাসতালুক কাঁথির জনসভায় নাম না করে, তাঁদেরই তুলোধোনা মমতার / ছবি সৌজন্যে- Screengrab from Facebook Video Posted By @MamataBanerjeeOfficial

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ শুভেন্দু অধিকারীর কথামতো এগরায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সভাতেই বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন কাঁথির বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী। উল্লেখ্য, মাস তিনেক আগে, ১৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই অমিত শাহের সভাতেই পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

আর অন্যদিকে আজ অধিকারীদের গড় পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে গিয়ে নাম না করে, তাঁদেরই একহাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার কর্মসূচির শুরুতেই কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন মমতা। তিনি শুরুতেই বলেন যে, ‘আগে কাঁথিতে আসতে অনুমতি লাগত। কাঁথি, তমলুককে নিজের জমিদারি ভাবত ওরা। এখন আমি খুশি হয়েছি। আর কোনও অনুমতি লাগে না।’

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণ শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই এগরার মঞ্চে ওঠেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ সকাল থেকেই স্পষ্ট ছিল, আজই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভামঞ্চে থাকতে চলেছেন শিশির অধিকারী এবং সেই সভামঞ্চ থেকেই বিজেপিতে যোগ দেবেন শিশির অধিকারী। কথামতোই নির্দিষ্ট সময়ে মঞ্চে পৌঁছে যান শিধির অধিকারী। তিনি সভামঞ্চে বক্তৃতাও দেন।

এদিন কাঁথির সভা থেকে ফের নাম না করে অধিকারীদের ‘গদ্দার’ বলে তোপ দাগলেন মমতা। তিনি বললেন, ‘গদ্দারদের চিনতে পারিনি। ওরা গিয়েছে, ভাল হয়েছে, না হলে আমরাই বের করে দিতাম।’ এদিন একের পর এক বাক্যবাণে অধিকারী পরিবারকে জর্জরিত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৪ সাল থেকে শুভেন্দুর বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে মমতা কটাক্ষ করে বলেন, ‘ঘরে ঢুকে সিঁদ কেটেছে।’ এদিন কাঁথির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অনেক সম্মান করতাম, ভালবাসতাম, বিশ্বাসও ছিল। আমি যদিও সবাইকেই গাধার মতো বিশ্বাস করি। পরে নিজের ভুল বুঝতে পারি। আমি ঠকে গেলেও, বিশ্বাসঘাতকদের মুখোশ খুলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা গদ্দারি করে পালিয়ে গিয়েছেন, তাঁরা কত করে নিয়েছেন জিজ্ঞাসা করুন। নরেন্দ্র মোদী, আপনার গদ্দাররা চোরের সর্দার। ওরা গেল না এল, তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আমি নিজের হাতে মা তারার ছবি এঁকে দিয়ে এসেছিলাম ওদের বাড়িতে। আর এখন ওই মীরজাফরের দল হাত ধরে বিজেপি-কে নিয়ে আসছে। এদের থেকে বড় গদ্দার আর কেউ হতে পারে না। এদের হাত থেকে মেদিনীপুরকে মুক্ত করতে হবে।’

এদিন কাঁথির জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদী সরকারকে নিশানা করে বলেন যে, ‘তোমরা আমার পা ভেঙে দিয়েছ। ভেবেছ এক পায়ে কিচ্ছু করতে পারব না। ওই এক পায়েই এমন শট মারব বাংলার বাইরে গিয়ে পড়বে।’ মোদীর বক্তব্য টেনে এনে বলেন, ‘মোদীর এত বড় সাহস, বলেছে কিনা বাংলার ডিএনএ পরীক্ষা করবে।’ এর পাশাপাশি বেকারত্বের পরিসংখ্যান দিয়ে মোদী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘ভারতবর্ষে বেকারত্ব ৪০ শতাংশ বেড়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব ৪০ শতাংশ কমেছে।’ তিনি ফের একবার উল্লেখ্য করেন যে, ‘এখন বিধবা ভাতা ১৮ বছর বয়স থেকেই মিলবে।’

এদিন ফের একবার কেন্দ্রের মোদী সরকারের বেসরকারিকরণ নীতির সমালোচনা করে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদীর মতো এত বড় ডাকাত আর কোথায় আছে?, ব্যাঙ্ক, রেল, বিএসএনএল, এয়ার ইন্ডিয়া, জীবনবিমার সবেরই বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, দিল্লিতে বিজেপির সরকার, রাবণের সরকার, দানবদের সরকার। গদ্দার, মীরজাফরের সরকার।

এদিন কাঁথির জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের একবার আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, ‘আমাকে বিশ্বাস করুন। প্রার্থী যে-ই হোন ভোটটা আমাকে দিন। কারণ সরকার আমিই গড়ব।’

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.