চূড়ান্ত অমানবিক! অসুস্থ বৃদ্ধাকে তাজপুর সৈকতে ফেলে পালাল নাতি! উদ্ধার করল পুলিশ

চূড়ান্ত অমানবিক! অসুস্থ বৃদ্ধাকে তাজপুর সৈকতে ফেলে পালাল নাতি! উদ্ধার করল পুলিশ
চূড়ান্ত অমানবিক! অসুস্থ বৃদ্ধাকে তাজপুর সৈকতে ফেলে পালাল নাতি! উদ্ধার করল পুলিশ / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশব্যাপী করোনা তার তাণ্ডবলীলা অব্যাহত রেখেছে। প্রতিদিন ঝড়ের গতিতে বাড়ছে সংক্রমণ, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। চারিদিকে শুধুই হাহাকার। কোথাও বেডের জন্য হাহাকার, প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ, অক্সিজেনের জন্য হাহাকার এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রিয়জনের প্রাণ বাঁচাতে মানুষ কী না করে চলেছেন প্রত্যেক মুহূর্তে। ক্রমাগত ছুটে চলেছেন প্রিয়জনের জন্য। হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরাও ঠিকভাবে পরিষেবা দিতে না পারায়, ভেঙে পড়ছেন মানসিকভাবে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আরও এক চূড়ান্ত অমানবিক দৃশ্য প্রকাশ্যে এল।

দেশের অতিমারি পরিস্থিতিতে যেখানে প্রিয়জনের সুস্থতা কামনা করে মানুষ বিনিদ্ররজনী যাপন করছেন, সেখানে গুরুতর অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে তাজপুর সমুদ্র সৈকতে ফেলে পালাল তাঁর নাতি। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

বৃদ্ধার এক হাতে স্যালাইনের চ্যানেল করা, মুখ থেকে লালা পড়ছে, গুরুতর অসুস্থ, কথা বলার শক্তিটুকু নেই। এই অবস্থাতেই তাঁকে ফেলে পালিয়েছে গুণধর নাতি। অভিযোগ তেমনটাই।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ওই অসুস্থ বৃদ্ধাকে কাতরাতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘক্ষণ তাঁকে ওভাবে একা পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের। তবে, ওই বৃদ্ধা করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পেরে ভেবে, সেই আতঙ্কে কেউ কাছে যেতে সাহস পাচ্ছিলেন না। অবশেষে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ এসে ওই অসুস্থ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

গোটা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানিয়েছেন যে, বৃদ্ধাকে দেখতে অনেকেই সৈকতে ভিড় করেছিলেন। কিন্তু করোনার ভয়ে কেউ কাছে যেতে চাইছিলেন না। এরপর বাধ্য হয়েই তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে পিপিই কিট পরে ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে। তিনিও পুলিশের সঙ্গে পিপিই কিট পরে উদ্ধারকাজে হাত লাগান বলে জানিয়েছেন। ওই বৃদ্ধা এই মুহূর্তে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে, তাঁর শরীর অত্যন্ত দুর্বল। আগামী কয়েকদিন তাঁর চিকিৎসা চলবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তিনি করোনা আক্রান্ত কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা করে মন্দারমণি উপকূল থানার পুলিশ। তাতে ওই বৃদ্ধা জানিয়েছেন যে, তিনি কলকাতার শ্যামবাজারের বাসিন্দা।

পুলিশকে দেওয়া বৃদ্ধার বয়ান তুলে ধরে ওই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বিকেল ৪টে নাগাদ নাতির সঙ্গে গাড়িতে চেপে তাজপুর পৌঁছন ওই বৃদ্ধা। সৈকতে তাঁকে নামিয়ে, জিনিস কেনার নাম করে গাড়ি নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান নাতি, আর ফেরেননি।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.