দুশ্চিন্তার অবসান! অবশেষে মাওবাদীদের হাত থেকে মুক্তি পেলেন অপহৃত জওয়ান রাকেশ্বর সিংহ মানহাস

দুশ্চিন্তার অবসান! অবশেষে মাওবাদীদের হাত থেকে মুক্তি পেলেন অপহৃত জওয়ান রাকেশ্বর সিংহ মানহাস
দুশ্চিন্তার অবসান! অবশেষে মাওবাদীদের হাত থেকে মুক্তি পেলেন অপহৃত জওয়ান রাকেশ্বর সিংহ মানহাস

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ পরিবারের সদস্যদের আর তাঁদের প্রিয়জনের জন্য বিনিদ্র রজনী যাপন করতে হবে না। সব দুশ্চিন্তার অবসান। অবশেষে মুক্তি পেলেন ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের হাতে বন্দি কোবরা কমান্ডো রাকেশ্বর সিংহ মানহাস। এমনটাই জানিয়েছে ছত্তিশগড় পুলিশ। আর এই মুক্তি নিশ্চিতভাবেই হাসি ফিরিয়ে দেবে ছোট্ট রাকেশ্বরের মেয়ের মুখে।

পুলিশ সূত্রে খবর, সমাজকর্মী ধর্মপাল সাইনি, গোন্দওয়ানা সম্প্রদায়ের প্রধান গেলাম বোরাইয়া এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতেই ওই অপহৃত জওয়ানকে মুক্তি দেয় মাওবাদীরা৷ রাকেশ্বরের মুক্তির জন্য মাওবাদীদের সঙ্গে আলোচনা করতে ১১ জনের একটি দল গঠন করা হয়েছিল৷ তার মধ্যে সাতজন স্থানীয় সাংবাদিকও ছিলেন৷ জানা গিয়েছে যে, মুক্তির পর ওই জওয়ানকে প্রথমে তারেমের একটি ক্যাম্পে নিয়ে এসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়৷ গত শনিবার এখানেই মাওবাদীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়৷

সিআরপিএফ-এর এক আধিকারিকের দাবি, বাইরে থেকে অন্তত ওই জওয়ানের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। রাতের দিকে তাঁকে রায়পুরে নিয়ে যাওয়া হবে৷ ওই জওয়ানের মুক্তির আগেই স্থানীয় পুলিশ কর্তারাও দাবি করেছিলেন, রাকেশ্বরের মুক্তির জন্য সবরকম চেষ্টা চলছে৷ ইতিবাচক ফলের আশাই করা হচ্ছে৷

কয়েকদিন আগে এই ছোট্ট অবোধ শিশুটি তার বাবার জন্য কান্নাভেজা গলায় কাতর আবেদন জানিয়েছিল মাওবাদীদের কাছে, তার বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। সে বোঝে না ‘মাওবাদী’ কী? সে শুধু এইটুকু বুঝতে পেরেছিল, তার বাবা কোনও বিপদে আছে। তাই তার কাতর আবেদন ছিল, যেন যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব তার বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেই কাতর আবেদনই কি শেষপর্যন্ত রাকেশ্বরের মুক্তির পথ প্রশস্ত করল? এই প্রশ্নটার উত্তর পাওয়া না গেলেও জানা গেছে, সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে অপহৃত কোবরা জওয়ান এবং তিনি মাওবাদী কবল থেকে মুক্ত। ফিরতে পারবেন পরিবারের মাঝে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শনিবার ছত্তিশগড়ে বিজাপুর এবং সুকমার মাঝে জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ২২ জওয়ানের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এই সংঘর্ষে ২৫ থেকে ৩০ মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আহত ৩২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে, সেই সংঘর্ষের পর থেকেই কোবরা জওয়ান রাকেশ্বর সিংহ মানহাস নামে ওই জওয়ানের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এরপরই, দুজন স্থানীয় সাংবাদিকের কাছে সোমবার আসে রহস্যজনক ফোন। ফোনের ওপার থেকে বলা হয়, সিআরপিএফ-এর কমান্ডোকে বন্দি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর সেই কমান্ডোকে নিয়ে গিয়েছে তাঁরা। এই খবর স্ত্রীয়ের কাছে পৌঁছাতেই, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে চিঠি দিয়ে, স্বামীকে ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন।

এরপর বাবাকে ফিরে পেতে কান্নাকাটি শুরু করে সিআরপিএফ জওয়ানের ছোট্ট মেয়ে। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কান্নাভেজা গলায় তার কাতর আবেদন ছিল, ‘মাওবাদী কাকু দয়া করে আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিন। পাপার পরী পাপাকে খুব মিস করছে। আমি পাপাকে খুব ভালবাসি। প্লিজ নকশাল আঙ্কল, আমার পাপাকে ঘরে পাঠিয়ে দাও’। কোবরা জওয়ানের মুক্তির পর এখন সেই প্রশ্নই উঠছে, তাহলে কি শ্রাঘবীর কাতর আবেদনই মন ভিজিয়ে দিল মাওবাদীদের।

উল্লেখ্য, গত সোমবার হঠাৎই একটি রহস্যময় নম্বর থেকে ফোন পান এক সাংবাদিক৷ তাঁকেই জানানো হয়েছিল রাকেশ্বর মাওবাদীদের হেফাজতে রয়েছেন৷ তাঁকে দু’- তিনদিনের মধ্যেই মুক্তি দেওয়া হবে৷

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত চার বছরে ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত বস্তার ও সুকমা অঞ্চলে বেড়েছে কোবরা বাহিনীর ক্যাম্পের সংখ্যা। ঘন জঙ্গলের ভিতরে প্রায় ৬০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ধীরে ধীরে নিজেদের দখলে নিয়েছে কোবরা বাহিনী। আর এই কারণেই ওই এলাকা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় মাওবাদীরা।