গান স্যালুট আর চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন মণিপুরে শহিদ ভারতের বীর জওয়ান শ্যামল দাস

গান স্যালুট আর চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন মণিপুরে শহিদ ভারতের বীর জওয়ান শ্যামল দাস
গান স্যালুট আর চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন মণিপুরে শহিদ ভারতের বীর জওয়ান শ্যামল দাস

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন, মণিপুরে শহিদ জওয়ান শ্যামল দাস। সোমবার পড়ন্ত বেলায় গান স্যালুটে শেষ বিদায় জানানো হয় দেশের বীর সন্তানকে।

সোমবার সকাল ১০টা ১০ নাগাদ বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে পানাগড় সেনা ছাউনিতে এসে পৌঁছয় তাঁর দেহ। এরপর সোমবার দুপুরে পানাগড় সেনা ঘাঁটি থেকে শহিদ শ্যামল দাসের নিথর দেহ এসে পৌঁছায় মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের কীর্তিপুর গ্রামে। তাঁকে একবার শেষবারের জন্য দেখতে, সকাল থেকেই তাঁর বাড়িতে ভিড় করেছিলেন স্থানীয় মানুষজন।

গান স্যালুট আর চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন মণিপুরে শহিদ ভারতের বীর জওয়ান শ্যামল দাস
গান স্যালুট আর চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন মণিপুরে শহিদ ভারতের বীর জওয়ান শ্যামল দাস

পরিবারের একমাত্র রোজগেরে শ্যামল অতি সম্প্রতি গ্রামে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। সেই বাড়িতেই এদিন আনা হয় তাঁর কফিনবন্দি নশ্বর দেহ। এদিন শ্যামল দাসের দেহ এসে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শ্যামলের স্ত্রী সূপর্ণা ও পরিবারের লোকজন। কফিন খুলে পরিবারের লোকজনকে দেখানো হয় শ্যামলের দেহ। বাবার কফিনবন্দি দেখে স্তম্ভিত শ্যামল দাসে ছোট্ট মেয়ে দিয়া।

মৃত স্বামীর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর, এদিন তাঁর দেহ এসে পৌঁছাতেই, মৃত স্বামীর কফিনের উপরে আছড়ে পড়েন স্ত্রী সূপর্ণা। শেষবারের মতো স্বামীর মুখটা ভালোভাবে দেখতে পাননি বলে আক্ষেপ করলেন সূপর্ণা। বললেন, ‘মাথার উপর ছাদ ভেঙে পড়ল। কখনও কোনও অভাব রাখেনি ও। যারা আমার স্বামীর এই অবস্থা করেছে তাদের যেন শাস্তি হয়।’

গান স্যালুট আর চোখের জলে শেষ বিদায় নিলেন মণিপুরে শহিদ ভারতের বীর জওয়ান শ্যামল দাস

অন্যদিকে, ভিড়ের মধ্যে ছেলেকে ভালোভাবে দেখতে পাননি বলে অভিযোগ করলেন শহিদ সেনানি শ্যামল দাসের মা। বললেন, কফিনের ডালা খুলে দিয়েছিল। কিন্তু ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। বাড়িতে মিনিট পনেরো রাখার পর সেখান থেকে তা নিয়ে, যাওয়া হয় গান স্যালুট পয়েন্টে। সেখানে ছিলেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি থেকে শুরু করে এলাকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। ছিলেন সেনাবাহিনীর জওয়ানরা। এখানেই শ্যামল দাসের দেহ আধঘণ্টার মতো শায়িত রাখা হয়। গান স্যালুটে জানানো হয় শেষ শ্রদ্ধা। গ্রাম জুড়ে তখন একটাই শব্দ ভাসছিল, ‘শ্যামল দাস অমর রহে।’

এদিকে, আত্মীয়-সহ পরিবারের লোকজনের সবারই একটাই দাবি, শহিদ শ্যামলের জন্য কিছু প্রতিশ্রুতি দিক সরকার। শ্যামল দাসের মা বলেন, ‘ছেলে তো চলে গেল। এখন বৌমা-নাতনির চলবে কী করে। ওর কিছু না হলে, আমাদের জন্য ও কিছু করতে পারবে না।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শনিবার মণিপুরে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় আসাম রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার বিপ্লব ত্রিপাঠীর৷ তাঁর সঙ্গে শ্যামল দাস-সহ চার জওয়ানও শহীদ হন। মৃত্যু হয় কর্নেল ত্রিপাঠীর স্ত্রী এবং ছেলেরও। ২০০৯ সালের নভেম্বরে অসম রাইফেলসে যোগ দিয়েছিলেন শ্যামল। দুর্গাপুজোর আগে গ্রামেও ফিরেছিলেন তিনি।