বিধ্বংসী আগুনে ভস্মীভূত বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির! মৃত ৭

বিধ্বংসী আগুনে ভস্মীভূত বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির! মৃত ৭
বিধ্বংসী আগুনে ভস্মীভূত বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির! মৃত ৭

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিশ্বের সবথেকে বড় শরণার্থী শিবিরে বিধ্বংসী আগুন। মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে গেল রোহিঙ্গাদের শেষ সহায় সম্বলটুকুও। বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালিতে ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকেলে।

এই ঘটনার জেরে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি ঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ঘরছাড়া হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এদিকে এই আগুন থেকে প্রাণে বাঁচতে ছোটাছুটির মধ্যে ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রশাসনের এক আধিকারিক।

এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন এক মহিলা, দুই শিশু, চার বৃদ্ধ রয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। যদিও বাংলাদেশের প্রশাসনের পক্ষ থেকে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি।

এদিকে শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প যে এই আগুনে পুড়েছে তা নয়। অনেক দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিও অফিস ও পুলিশ ব্যারাকও পুড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮ নম্বর শিবিরের একটি ঘরে প্রথম আগুন লাগে। সেখান থেকে আশপাশের শিবিরগুলিতেও ছড়িয়ে পড়ে আগুন। আগুন লাগার খবর পেয়েই, ছুটে আসে দমকল বাহিনী। দমকলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উদ্ধারের কাজে সাহায্য করেছেন সেনাবাহিনীর জওয়ান, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও। প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে সকলের মিলিত চেষ্টার পর, রাতের দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আগুনে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সবচেয়ে বড় মার্কেট বালুখালি বলিবাজারে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সিলিন্ডার থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ জানা না গেলেও, অতিরিক্ত হাওয়ার কারণে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী ৯ ও ১০ নম্বর ক্যাম্পে।

জানা গিয়েছে, ৮ নম্বর শিবিরের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অন্য ক্যাম্পে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে প্রশাসন। সেখানে তাঁদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই এলাকায় শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের ঘরগুলি গায়ে গায়ে লাগানো। খুব কম জায়গায় বহু মানুষের বাস একত্রে। এমন জায়গায় একবার আগুন লাগলে, তা যে ভয়াবহ আকার নেবে, তা বলাই বাহুল্য। আর বাস্তবেও সেটাই হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরে আগুন ছড়াতে সময় লাগেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালেও বেশ কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মোট ৩৪টি শিবির রয়েছে। সমুদ্র তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সেই রোহিঙ্গা শিবির। মায়ানমার ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের এই কক্সবাজারেই পরিবার-সহ আশ্রয় নিয়েছিল, সামান্য কিছু সহায়-সম্বল আঁকড়ে। এবার সেটাও আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে গেল।

এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে বাংলাদেশ প্রশাসন। আর এইবার এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সেই অস্বস্তি আরও চতুর্গুণ যে বাড়ল, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই, সঙ্গে বিপত্তিও।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.