ঝুড়ি ভর্তি টাকা, গুনতে লেগেছে তিন ঘণ্টারও বেশি! তা নিয়েই ভাগ্নের বিয়েতে হাজির তিন মামা

ঝুড়ি ভর্তি টাকা, গুনতে লেগেছে তিন ঘণ্টারও বেশি! তা নিয়েই ভাগ্নের বিয়েতে হাজির তিন মামা
ঝুড়ি ভর্তি টাকা, গুনতে লেগেছে তিন ঘণ্টারও বেশি! তা নিয়েই ভাগ্নের বিয়েতে হাজির তিন মামা

বিশালকার দুই ঝুড়ি। ঝুড়িতে ভর্তি ১০ টাকার নোটে প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজারের মতো টাকা। আর সেই ঝুড়ি নিয়েই ভাগ্নের বিয়েতে হাজির তিন ব্যক্তি। উপলক্ষ্য একটাই, বিয়ের সময় আয়োজিত বিশেষ মায়রা অনুষ্ঠান। সেখানেই নাকি লাগবে এই টাকা। যা গুনতে সময় লেগেছে প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি! আর সেই বিপুল পরিমাণ টাকা সঙ্গে নিয়েই মায়রা ভরার অনুষ্ঠানে এসে পৌঁছেছেন ওই তিন মামা। চাঞ্চল্যকর এই কাণ্ডটি ঘটেছে রাজস্থানের নাগাউর জেলার। যা নিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরদার চর্চা।

রাজস্থানের নাগাউর জেলা মায়রা অনুষ্ঠানের জন্য খুবই প্রসিদ্ধ। ভাগ্নে এবং ভাগ্নির বিয়েতে মামা তাঁর বোনের মায়রা ভরেন। বহুদিন ধরেই এই পরম্পরা চলে আসছে। ভাগ্নে বা ভাগ্নির বিয়ের সময় মামারা যখন বোনের মায়রা ভরেন, তখন অনুষ্ঠানে হাজির মহিলারা লোকগীতি করেন। ঠিক সেই প্রথা মেনেই নাগাউর জেলার দেশবাল গ্রামের বাসিন্দা সিপু দেবীর তিন ভাই তাঁকে দিয়েছেন ওই ঝুড়ি ভর্তি টাকা। রবিবার রাতে সিপু দেবীর ছেলে হিম্মতরামের বিয়েতে ওই টাকা দিয়েই ভরা হয়েছে মায়রা।

বোন সিপু দেবীর জন্য প্রায় ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকার মায়রা ভরেছেন ডোগানার নিবাসী রামনিবাস জাট, কানারাম জাট এবং শোতানরাম জাট। বোনের মায়রা ভরার জন্য প্রায় আড়াই বছর ধরে টাকা জমানো শুরু করেছিল ওই তিন কৃষক। দুই ঝুড়ি ভর্তি করে তা নিয়েই ভাগ্নে হিম্মতরামের বিয়েতে হাজির হয়েছিলেন তিন মামা। তাঁরা আসা মাত্রই সকলে মায়রাতে কত টাকা ভরা হচ্ছে তা জানার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরে ৮ জন মিলে প্রায় ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সেই টাকা গুনে দেখেন ঝুড়িতে প্রায় ৬ লাখের বেশি টাকা রয়েছে। তা দিয়েই সিপু দেবীর জন্য মায়রা ভরা হয়।

কিন্তু এই মায়রা অনুষ্ঠানটি কী? কথিত রয়েছে, অতীতে মুঘল শাসনের সময় রাজস্থানের ধর্মরাম জাট এবং গোপালরাম জাট বাদশাদের জন্য কর সংগ্রহ করে দিল্লির দরবারে গিয়ে জমা করার কাজ করতেন। একবার তাঁরা কর সংগ্রহ করে তা জমা করতে দিল্লি যাচ্ছিলেন। তখন রাস্তায় এক লিছমা গুজরি মহিলার সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। সেই মহিলা ক্রমাগত কেঁদে যাচ্ছিলেন। কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি কাঁদতে কাঁদতে জানান যে তাঁর কোনও ভাই নেই। তাই তাঁর সন্তানের বিয়েতে কে তাঁর মায়রা ভরবে, এই ভেবেই তিনি আক্ষেপ করছেন। এই কথা শুনে ধর্মরাম এবং গোপালরাম কর সংগ্রহের সব টাকা দিয়ে ওই মহিলার মায়রা ভরেন। যদিও এ কথা জানতে পেরে তাঁদের উদারতার জন্য বাদশা কোনই শাস্তি দেননি দুজনকে।