সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা ও বিরোধীদের চাপে অবশেষে লখিমপুর কাণ্ডে গ্রেফতার মন্ত্রী-পুত্র আশিস

সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা ও বিরোধীদের চাপে অবশেষে লখিমপুর কাণ্ডে গ্রেফতার মন্ত্রী-পুত্র আশিস
সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা ও বিরোধীদের চাপে অবশেষে লখিমপুর কাণ্ডে গ্রেফতার মন্ত্রী-পুত্র আশিস

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর-খেরিতে গত রবিবার কৃষক বিক্ষোভ চলাকালীন গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয় রবিবার। এরপরেই এই ঘটনাকে ঘিরে রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে লখিমপুর খেরি। অশান্তির মাঝে পড়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। এই ঘটনায় নাম জড়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্রের। এই ঘটনায় সারা দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠলে হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে সুপ্রিম কোর্ট।

গতকালই উত্তরপ্রদেশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের দফতরে পৌঁছে হাজিরা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মন্ত্রী ছেলে আশিস মিশ্র। এরপর দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের শেষে গ্রেফতার হলেন লখিমপুর খেরিতে গাড়ির চাকায় কৃষকদের পিষে মারার অভিযোগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্র।

লখিমপুর কাণ্ডের পর থেকেই আশিস মিশ্রকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী উঠছিল বিরোধী সব রাজনৈতিক শিবির এবং কৃষকদের পক্ষ থেকে। বিভিন্ন মহল থেকেও আশিস মিশ্রকে মন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর দাবীও উঠছিল। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দাবী ছিল, শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করা যায় না। পাশাপাশি মন্ত্রী অজয় মিশ্রও জানান যে, তাঁর ছেলে ঘটনাস্থলে ছিল না। এরপরই এক ভিডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় যে, আশিস মিশ্রের গাড়ি সেখানে ছিল। এরপরই তাঁর গ্রেফতারের দাবী আরও জোরালো হয়।

সুপ্রিম কোর্টও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে এবং প্রথম দিনের শুনানিতেই স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় যে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের ভূমিকায় মোটেও সন্তুষ্ট নয় দেশের শীর্ষ আদালত। কৃষক মৃত্যুতে আশিস মিশ্রের নাম উঠলেও, কেন এবং কীভাবে মন্ত্রী-পুত্র তদন্তের ঘেরাটোপে আসছেন না, সে নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছিল। চাপে পড়ে অভিযুক্ত আশিস মিশ্রকে গ্রেফতারির জন্য পরোয়ানা জারি করে পুলিশ। ৯ সদস্যের একটি টিম গড়া হয় পুলিশের তরফে। আদালতের তরফেও সমন পাঠানো হয় আশিসকে। তবে, সমন পেয়েও শুক্রবার হাজির হয়নি আশিস। তারপর তাঁর বাড়িতে গিয়ে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়ে নোটিস দেওয়া হয়।

আদালতে শুনানিতে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে, ‘লখিমপুর কাণ্ডে আটজনের মৃত্যুর পরেও, যোগী সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। এই ভূমিকায় একেবারেই খুশি নয় আদালত।’ লখিমপুর কাণ্ডে তদন্তকারী অফিসারদের সরিয়ে নতুন অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে যে, মূল অভিযুক্ত কোনও সাধারণ মানুষ হলেও কি পুলিশ এই একই ধরনের ব্যবহার তাঁর সঙ্গেও?

সুপ্রিম কোর্টে উত্তরপ্রদেশ সরকারের হয়ে সওয়াল করেন প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেল হরিশ সালভে৷ তিনি আদালতে যুক্তি দেন যে, মৃত কৃষকদের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শরীরে কোনও গুলি লাগার প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷ সেই কারণেই প্রধান অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও পদক্ষেপ না করে, তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

এই যুক্তি শোনার পর প্রধান বিচারপতি তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করে যে, ‘কেন খুনের মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ? আমরা দায়িত্ববান পুলিশ ও দায়িত্ববান প্রশাসন দেখতে চাই। খুনের মামলায় ৩০২ ধারায় মামলা রুজু হলে অভিযুক্তের সঙ্গে পুলিশ কি ধরনের ব্যবহার করে? আর এক্ষেত্রে কি ব্যবহার করা হয়েছে?’

পুলিশের পক্ষ থেকে কোর্টে শুক্রবারই জানানো হয়েছিল যে, শনিবার বেলা ১১ টায় হাজিরা দেবেন অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর ছেলে। আদিত্যনাথের সরকারের পক্ষ থেকেও একই কথা জানানো হয় আদালতে। তা না হলে, আশিস মিশ্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই যুক্তি শোনার পরই আগামী ২০ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে সুপ্রিম কোর্ট৷ ততদিন পর্যন্ত সমস্ত তথ্য প্রমাণ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয় আদালতের তরফে। এরপরই শনিবার সকালে নির্দিষ্ট সময়ে হাজিরা দেন আশিস মিশ্র।

শনিবার দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মন্ত্রী-পুত্রকে। ১২ ঘণ্টা জেরার পর গ্রেফতার করা হল আশিস মিশ্রকে। জানা গিয়েছে, তাঁকে মোট ৩২টি প্রশ্ন করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২, ১৪৭ ও ১৪৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসআইটি প্রধান উপেন্দ্র অগ্রবাল জানিয়েছেন যে, আশিস মিশ্র তদন্তে সহযোগিতা করেননি। সেজন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার অর্থাৎ আজ তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।