৬ বছরের ছেলের জীবন বাঁচাতে চিতাবাঘের পিছু নিলেন মা! তারপর?

৬ বছরের ছেলের জীবন বাঁচাতে চিতাবাঘের পিছু নিলেন মা! তারপর?
৬ বছরের ছেলের জীবন বাঁচাতে চিতাবাঘের পিছু নিলেন মা! তারপর?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ উনি যে ‘মা’। সাক্ষাৎ ঈশ্বরের রূপ। সন্তানের জন্য তিনি পারেন না এমন কোনও কাজ নেই। সন্তানের ভালোর জন্য মা যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা রাখেন। সন্তান সবথেকে নিরাপদবোধ করে মায়ের কাছেই। সন্তানের সবথেকে বড় ভরসা তিনি। সন্তানও জানে, যাই ঘটে যাক পৃথিবীতে মা কখনই তাঁকে একা ছড়াবেন না।

আর এসব বইয়ের বা সিনেমার ডায়লগ নয়, বাস্তবেও মা যে এরকমই হন তাই আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন এক মা। এবার আসল ঘটনায় আসা যাক। মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলায় এক মা তার মাত্র ৬ বছরের পুত্র সন্তানকে ফিরিয়ে আনলেন ক্ষুধার্ত চিতাবাঘের মুখ থেকে। একটি চিতাবাঘ ৬ বছরের ওই নাবালককে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। আর সেটা মা টের পেতেই চিতাবাঘটির পিছু নেয়। প্রায় ১ কিলোমিটার ধাওয়া করে চিতাবাঘের থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে ফিরে আসে মা। কিন্তু চিতাবাঘের সঙ্গে ছেলের প্রাণ রক্ষার লড়াইয়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন মা ও সন্তান দুজনেই।

২৮ নভেম্বর, কুসমী ব্লকের সঞ্জয় টাইগার বাফার জোনে ঘটনাটি ঘটে। এই বাফার জোনে টমসার রেঞ্জের বাড়িঝারিয়া গ্রামে চারদিক জঙ্গলে ঘেরা আবার পাহাড়ি এলাকাও রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা সাতটার সময় কিরণ বেগা নিজের বাচ্চার সঙ্গে কাজ করছিলেন৷ তাঁর স্বামী শঙ্কর বেগা কোনও কাজের জন্য বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন৷ কিরণের কোলে শিশু বসেছিল৷ তখনই পিছন থেকে চিতাবাঘ এসে বাচ্চাটিকে নিয়ে যায়।

মা তাঁর নিজের বয়ানেই জানিয়েছেন ঠিক কীভাবে তিনি শিশুটিকে বাঁচিয়েছেন৷ দেখে নিন সেই ভিডিও৷ এই ঘটনার  পর , কিরণ মিডিয়ায় বলেন তিনি চিতাবাঘটিকে দেখতে পেয়েছিলেন বাচ্চাটিকে উঠিয়ে নেওয়ার সময়৷ তাই  উনি দ্রুত ওই চিতাবাঘটির পিছনে দৌড়তে থাকেন। প্রায় ১ কিলোমিটার অবধি তিনি ওই  চিতাবাঘের পিছু করেন৷  তিনি দেখতে পান তাঁর ৬ বছরের ছেলেকে চিতাবাঘটি নিজের থাবায় ধরে নিয়েছে৷ এইটা দেখে তিনি ডান্ডা ও অন্য জিনিস দিয়ে চিতাটিকে মারতে থাকেন। ধীরে ধীরে বাচ্চাটিকে চিতাবাঘ ছাড়তে শুরু করে৷ এরপর বাচ্চাটিকে ছেড়ে চিতাবাঘটি মহিলাটিকে আক্রমণ করে৷ মহিলা তার থাবা নিজের হাত দিয়ে ঠেলে ফেলে দেয় ৷ এই চিৎকার শুনে গ্রামের অন্য লোকরা সকলে ছুটে আসে, তখনই চিতাবাঘটি দৌড়ে ফের জঙ্গলে ঢুকে যায়৷

এদিকে, বাচ্চাটিকে বাঁচানোর পর মহিলা অজ্ঞান হয়ে যা৷ন ঘটনার বিষয়ে সঞ্জয় টাইগার রিজার্ভকে জানানো হয়৷ বনবিভাগ টমসার রেঞ্জের দল দ্রুত পাঠিয়ে দেয়৷ সমস্ত আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালে পাঠানো হয়৷ চিতাবাঘের হামলায় শিশুর গলায়, পিঠে, বাঁ চোখে ক্ষতি হয়েছে৷ অন্যদিকে কিরণের শরীরে নখের দাগ রয়েছে৷